ইউক্রেনের কাউন্টার অফেনসিভ চালানো যাবে আর মাত্র ৩০ দিন! মার্কিন আর্মি চিফ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালানোর জন্য ইউক্রেনের হাতে আর মাত্র ৩০ দিন বা তার চেয়ে সামান্য বেশি সময় আছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলছেন, এরপর আবহাওয়ার বাধার কারণে কিয়েভের সৈন্যরা আর পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারবেন না।
রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মার্ক মিলি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় ইউক্রেনের জন্য রণকৌশল সাজানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। শীতের সময়ে যুদ্ধযান, ভারী ট্যাংকসহ অন্যান্য অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি পরিবহন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মার্ক মিলি স্বীকার করেন যে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীরগতিতে হয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ইউক্রেনের পক্ষে কৌশল অবলম্বন করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন মিলি। তবে তিনি এ-ও বলেন যে, 'এখনও প্রচণ্ড লড়াই চলছে।
'ধীরগতিতে হলেও, ইউক্রেনীয়রা এখনও এগিয়ে যাচ্ছে।'
জেনারেল মিলি বলেন, পাল্টা আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে—এমনটাও বলা যাবে না। এমন সিদ্ধান্ত পৌঁছার সময় এখনও আসেনি। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী 'এখনও ধীর কিন্তু ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার সৈন্যদের পিছু হটতে বাধ্য করছে।'
তিনি বলেন, 'এখনও হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় আছে। সম্ভবত ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় এখনও আছে শীত আসার। তাই ইউক্রেনীয়দের আশা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
'যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি…তারা (ইউক্রেনীয়রা) এখনও সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি, যা এত দিন ধরে অর্জনের চেষ্টা করে আসছে।'
কিয়েভের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয় গ্রীষ্মে। প্রায় তিন মাস ধরে চলছে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা। এর লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো মুক্ত করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই লক্ষ্য সামান্যই অর্জিত হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের জেনারেলরা দাবি করেছেন যে তারা দক্ষিণে রাশিয়ার শক্তিশালী প্রথম সারির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করেছে।
জেনারেল মিলি বলেন, 'আমি [এই যুদ্ধের] একেবারে শুরুতে বলেছিলাম, এটি দীর্ঘ, ধীর, কঠিন হতে চলেছে। এবং অনেক মানুষ এতে হতাহত হবে। ঠিক তা-ই হচ্ছে।'
একই সাক্ষাৎকারে, যুক্তরাজ্যের চিরফ ডিফেন্স অভ স্টাফ অ্যাডমিরাল টনি রাদাকিন বলেন, 'ইউক্রেন জিতছে আর রাশিয়া হেরে যাচ্ছে।'
'এর কারণ, রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন করায়ত্ত করে দেশটিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া,' বলেন তিনি। 'কিন্তু তা হয়নি—এবং কখনোই হবে না। সে কারণেই ইউক্রেন জিতছে।'
অ্যাডমিরাল রাদাকিন আরও বলেন, রাশিয়ার দখলকৃত ভূমির ৫০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সইঙ্গে পুতিনের জোটই বলে দিচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট এখন 'মরিয়া অবস্থায়' আছেন।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এর কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখল করে নেয় মস্কো। পরে চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউক্রেন সেই হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এরপর বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দেশটি এখনো সেই অর্থে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
