চট্টগ্রামে কুকুরকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা, জড়িতদের শনাক্তে অভিযানে পুলিশ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় একটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। প্রাণীটি বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করলেও সেটিকে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে রাখা হয়। আশপাশে থাকা কয়েকজন কুকুরটিকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তাতে কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে কুকুরটির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেটিকে পানি থেকে তুলে আনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক আলী হোসাইন জানান, ঘটনাটি সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে ঘটেছে। তিনি বলেন, "উপস্থিত সাধারণ মানুষ কুকুরটিকে বাঁচানোর জন্য বারবার অনুরোধ করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা উপেক্ষা করেন এবং প্রাণীটিকে পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, "ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গতকাল থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।"
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযানের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, "এ ধরনের ঘটনা শুধু প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতারই উদাহরণ নয়, বরং আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।" তিনি ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণীপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা বা নিষ্ঠুর আচরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
