যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২৬ মার্চ) ২৭তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান: সূত্র
ইরান বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে বলে একটি সূত্র তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্রের মতে, ইরান তার জবাবে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে শত্রুপক্ষের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন আবার যুদ্ধ না হয়, সেজন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।
এছাড়া ক্ষতিপূরণ ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, এই সংঘাতে অংশ নেওয়া পুরো অঞ্চলের সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর জন্য সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান কার্যকর করতে হবে।
সূত্র আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব একটি স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার এবং তা ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে, এই দাবির স্বীকৃতি দিতে হবে। এছাড়া এটি অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবেও কাজ করবে।
এসব শর্ত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনায় তেহরানের উত্থাপিত দাবির বাইরে।
সূত্রটি দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব আসলে একটি 'তৃতীয় প্রতারণা' প্রকল্প। আলোচনার আড়ালে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা, বৈশ্বিক তেলের দাম কম রাখা এবং দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল ও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের কিছু সন্দেহ থাকলেও, এখন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ইচ্ছা নিয়ে তাদের পূর্ণ সন্দেহ রয়েছে।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলাকালীনই যুদ্ধ শুরু করেছে। তাই ইরান মনে করে এবারও তারা আলোচনার অজুহাতে নতুন আগ্রাসনের পথ তৈরি করতে চাইছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
ভারতে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, 'প্যানিক বায়িং' না করার আহ্বান সরকারের
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝে ভারতীয় নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল (প্যানিক বায়িং) না কেনার আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে ভারত সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের কাছে 'পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল' এবং 'পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত' রয়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা সুজাতা শর্মা বলেন, 'গুজবে কান দেবেন না। আমাদের কাছে যথেষ্ট মজুত আছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করবেন না।'
তবে সরকারি এই আশ্বাসের বিপরীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। আশীষ সিং নামে এক বেসরকারি চাকুরিজীবী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, 'জ্বালানি তেলের জন্য তাকে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।'
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় জড়িত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল মিসর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত করেছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি জানিয়েছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পাশাপাশি মিসরও ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানে সহায়তা করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যে ব্যাপকভিত্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, মিসর তার অংশ হিসেবে এই মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান; সঙ্গে আছে তুরস্ক ও মিসর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি জানান, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি পয়েন্ট বা প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইরান বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক, মিসর এবং আরও কয়েকটি নাম প্রকাশ না করা দেশ সমর্থন দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরাকে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ মার্কিন দূতাবাসের
ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক নতুন নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সে দেশে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক এবং ইরাকি কুর্দিস্তানজুড়ে মার্কিন নাগরিক ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে 'ব্যাপক' হামলা চালিয়েছে।
ইরাকের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং রকেটের অব্যাহত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস অথবা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ থাকায় যারা ইরাক ছাড়তে চান, তাঁদের স্থলপথে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
'নিজেদের জনগণের হাতেই নিহত হওয়ার ভয়ে আছেন ইরানের নেতারা': ট্রাম্প
চলতি সপ্তাহে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার অস্বীকার করা হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির (এনআরসিসি) বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন, অভিবাসন ও ভেনিজুয়েলাসহ নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প রিপাবলিকানদের বলেন, ইরান 'খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়'।
তবে তার দাবি, ইরানি নেতারা 'এটি বলতে ভয় পাচ্ছেন কারণ তারা ভাবছেন যে নিজেদের জনগণের হাতেই তাঁরা নিহত হবেন'। তিনি আরও যোগ করেন, 'তারা আমাদের হাতে নিহত হওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন।'
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাতকে তিনি একটি 'সামরিক অভিযান' হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প বলেন, 'তারা যুদ্ধ শব্দটি পছন্দ করেন না কারণ সেক্ষেত্রে (মার্কিন কংগ্রেসের) অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তাই আমি একে সামরিক অভিযান বলব, যা মূলত এটিই।'
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে 'বিধ্বস্ত' করে দিচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে 'বিশাল সামরিক সাফল্য' অর্জিত হয়েছে। তবে এসব সাফল্য টেলিভিশনে দেখানো যাচ্ছে না কারণ গণমাধ্যমগুলো এখন 'বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের' দেখাতে বেশি ব্যস্ত।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে ইরান কোনো দ্বিধা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই পদক্ষেপ না নিত তবে 'পুরো বিশ্ব এক ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়ত এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সকল সম্ভাবনা চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যেত'।
জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনকে সাময়িক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এই 'ক্যান্সার' নির্মূল করতেই হতো। ট্রাম্পের ভাষায়, 'পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান ছিল একটি ক্যান্সার। আমরা এখন তা কেটে ফেলেছি। আমরা এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছি।'
ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্তুত হুথি বিদ্রোহীরা: দাবি ইরানি গণমাধ্যমের
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম। সংস্থাটি এক 'অবহিত সূত্রের' বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (যা হুথি নামে পরিচিত) বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বিদ্রোহীদের জন্য একটি 'সহজ কাজ' হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে লোহিত সাগরে শত শত ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এর ফলে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতেও আক্রমণ চালিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিদ্রোহীদের প্রতিহত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এই হামলা থামানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নৌবাহিনী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা (এসকর্ট) দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা যদি সত্যিই বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তবে তা পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক বিকল্পগুলোকে আরও সীমিত করে ফেলবে। এই প্রণালিটি ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, যা ইউরোপের সাথে আফ্রিকা ও এশিয়ার জলপথকে যুক্ত করে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সমাবেশ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত সেনা পাঠিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত কয়েক দিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় ২,৫০০ নৌসেনা (মেরিন) এবং তিনটি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এই বিশেষ বাহিনী মূলত 'স্পেশাল অপারেশন ফোর্স' বা বিশেষ অভিযানের অংশ।
