রামিসারা: ধর্ষণ ঠেকাতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে রাষ্ট্রকেই
শিশু রামিসার বাবা তার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার জন্য বিচার চাইছেন না। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দুঃখ থেকে তিনি একথা বলেছেন। শুধু রামিসার বাবা নন, এরকম মনোভাব অনেকের। এর আগে আরও ঘটনায় স্বজনদের বিচার না চাওয়ার কান্না আমরা শুনেছি। মানুষ যখন বিচার না পেতে পেতে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, তখনই বিচার চাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়।
আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাবা-মা ও পরিবার নির্দ্বিধায় এমন কথা বলতে পারছেন। এমন ঘটনা তো এ দেশে এ প্রথম নয়। শুধু ২০২৬ এর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৮০ জন শিশু ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গণধর্ষণ ৫৬ টি এবং ধর্ষণের শিকার ৬৯ জনই শিশু। ১৬ জনের বয়স ৬ এর নীচে, ১৪ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে।
আর ২০২৫ এর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৪৯ জন, এরমধ্যে গণধর্ষণ ১৮০ টি। ভিক্টিমদের মধ্যে ৩২৩ জন শিশু, যাদেরও বয়স ৪ থেকে ১৮ বছর। ৪২ জনকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে।
ধর্ষণ মামলার হার বেড়েছে, কিন্তু অথচ ধর্ষণের দায়ে শাস্তি হয় কতজনের? বাংলাদেশে গত ১০ বছরে মোট দায়ের হওয়া ধর্ষণের মামলায় শাস্তির হার খুবই নগণ্য, যা এক থেকে তিন শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মানবাধিকার সংস্থা ও আইনি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য এটা। ধর্ষণের বিচারের সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
খুব সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং উক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ' শীর্ষক একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। এর বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় খালাস পাচ্ছে আসামিরা। গবেষণায় দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ছে।
ধর্ষণের বিচারের এই ভয়াবহ চিত্র ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পরিবারগুলো হতাশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের বেশি, যার মধ্যে বহু ধর্ষণ মামলা ৫ থেকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।
দীর্ঘসময় মামলা ঝুলে থাকলে কী হয়, সে প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ওয়ারেন ই. বার্গারের একটি ঐতিহাসিক বক্তব্য আছে: 'একটি স্বাধীন জাতির স্বাধীনতার ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে আদালতের ওপর আস্থা অপরিহার্য। আর এই আস্থা তখনই ভেঙে পড়ে, যখন দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচার বঞ্চিত হয়।' (সূত্র: রাফসান গালিব, প্রথম আলো)
চোখের সামনে থেকে ছোট্ট রামিসার মুখটা সরাতে পারছি না। অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে ধর্ষণ করেছে, ধর্ষণের পর হত্যা করেছে এবং এরপর ছোট্ট শরীরটিকে কেটে টুকরা করেছে। সোহেল রানার মতো অপরাধীগুলো দেখতে অবিকল মানুষের মতো কিন্তু এরা আসলে দানব। রামিসার ঘটনার একদিন যেতে না যেতেই ঢাকার বনশ্রীতে মাদরাসায় একটি দশ বছরের ছেলেশিশুকে বলাৎকার করে হত্যা করা হলো। সেই রাতেই চট্রগামে পাঁচ বছরের আরেকটি শিশু ধর্ষণের শিকার হলো।
এইসব ঘটনায় অভিযুক্ত অপরাধীর পক্ষে সুবিধা হচ্ছে, তাদের কৃত অপরাধ কয়দিন পর সবাই ভুলে যায়। বাবা-মায়ের চোখের জল শুকিয়ে যায়। আর দেশে এইসব ভয়াবহ ঘটনা এত ব্যাপকহারে ঘটছে যে হিসাব রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একটা ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আরো ১০টা ক্ষত তৈরি হচ্ছে। আর এই ক্ষতগুলো এতটাই বীভৎস যা, একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে মানসিকভাবে সহ্য করা অসম্ভব।
এইতো সেদিন গলাকাটা অবস্থায় একটি শিশু জঙ্গলে হাঁটছিল। তার কথা বলার শক্তি ছিল না, কারণ শিশুটির শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় ঝুলছিল। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল তার ছোট্ট শরীর, এটি কোনো হরর মুভির দৃশ্য নয়; এটি আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া আরেকটি পাশবিক ঘটনা। জবাই করার আগে সাত বছরের এই শিশুটিকে ধর্ষণও করা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায়। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিশুকেও ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তার প্রতিবেশি। দুদিন পর বাচ্চাটি মারা গেছে।
