‘বহু বছর ধরে আমেরিকার কাছ থেকে ফায়দা তুলেছে ভারত, এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে’: ট্রাম্প
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে 'ভালো বন্ধু' বলে উল্লেখ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে 'ফায়দা তুলেছে'; তবে পরিস্থিতি এখন উল্টো হয়ে গেছে। তবে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি খুব দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সই করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিহস্পতিবারর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির অনুচিত সুবিধা নিচ্ছিল ভারত। তবে এখন পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে [মোদি] আমি খুব পছন্দ করি। উনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের বোঝাপড়াও দারুণ। আমাদের সম্পর্কও ভালো।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'বহু বছর ধরে আমেরিকার কাছ থেকে ফায়দা তুলেছে ভারত। তারা আমাদের পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপাত, নিজেরা কিছুই দিত না। এখন অবশ্য পরিস্থিতি উল্টে গেছে। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করে এখন প্রচুর লাভ হচ্ছে আমাদের। তবে আমরা খুব একটা চুক্তিতে পৌঁছাব।'
উভয় পক্ষ যখন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাণিজ্যিক সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করছে, সেই মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন।
১ থেকে ৪ জুন নয়াদিল্লিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চার দিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ হয়েছে। ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) প্রধান মধ্যস্থতাকারীর নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পণ্য বাণিজ্য, শুল্ক-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, অশুল্ক বাধা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো একাধিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠককে অত্যন্ত 'ইতিবাচক' ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে দুই পক্ষ। জানানো হয়েছে, দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে, এমন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি একটি বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়েও সমান্তরালভাবে আলোচনা এগোচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর জানিয়েছেন, আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাতেগোনা কয়েকটি বিষয় মাত্র বাকি রয়েছে। একই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালও। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অধিকাংশ বিষয়েরই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। চুক্তির প্রথম ধাপটি প্রকাশ্যে আনার আগে এখন শুধু শেষ মুহূর্তের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
তবে বাণিজ্য আলোচনা এগোলেও একটি বড় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ভারতসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি ১২.৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এর পাশাপাশি ইউএসটিআরের একটি পৃথক প্রস্তাব এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ৬০টি দেশের ওপর একটি বিশেষ সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ এ ধরনের পণ্য আমদানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হতে পারে। আর যারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এই পর্যালোচনার তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, বাধ্যতামূলক শ্রমের সঙ্গে জড়িত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে যেসব দেশ উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তারা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।
