ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে টানছে রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধে বাড়তে থাকা ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি কলেজ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে রাশিয়া। বিশেষ করে ড্রোন ইউনিটে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের শুরু থেকে বড় পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রাশিয়া ড্রোন ইউনিটকে যুদ্ধের একটি অভিজাত ও প্রযুক্তিনির্ভর শাখা হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক নতুন নিয়োগপ্রাপ্তকে ড্রোন পরিচালনার বদলে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।
এ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি 'টার্গেট' বানানো হচ্ছে যেসব শিক্ষার্থীকে, যারা পড়াশোনায় পিছিয়ে আছেন বা সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এমনই একজন ২৩ বছর বয়সী ভ্যালেরি আভেরিন। তিনি ইউক্রেনে নিহত হওয়া প্রথম দিকের কয়েকজন রুশ শিক্ষার্থীর একজন, যিনি ড্রোন ইউনিটে যোগ দিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।
তার পালক মা অকসানা আফানাসিয়েভা বলেন, 'তিন মাস ধরে তাকে ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। অথচ শেষ পর্যন্ত তাকে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে, মৃত্যুকূপে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সে তো কখনো সেনাবাহিনীতেই চাকরি করেনি।'
পূর্ব সাইবেরিয়ার একটি এতিমখানায় বেড়ে ওঠা ভ্যালেরিকে ১১ বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় তিনি বুরিয়াত রিপাবলিকান টেকনিক্যাল স্কুল অব কনস্ট্রাকশনের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এপ্রিলের শুরুতে তিনি তার পালক মাকে ফোন করে জানান, তাকে এমন একটি জায়গায় পাঠানো হচ্ছে, যেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি তাকে দুশ্চিন্তা না করার অনুরোধ করেন।
শুরুতে ভ্যালেরি বলেছিলেন, তিনি অর্থ উপার্জনের জন্য রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এ কাজ করতে যাচ্ছেন। পরে তার পালক মা জানতে পারেন, তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করেছেন এবং ড্রোন অপারেটর হিসেবে প্রশিক্ষণও শেষ করেছেন।
কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন, পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে মর্টারের আঘাতে ভ্যালেরি নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের ছোট শহর উনেচার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ভ্লাদিস্লাভ গরবুনভও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চার মাসের মাথায় ৬ এপ্রিল নিহত হন।
স্থানীয় স্টেট টেকনিক্যাল স্কুল অব সেক্টরাল টেকনোলজিস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টে রেলপথ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। শুরুতে তাকে পদাতিক বাহিনীর সম্মুখসারির ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে ড্রোন অপারেটর ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
দুই বছর আগে ওয়েল্ডিং শেখার জন্য কুমেরতাউ মাইনিং কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন রাহিম আবদুল্লিন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ১৮তম জন্মদিনের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ড্রোন অপারেটর হওয়ার আশায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করেন। তার ধারণা ছিল, এ দায়িত্ব তুলনামূলক নিরাপদ।
কিন্তু তার মা এলেনা বলেন, 'ওখানে গিয়ে সে বুঝতে পারে, এই কাজ মোটেও নিরাপদ নয়। কারণ, ড্রোন অপারেটররাও হামলার শিকার হন। তারা সামনের সারিতেই থাকে।'
১৩ মার্চ রাহিমও নিহত হন।
তার মা বলেন, 'সে খুব দ্রুত চলে গেল, আবার খুব দ্রুতই ফিরে এল।'
বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাহিম আবদুল্লিন, ভ্লাদিস্লাভ গরবুনভ ও ভ্যালেরি আভেরিন—এই তিন শিক্ষার্থী ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হওয়া অন্তত ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৭ জন রুশ সেনাসদস্য ও কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন। এই সংখ্যা কবরস্থান, যুদ্ধস্মারক, সরকারি নথি ও শোকবার্তার তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
যুদ্ধে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্মুক্ত উৎস থেকে বিবিসির যাচাই করা তথ্য মোট নিহতের মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশকে তুলে ধরে। সে হিসাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার থেকে ৫ লাখ ৯ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউও গত মে মাসে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ বলে জানিয়েছিল।
ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে জানান, যুদ্ধে ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে ইউক্রেনের একটি বেনামি ওয়েবসাইটের দাবি, দেশটির সেনাবাহিনীর নিহত সদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের সামরিক গোয়েন্দাদের হিসাব অনুযায়ী, নিহত, আহত ও নিখোঁজ মিলিয়ে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
এদিকে যুদ্ধে নিহত ও আহত সেনাদের জায়গা পূরণ করা এখন রাশিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে নতুন সদস্য সংগ্রহে জোর দিয়েছে দেশটি। কর্তৃপক্ষ ড্রোন ইউনিটে নিয়োগ কর্মসূচিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং তুলনামূলক নিরাপদ সামরিক শাখায় স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে।
এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের 'আনম্যানড সিস্টেমস ট্রুপস' নামে সেনাবাহিনীর নতুন একটি শাখায় এক বছরের বিশেষ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই ইউনিটের গুরুত্বও বেড়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসভ ২০২৫ সালের নভেম্বরে বলেছিলেন, এই বাহিনীতে মূলত ৩৫ বছরের কম বয়সীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ, তরুণরা 'নতুন প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির কাজের সঙ্গে' সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।
এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেনাবাহিনীর নিয়োগসংক্রান্ত প্রচারণা শুরু হয়।
বিবিসি রাশিয়ার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ অন্তত ৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সেনাবাহিনীতে নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম চালানো হয়েছে। পরে এপ্রিল মাসে শিক্ষার্থীদের প্রকাশনা 'গ্রোজা' জানায়, ড্রোন ইউনিটে যোগদানের চুক্তির প্রচারণা চালানো হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সংখ্যা প্রায় ২৭০।
শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষভাবে নিয়োগ প্রচারণা সাজানো হয়েছে।
তাদের বলা হচ্ছে, মাত্র এক বছরের জন্য চুক্তিতে যোগ দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যেই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে এবং তারা সাধারণ পদাতিক বাহিনীর বদলে শুধু ড্রোন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের অর্থ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং পরে আবার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার সুযোগও থাকবে।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বাড়তি সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এককালীন অর্থ, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ, স্নাতকোত্তরে সহজে ভর্তি এবং উন্নত আবাসনের সুবিধা।
রাজধানী মস্কোর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা লিফলেটে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবীরা প্রথম বছরেই অন্তত ৫০ লাখ রুবল পাবেন।
তবে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কারণ, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সামরিক চুক্তির মেয়াদ কার্যত অনির্দিষ্ট হয়ে গেছে। সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকে। ফলে এক বছরের শেষে সেনাবাহিনী ছাড়তে পারবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ড্রোন অপারেটরের দায়িত্বকে সম্মুখসারির যুদ্ধের তুলনায় নিরাপদ বলে প্রচার করছে। তাদের দাবি, এই ইউনিটের সদস্যদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে হয় না।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন। যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ড্রোন অপারেটররা এখন দুই পক্ষের কাছেই অগ্রাধিকারভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৯২০ জন রুশ ড্রোন অপারেটর নিহত হয়েছেন। বিবিসি রাশিয়া, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা এবং একদল স্বেচ্ছাসেবকের যৌথ বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে এই হিসাব কেবল প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাই প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিশ্চিত হওয়া এই ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ইতোমধ্যে রাশিয়ার আর্টিলারি ইউনিটের নিহত সেনাদের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আর্টিলারি ইউনিটকে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধ ইউনিটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া ড্রোন ইউনিটে যোগ দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পাওয়া নিশ্চিত নয়। কে ড্রোন ইউনিটে কাজ করবেন, সে সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাউকে উপযুক্ত মনে না হলে তাকে সেনাবাহিনীর অন্য কোনো ইউনিটে পাঠানো হতে পারে।
অর্থনৈতিক সুবিধা ও দেশপ্রেমের আহ্বানের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপও প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিবিসি রাশিয়ার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঝুঁকিতে ছিলেন বা পড়াশোনা থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তাদের বিশেষভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
নোভোসিবিরস্কের একটি কলেজে প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে শিক্ষার্থীদের 'কাপুরুষ' বলে সম্বোধন করতে দেখা গেছে, কারণ তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হননি।
কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়োগের লক্ষ্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফার ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিভার্সিটির রেক্টরের সাবেক এক উপদেষ্টা দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ৩২ জন শিক্ষার্থীকে যুদ্ধে পাঠানোর কোটা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, খবরটি ভিত্তিহীন। তারা শুধু স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ধীরে ধীরে বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে— শিক্ষার্থীদের ওপর রাশিয়ার এই জোরালো নিয়োগ অভিযান সেটিই ইঙ্গিত করে।
তরুণদের সামনে অর্থ, মর্যাদা এবং তুলনামূলক নিরাপদ ও বিশেষায়িত সামরিক দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু ভ্যালেরি আভেরিনের মৃত্যু দেখিয়ে দিয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতি কতটা অনিশ্চিত এবং ক্ষণস্থায়ী হতে পারে।
ভ্যালেরির পালক মা বলেন, 'সে ভেবেছিল তাকে প্রযুক্তিগত কাজে নিয়োজিত রাখা হবে। কিন্তু তা হয়নি। সে বলেছিল, তার কিছুই হবে না।'
