জুলাই মাসে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বাড়িয়েছে চীন
বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি জুলাই মাসে চীন তাদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) আমদানি বাড়িয়ে থাকতে পারে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭৮ লাখ ব্যারেল আমদানি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনা শোধনাগারগুলো রাশিয়ান ক্রুড কেনা বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকেও বেশি সংখ্যক তেলবাহী ট্যাঙ্কার সে দেশে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এই তথ্য বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পালে নতুন হাওয়া যোগ করতে পারে। কারণ জুন মাসে চীনা শোধনাগারগুলোর সংগৃহীত দৈনিক ৬২ লাখ ব্যারেল তেলের তুলনায় জুলাইয়ের এই গড় আমদানি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে, জুন মাসের আমদানির এই পরিমাণ ছিল গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে চীনের সর্বনিম্ন হার; এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে চীন দৈনিক ৬২ লাখ ব্যারেল হারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মধ্যকার পারস্পরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে শান্তির আশা জেগেছে। এতে করে চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত সপ্তাহের রেকর্ড উচ্চতা থেকেও কিছুটা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত ধরে ইরানে বোমাবর্ষণ করেছে, এই অবস্থায় ইরানও ফের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং হুথিদের সাহায্যে এই সংঘাতকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। সেখানে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। এর ফলে অন্যান্য ট্যাঙ্কারগুলো পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানির প্রবাহ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কায়—আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার থেকে ইরানে বোমাবর্ষণ বন্ধ রেখেছে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর জবাবে ইরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তাসংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ নতুন করে হামলা না করবে, ইরানও ততোক্ষণ হামলা চালাবে না। এরপরও শান্তির আশা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছে তেহরান।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, "হামলা বন্ধের এই পদক্ষেপ নিয়ে আশাবাদের চেয়ে সংশয়ই বেশি কাজ করছে। বর্তমানে সার্বিক ধারণা হলো—এই বিরতি কোনো প্রকৃত শান্তির উদ্যোগ নয়, বরং কৌশলী পদক্ষেপ মাত্র। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কথিত প্রতারণা নিয়ে ইরানের যথেষ্ট তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।"
