বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের কোভিড ব্যবস্থাপনা
কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় একই রকম ব্যবস্থাপনা মেনে চলছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।
একমাত্র পার্থক্য হলো- অধিক ঝুঁকিতে থাকা মার্কিন রোগীদের কৃত্রিম অ্যান্টিবডি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে উচ্চ দামের কারণে বাংলাদেশে এধরনের ওষুধের ব্যবহার একেবারেই ন্যূনতম পর্যায়ে। "নন-আইসিইউ বেজড কোভিড-১৯ কেস ম্যানেজমেন্ট" শীর্ষক এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে চিকিৎসকরা একথা বলেছেন। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা- ইউএসএইডের সহায়তায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ওয়েবিনার আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর। এর মাধ্যমে কোভিড কেস ব্যবস্থাপনায় সেরা চিকিৎসা পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দুই পর্বের ওয়েবিনার সিরিজের মধ্যে প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ)।
এতে অংশ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ইন্টারনাল মেডিসিন হসপিটাল বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর ডা. ক্রিস্টোফার এ. স্মিথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলো- রেমডিসিভির, ডেক্সামেথাসোন, টক্সিলজুমাব ও ব্যারিক্টিনিব এর মতো ওষুধ সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করে। এমন রোগীর চিকিৎসায় মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ব্যবহার করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কাছে এদেশে প্লাজমা থেরাপির বিষয়েও জানতে চান।
তার উত্তরে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোতালেবুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একারণেই, ঢাকা মেডিকেলে নিয়মিতভাবে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয় না।
কোনো রোগীর স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতির দিকে গেলে শুধুমাত্র তখনই এটি দেওয়া হয়, বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশেও কোভিড পরবর্তী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন রোগীরা। তাই এধরনের রোগীর তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে, অভিমত প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা।
ওয়েবিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, কোভিড অতিমারির শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশকে মার্কিন সরকার ১০০টি ভেন্টিলেটর অনুদান দিয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বের ওয়েবিনারের প্রতিপাদ্য হবে আইসিইউ ভিত্তিক কোভিড রোগী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
