গাজায় ‘মানবিক যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) গাজায় 'মানবিক যুদ্ধবিরতির' আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। গাজা যুদ্ধে জাতিসংঘের প্রথম প্রতিক্রিয়া এটি।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কানাডার একটি সংশোধনী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ১২০-১৪ ভোটে জাতিসংঘে গৃহীত হয়। ৪৫ সদস্য রাষ্ট্র এদিন অনুপস্থিত ছিল। এই প্রস্তাবে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা করা হয়েছে এবং হামাসের হাতে জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘে নিয়োজিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ে 'আরো সাহসী, আরো নীতিগত' বলে অভিহিত করেছেন। গত দুই সপ্তাহে এখন পর্যন্ত চারবার কোনো প্রস্তাবে সম্মত হতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। দুইবার ভেটো দেওয়া হয়েছে এবং দুইবার প্রয়োজনীয় ৯ ভোট পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এই প্রস্তাবকে 'একটি কুখ্যাত দিন' বলে অভিহিত করেছেন। ভোটের পরে তিনি বলেন, 'হামাসের সন্ত্রাসী সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল অভিযান বন্ধ করবে না। … এবং হামাসকে ধ্বংস করার একমাত্র উপায় হল তাদের সুড়ঙ্গ এবং ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসের শহর থেকে তাদের উৎখাত করা।'
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া আদায়ে নিরাপত্তা পরিষদে সাফল্য না পেয়ে সাধারণ পরিষদে-যেখানে ভেটোর বিষয় নেই- প্রস্তাব পেশ করে আরব দেশগুলো। প্রস্তুাব গৃৃহীত হওয়ার পর স্বস্তির কথা জানিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের আরব প্রতিনিধি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত লানা নুসেইবাহ।
তিনি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবেশে ১২০টি ভোট আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
প্রস্তাবের বিপরীতে ভোট দেওয়া দেশগুলো হলো- ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পাঁচটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র। আটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস ডি রিভেয়েরে বলেন, তার দেশ এই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার কারণ 'বেসামরিকদের দুর্ভোগের ন্যায্যতা' কোনো কিছু দিয়েই হতে পারে না। গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর ভোট নিরাপত্তা পরিষদেও প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ক্ষেত্রে অথবা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে সাহায্য করবে।
