খামেনির জানাজার প্রস্তুতির মাঝে আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এলেন আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কয়েক দিনব্যাপী জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই তাকে জনসমক্ষে দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ৮৬ বছর বয়সে নিহত খামেনির জানাজা-সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ভাহিদি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে খামেনির সাবেক বাসভবনের কাছে আয়োজিত একটি সীমিত পরিসরের শোকানুষ্ঠানেও তার কফিনের পাশে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ভাহিদি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট দলের সদস্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম জনসমক্ষে দেখা গেল ভাহিদিকে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত ভিডিওতে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডের হোসেইনিয়াহর কাছে আয়োজিত শোকানুষ্ঠান দেখা যায়। যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েলের বিমান হামলায় আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মঞ্চে কফিনে রাখা হয়েছে খামেনির মরদেহ। কফিনের সামনে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল লাল টিউলিপ ফুল এবং ওপরে ঝুলছিল কাগজের তৈরি প্রজাপতি।
কালো পোশাক পরা শোকাহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে নিহতদের স্বজন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের অনেককে কফিনে ওড়না ও অন্যান্য সামগ্রী ছুড়ে দিতে দেখা যায়, যাতে সেগুলো কফিন স্পর্শ করে। ইরানে এটি প্রচলিত একটি ধর্মীয় রীতি।
পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির কফিনের ওপর 'ইয়া হুসাইন' লেখা সাদা ক্যালিগ্রাফিসহ একটি লাল পতাকা ঢাকা রয়েছে। পতাকাটি ইরাকের কারবালায় ইমাম হুসাইনের স্বর্ণগম্বুজ মাজারে উড়ছিল। শিয়া মুসলিমদের কাছে এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের স্মারক। একই সঙ্গে লাল পতাকাটি অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তির রক্তের প্রতীক এবং প্রতিশোধের আহ্বান হিসেবেও বিবেচিত হয়।
শুক্রবার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিন কাঁধে করে নিয়ে যান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ধর্মীয় নেতারা খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশ দিয়েও হেঁটে যান। নিহতদের মধ্যে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও রয়েছে।
শনিবার থেকে খামেনির কয়েক দিনব্যাপী জানাজা শুরু হবে। এরপর তার মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকের কয়েকটি শহরে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে তেহরানের বিভিন্ন সড়ক, আকাশপথ এবং স্বাভাবিক জনজীবনে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যে কঠোর নেতৃত্বের জন্য পরিচিত খামেনিকে স্মরণ করতেই এ আয়োজন করা হচ্ছে।
