‘বিদ্যমান রাজ্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’: গরু জবাইয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকার
গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের যুক্তি, হাইকোর্টের এই আদেশটি তামিলনাড়ুর বিদ্যমান রাজ্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'লাইভ ল'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি দেখিয়েছে যে, গত ২৭ মে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল তা মূলত 'তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮'-এর পরিপন্থী। ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদপত্র সাপেক্ষে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত গবাদিপশু জবাই করা যাবে।
তামিলনাড়ু সরকার আরও উল্লেখ করেছে যে, পশু জবাই সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান আইন—যেমন 'পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৬০', 'পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ (কসাইখানা) বিধিমালা, ২০০১', 'তামিলনাড়ু নগর স্থানীয় সংস্থা আইন, ১৯৯৮' এবং 'তামিলনাড়ু নগর স্থানীয় সংস্থা বিধিমালা, ২০২৩'—সবগুলোতেই নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পশু জবাইয়ের নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
'লাইভ ল'-এর তথ্যমতে, রাজ্য সরকার আরও দাবি করেছে যে, ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট কার্যত আইনসভার প্রণীত আইনের গণ্ডি লঙ্ঘন করেছে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশে কী বলা হয়েছিল
পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন, গত ২৭ মে 'হিন্দু মক্কাল কাটচি'-এর সাধারণ সম্পাদক সূর্য প্রশান্তের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানি করছিলেন বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ। মামলায় সূর্য প্রশান্ত কেবল নির্দিষ্ট স্থানে গবাদিপশু জবাই করার নির্দেশনা চেয়েছিলেন। তবে হাইকোর্ট আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরো রাজ্য জুড়ে যেকোনো স্থানে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন।
আদেশটি দেওয়ার সময় হাইকোর্ট রাজ্য সরকারেরই একটি পুরনো আদেশের ওপর নির্ভর করে, যেখানে বলা হয়েছিল—গবাদিপশু জবাই বন্ধ করা হলে তা দুধের উৎপাদন বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া, 'লাইভ ল'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কিছু রায়েরও উল্লেখ করে, যেখানে বলা হয়েছিল যে ঈদুল আজহার সঙ্গে গবাদিপশু জবাই কোনো 'অপরিহার্য ধর্মীয় রীতি' নয়।
