২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪০ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে সরকার ৬৩.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, ৬৩.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার আর সেবা রপ্তানি থেকে ৮.২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৬৩.৫০ বিলিয়ন (৬ হাজার ৩৫০ কোটি) ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাতের জন্য ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বছর শেষে প্রকৃত রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর সেবা খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সেবা খাতের রপ্তানি আয়ের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। আরও দুই-তিন মাস সময় লাগবে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিগত দুটি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে এক ধরনের মন্দা অবস্থা ছিল। দুটি যুদ্ধ চলমান, উন্নত দেশে ভোগের পরিমাণ কমেছে এবং প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। এর মধ্যেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যে কারণে ইমিডিয়েট কিছু ফলাফল তুলে আনা সম্ভব হবে।'
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সাউথ কোরিয়াসহ কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে এফটিএ হবে। প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হবে।'
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, 'ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ, ব্যবসা সহজ করা এবং রপ্তানি গন্তব্যের দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।'
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নামের পরিবর্তন হয়েছে, শুল্কের হারের কোনো পরিবর্তন হয়নি।'
রপ্তানি বহুমুখীকরণ বিষয়ে বলেন, 'পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশ আসে। কোনো দেশের জন্য এটি স্বস্তিকর বা সুখকর নয়। এজন্য সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো আপনারা শীঘ্রই দেখতে পারবেন। আমরা চাই তৈরি পোশাক খাত থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হোক। পাশাপাশি অন্যান্য খাতগুলো থেকেও যাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসে।'
জ্বালানি সংকট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। দেশের মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেটি আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। আর ৯০০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এই দুটি এফএসআরইউ দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব না। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।'
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, 'এটা সত্য যে, জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলোর ইন্সটল ক্যাপাসিটির ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে রাতারাতি এর কোনো সমাধান নেই। সরকার এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'গত বছর বড় অনিশ্চয়তা ছিল। ব্যবসার প্রসারের জন্য ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। এদের কাছে পলিসি প্রেডিক্টিবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত সরকার আসার পর ব্যবসায়ীরা সেই প্রেডিকশন করতে পারছেন। অন্যদিকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হচ্ছে এটি নিশ্চিত হয়েছে। এ থেকে ব্যবসায়ীরা জানতে পারছেন আগামী তিন বছর বাংলাদেশের পণ্যের মার্কেট অ্যাক্সেসিবিলিটি কী হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন রপ্তানি গন্তব্য দেশের সঙ্গে একটি আলোচনা চলছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।'
জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রত্যেকটি চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেটি কার্যকর হবে।'
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং প্রধান প্রধান রপ্তানি খাতের সংগঠনের নেতারা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
