স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গাজাবাসীর উদযাপন; যে কারণে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থন দিল তারা
গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন ক্যাফেতে জড়ো হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করেন ফিলিস্তিনিরা। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জিততেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তারা।
যুদ্ধ ও প্রতিদিনের দুর্ভোগের মধ্যে এই আয়োজন গাজার বাসিন্দাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত এনে দেয়। উপস্থিত অনেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে দলটিকে সমর্থন করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার অনেক মানুষের মধ্যেই এমন মনোভাব দেখা যায়। এর পেছনে অন্যতম কারণ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের সময় স্পেন সরকারের অবস্থান। শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, স্পেনের ডাগআউট ও মাঠের তারকাদের সংহতিও ছুঁয়ে গেছে ফিলিস্তিনিদের। বিশেষ করে স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালসহ স্পেনের বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্য ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্পেনের প্রতি গাজার এই সমর্থনের পেছনে আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর কট্টর ইসরায়েলপন্থী অবস্থান এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও কিছুটা ভূমিকা রেখেছে, যা ফিলিস্তিনিদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
খেলা দেখতে আসা গাজার বাসিন্দা নুমান আবদুল্লাহ আনাদোলুকে বলেন, 'আমরা স্পেনকে সমর্থন করতে একত্রিত হয়েছি, কারণ দেশটি বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে রয়েছে।'
তিনি বলেন, এই আয়োজন শান্তি এবং ফিলিস্তিনের পাশে থাকা দেশগুলোর প্রতি সংহতিরও একটি বার্তা।
নুমান আবদুল্লাহ বলেন, 'আমরা এমন একটি জাতি, যারা শান্তি চাই।'
রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। অন্যদিকে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা।
