ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোতে মিসর, ফিলিস্তিনকে জয় উৎসর্গ করলেন কোচ
ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিসর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই ঐতিহাসিক জয়ের পর পুরো কৃতিত্ব ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎসর্গ করেছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় মিসর। এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে পা রাখল 'দ্য ফারাওরা'। সেখানে তারা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে মিসরের পথ সহজ হয়ে যায়। দলটির হয়ে জয়সূচক শেষ পেনাল্টিটি নেন হোসাম আবদেলমাগুইদ। এর আগে ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডে এগিয়ে গিয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ পরবর্তী আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে কোচ হোসাম হাসান বলেন, 'আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহম করুন। আমি এই ঐতিহাসিক জয় মিসরের মানুষের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বীর জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি। তারা অত্যন্ত সাহসী এবং সম্মানিত জাতি।'
ম্যাচ শেষে মাঠে হোসাম হাসানকে মিসর ও ফিলিস্তিনের পতাকা এক সঙ্গে হাতে নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়। এ সময় দলের খেলোয়াড়রা মাঠে সিজদায় অবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।
মিসরের এই জয় কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর ঢেউ পৌঁছেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায়। ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুতে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনি বড় পর্দায় এই ম্যাচ উপভোগ করেন। জয়ের খবর আসতেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মাঝখান থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার ছোট ছোট শিশুদের মুখে মিসরের পতাকা আঁকা এবং প্রতিটি গোলের পর তাদের উল্লাস। ফিলিস্তিনিদের প্রতি মিসরীয় দলের এই সংহতি বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
তবে এই আনন্দের মাঝেও ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। মিসর জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ডালাসে হোটেলের সামনে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার সময় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান ও ফুটবলার ত্রেজেগেকে ধাক্কা দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে ডালাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে সেখানেই মীমাংসা করে নেওয়া হয়েছে।
