৩৯ দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন, ভিসা বন্ধে ট্রাম্পের নির্দেশ অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন মার্কিন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার (২৯ মে) ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এই রায় দেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসি-তে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এই বিধিনিষেধ বাতিল করে বলেন, এই নীতির কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্বের আবেদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি 'যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।'
জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিধিনিষেধ জারি করেছিল, তবে জাজ ম্যাককনেল এই অজুহাতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এখানে 'জাতীয় নিরাপত্তার ভুয়া অজুহাত ব্যবহার করেছে, যা আসলে তাদের অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।'
তিনি আরও বলেন, 'ইউএসসিআইএস-এর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির ভুলের কারণে নয়; বরং তা কেবল তাদের জন্মগত পরিচয়ের কারণে নেওয়া হয়েছে।'
বিচারক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর, এই ব্যক্তিদের অনেকেই কাজ ছাড়াই আছেন, কোনো আইনি মর্যাদা নেই এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার মতো কোনো কার্যকর ক্ষমতাও তাদের নেই।'
ভুক্তভোগী এই ৩৯টি দেশের বেশিরভাগই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্ষমতায় আসার পর তিনি ক্রমাগত বৈধ অভিবাসনের পথগুলো বন্ধ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আলাদাভাবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রসেস করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তাদের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন কড়া স্ক্রিনিংয়ের পর অনুমোদিত শরণার্থীদের প্রবেশের কোটা কমিয়ে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৭,৫০০-তে নিয়ে এসেছিল, যা পরবর্তীতে আরও ১০,০০০ বাড়ানো হয়।
একই সময়ে প্রশাসন 'শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান'-দের পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দেয়, যা বর্ণবাদী নীতি হিসেবে তীব্র সমালোচিত হয়েছে।
আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন আইনি সাহায্য সংস্থা 'ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড'-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিম্যান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এই রায় একটি মৌলিক নীতি পুনরুক্ত করেছে: ফেডারেল সরকার কোনো আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না অথবা কোনো ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তার ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এই বেআইনি নীতিগুলো সারা দেশে পরিবার, শ্রমিক, আশ্রয়প্রার্থী এবং কমিউনিটিগুলোর ওপর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে, যারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন এবং কাজ করা, আইনি সুরক্ষা পেতে বা জীবনে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।'