শোনা যাচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনকেও সেখানে মোতায়েন করা হবে। এটি একটি দ্রুত সাড়াদানকারী ইউনিট (র্যাপিড রেসপন্স ইউনিট), যা মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে যেকোনো স্থানে অভিযানে নামতে সক্ষম। এই বিশেষ বাহিনীকে ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বর্তমানে নানা জল্পনা চলছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলে আহত ৬
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাজেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আহত ছয়জনকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই হামলায় কাফর কাসিম শহরের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরান থেকে ছোঁড়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা নাকচে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের চড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব ইরান নাকচ করে দেওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার এশীয় বাজারে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছা এই মুহূর্তে তাঁদের নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কেবল কিছু বন্ধুপ্রতীম দেশের মাধ্যমে বার্তার আদান-প্রদান হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা দরকষাকষি চলছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের নেতারা যে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন—তা স্বীকার করতে তারা 'ভীত'।
দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯১.৬১ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি 'মহাবিপর্যয়': জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি অর্থনৈতিক 'মহাবিপর্যয়' হিসেবে বর্ণনা করে এই সংকট সমাধানে 'কূটনৈতিক পথে' হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস।
ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিস্টোরিয়াস বলেন, শান্তি স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগে জার্মানি সহায়তা করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, 'বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি মহাবিপর্যয়। মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই এর প্রভাব এখন পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'শুরু থেকেই এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। কেউ আগে আমাদের কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং তাই আমরা এই যুদ্ধের মধ্যে টেনে হিঁচড়ে ঢুকতে চাই না।'
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে রক্তক্ষয় ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে পিস্টোরিয়াস বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবেই জার্মানি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অভিযান নিয়ে আলোচনা করবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, 'তবে সেই সময়টি এখনও আসেনি। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি।'
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নাকচ ইরানের, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার গভীর রাতে জানিয়েছেন, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নাকচ করে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাত রোধ করতে ইরান কেবল 'নিজেদের শর্তেই' এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেবল বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, 'আমরা আমাদের নিজস্ব শর্তে যুদ্ধের সমাপ্তি চাই... এমনভাবে যেন এর পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।' তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই এবং বর্তমানে তাদের মূল নীতি হলো 'প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা'।
আরাগচি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই মুহূর্তে কোনো আলোচনায় বসার প্রয়োজন অনুভব করছে না। তার মতে, এখন আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ হলো 'পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া'।
ইরান যদি শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় না আসে তবে দেশটির ওপর 'নরক নামিয়ে আনা হবে'—হোয়াইট হাউসের এমন হুমকির পরেই আরাগচির এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এর আগে জানিয়েছিলেন, আলোচনা চলছে এবং তা ফলপ্রসূ হচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো একটি ১৫ দফার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন যে, খবরের মধ্যে সত্যতা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এ ধরণের কিছু ধারণা বা প্রস্তাব শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল বার্তা আদান-প্রদান করাকে কোনোভাবেই 'প্রকৃত আলোচনা বা দরকষাকষি' বলা যায় না।
আরাগচি আরও দাবি করে, এই যুদ্ধের মাধ্যমেই ইরান তার নিজস্ব প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি করেছে। তেহরানকে উসকানি দেওয়া হলে তার 'ভয়াবহ পরিণতি' ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, 'জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ নয়—এটি কেবল শত্রুদের জন্য বন্ধ।' তিনি জানান, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজ যাতায়াতের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী 'নিরাপদ পথ' নিশ্চিত করেছে।
তেহরানকে পরাজয় মেনে নিতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার জানিয়েছেন, তেহরান যদি সামরিকভাবে 'পরাজিত' হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও শক্তিশালী আঘাত হানবেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে লেভিট বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা হুমকি দেন না এবং তিনি নরক নামিয়ে আনতে প্রস্তুত। ইরানের উচিত হবে না পুনরায় কোনো ভুল হিসাব করা।'
তিনি আরও বলেন, 'ইরান যদি বর্তমান মুহূর্তের বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয় এবং তারা যদি এটি বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং হবে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী আঘাতের সম্মুখীন হয়।'
ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করার সাথে সাথে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের মতো বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একটি মার্কিন প্রস্তাব ইরান এখনও পর্যালোচনা করছে। যদিও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক ছিল, তবে তেহরান এখন পর্যন্ত তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেনি।
লেভিট জানান, ইরানের সাথে আলোচনা এখনও চলছে। তিনি বলেন, 'আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের সোমবারের কথা অনুযায়ী এগুলো ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং তা বজায় রয়েছে।'
অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছিল যে ওয়াশিংটন তেহরানকে ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। লেভিট বুধবার বলেন যে ওই প্রতিবেদনের সব তথ্য পুরোপুরি নির্ভুল নয়, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
লেভিট বলেন, 'হোয়াইট হাউস কখনোই এই পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেনি। এর মধ্যে কিছু সত্যতা থাকলেও আমি যেসব খবর পড়েছি তার সবটুকু তথ্যনির্ভর নয়। তাই আমি এখানে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টের পক্ষ হয়ে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষি করতে যাচ্ছি না।'
