'ভাইকিং রো' কী এবং কেন বিশ্বকাপে এমন উদযাপন করছে নরওয়ে?
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যদি আপনার চোখে পড়ে থাকে, তবে দলটির একটি বিশেষ উদযাপন নিশ্চয়ই আপনার মনে কৌতূহল জাগিয়েছে— আর সেটি হলো তাদের সিগনেচার সেলিব্রেশন 'ভাইকিং রো' বা ভাইকিংদের নৌকা বাইচ।
স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কের রাস্তাঘাট—সবখানেই নরওয়েজিয়ানদের এই উদযাপন চলতি টুর্নামেন্টে ফুটবলপ্রেমীদের দারুণ পছন্দের একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই 'ভাইকিং রো' আসলে কী এবং এর উৎপত্তিই বা কোথায়?
ভাইকিং রো' কী
সহজ কথায়, 'ভাইকিং রো' হলো একদল মানুষের একসঙ্গে বসে বৈঠা বাওয়ার ভঙ্গিতে শরীরকে সামনে-পেছনে দোলানো। এই ক্ষেত্রে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও তাদের সমর্থকেরা একসঙ্গে বসে এই কাজটি করছেন। ম্যাচ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তেই সমর্থকেরা গ্যালারিতে এটি শুরু করে দেন, যেখানে একজন ড্রামবাদক বাদ্যের তালে তালে এর ছন্দ ঠিক করে দেন। ড্রামের প্রতি দুটি বিট পর পর পুরো গ্যালারি একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে—'রো'! আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় মূল গর্জন।
মূলত খ্রিস্টাব্দ ৮০০ থেকে ১০৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আদিভূমি হিসেবে নরওয়ের যে গৌরবময় ইতিহাস ছিল, এই উদযাপন তারই একটি স্মারক। আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র গঠনে সেই 'ভাইকিং যুগ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
কে এই 'ভাইকিং রো'র জনক
নরওয়ে দলের 'সুপারফ্যান' ওলে ফ্রইস্তাদকে এই 'ভাইকিং রো' উদযাপনের উদ্ভাবক এবং এটিকে জনপ্রিয় করে তোলার মূল কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছরের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকদের নিয়ে তিনি প্রথম এই উদযাপনটি প্রদর্শন করেন, যা মুহূর্তেই সবার মন জয় করে নেয়। তবে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আসার পরই মূলত এই উদযাপন বিশ্বব্যাপী একটি 'ভাইরাল সেনসেশনে' রূপ নেয়।
এর জনপ্রিয়তা এখন এতটাই যে, স্বয়ং নরওয়ের ফুটবলাররাও এখন মাঠের ভেতরে এটি করছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এবং ম্যাচ জিতে শেষ ১৬-তে ওঠার পর নরওয়ের তারকা আর্লিং হলান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড দলবল নিয়ে মাঠেই এই 'ভাইকিং রো' উদযাপনের নেতৃত্ব দেন।
