আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে 'ফাঁদে পা দিয়েছেন'—এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, 'আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না।'
সম্প্রতি যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে বলে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়, ট্রাম্প নাকি নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
গত বুধবার প্রকাশিত পডকাস্ট 'পড ফোর্স ওয়ান'-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তিন মাস আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তাকে সুকৌশলে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, 'আমি নিজেই এটি শুরু করেছি।'
ট্রাম্প বলেন, 'যুদ্ধ শুরু করেছি আমি নিজেই। কারণ আমরা ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না। আমি না থাকলে আজ ইসরায়েল থাকত না।'
সাক্ষাৎকারে তাকে সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওই ফোনালাপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের খবর সত্য কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
পডকাস্টটির সঞ্চালক মিরান্ডা ডিভাইন বলেন, 'অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আপনার একটি ফোনালাপ হয়েছিল, যেখানে আপনি তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।' এরপর তিনি প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
ডিভাইন প্রশ্ন করেন, 'আপনি কি তাকে বলেছিলেন— তুমি কি উন্মাদ হয়ে গেছ?, তুমি কী করছ?, আমি তোমাকে জেলে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছি? সত্যিই কি আপনি এমন ভাষায় কথা বলেছিলেন?'
জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'হ্যাঁ, কথা হয়েছিল। তবে আমি এটাকে রাগ বলাটা ঠিক মনে করি না। লেবাননের সঙ্গে তার অব্যাহত সংঘর্ষে আমি কিছুটা বিরক্ত ছিলাম। একপর্যায়ে আমি বলেছিলাম, বিবি তোমাকে এটা বন্ধ করতে হবে। তোমাকে এটা থামাতেই হবে।'
তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো।
ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে খুবই পছন্দ করি এবং তার সঙ্গে সব সময় ভালোভাবেই কাজ করেছি।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলেও মনে হচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তা অবশ্যই লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে হবে। তবে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান চাইলে ভবিষ্যতে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।
তিনি বলেন, 'আমাকে বলতে হয়েছিল যে ইরানকে নিয়ে কিছু একটা করতে হবে। অর্থনীতিতে আমরা যতই ভালো করি না কেন, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যায় না। তারা ইতোমধ্যেই সম্মত হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।'
বুধবার ইরানের একটি ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই দিনে বাহরাইনও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরাইনকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য 'সরাসরি ও স্পষ্টভাবে দায়ী' বলেও উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে আগে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবর 'ভুল'। তার ভাষ্য, আলোচনা এখনো চলছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই তেহরানের আলোচক ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে না।
ট্রাম্প বলেন, 'তারা এখন চাইলে মত বদলাতে পারে। কিন্তু যেসব বিষয়ে তাদের সম্মত হতে হয়েছে, এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।'
তিনি আরও জানান, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তার অনুমোদন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে কোনো একসময় তিনি সম্ভবত মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎও করবেন।