আছিয়া, মুনতাহা, পূর্ণিমাসহ আরো অনেকেই এখন ভুলে যাওয়া নাম। এদের প্রতি অপরাধের কী বিচার হয়েছে বা হবে তাও জানিনা। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের চাঞ্জল্যকর পূজা ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পরেও সে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল ২০২৪ সালে। পরে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর সবসময়ই প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, আদালত একা ন্যায়বিচার দিতে পারে না; কারণ মামলা দায়ের, তদন্ত পরিচালনা এবং সাক্ষী উপস্থাপনের ৯৯ শতাংশ প্রক্রিয়াই রাষ্ট্র পরিচালিত। ত্রুটিপূর্ণ এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার অভাব আছে। আর সেই আস্থাহীনতার কারণেই ভুক্তভোগীরা মামলা এবং অভিযোগ দিতে নিরুৎসাহিত বোধ করেন, যা শেষপর্যন্ত ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো নতুন সরকারের প্রতি একধরনের সতর্কবার্তা। এইসব অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য একটা জরুরি ব্যবস্থা নিতেই হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ধর্ষণ হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। এটা এতটাই গুরুতর অপরাধ যে রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা করতে পারে এবং এর শাস্তি হতে হবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। এ ধরনের অপরাধ মীমাংসা করা বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার সালিসকারীদের নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সালিশে ধর্ষণের বিচারের রায় নারীর বিপক্ষে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে রামিসার বাবা-মাকে সান্তনা দিয়েছেন এবং বলেছেন যতো দ্রুত সম্ভব বিচারের ব্যবস্থা করবেন। এটা খুবই ইতিবাচক একটি উদ্যোগ। উনি রামিসার বোনেরও দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা বলি এদেশের কত মেয়ের দায়িত্ব উনি নেবেন? এর চাইতে মেয়েরা যেন নিরাপদ থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের যেন দ্রুত বিচার হয়, সেই ব্যবস্থা করুন। তাহলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে শিশু ও নারীরা আদালতেও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। একে উপেক্ষা করে তাঁর ও তাঁর পরিবারের পক্ষে ৮-১০ বছর পর্যন্ত মামলা টেনে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অভিযোগকারীদের পক্ষে মামলার ব্যয়, সামাজিক চাপ এবং দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন।
মামলার এই ধীরগতি ও নিম্ন সাজা হারের পেছনে আছে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, স্বীকৃতির অভাব ও সাক্ষ্য সংকট। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে অনেক সময় সাক্ষ্য-প্রমাণ হারিয়ে যায় অথবা সাক্ষীরা হুমকি ও প্রলোভনের মুখে পিছিয়ে যান। বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মামলা ঝুলে থাকায় অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কাজ করে না।
আমরা দেখেছি রেপ ভিকটিমকে সামাজিক হয়রানির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নরসিংদীর ঘটনায় দেখলাম এভাবে চলে যাওয়ার সময় ভিকটিমকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। মানে দাঁড়ালো এই যে, ভিকটিমকে বিচার চাইতে ও বাঁচতে দেওয়া হবে না। মামলা করলেই যে একজন ভিকটিম বিচার পাবেন, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেই সাথে তাকে হত্যাও করা হতে পারে; তাহলে কেন তারা বিচার চাইবে? দায়মুক্তির সংস্কৃতি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তা ধর্ষণ ঘটনার এই ধারাবাহিকতা দেখে বোঝা যাচ্ছে।
আসলে কোনো সরকারের আমলেই নারী নিরাপদ নয়। এই ভয় ও প্রভাবের কারণে প্রায় সব ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রেই দেখা যায় ধর্ষণের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় না, ধামাচাপা দেওয়া হয়, পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েই গেছে। ধর্ষণের ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরই মামলা হয় না। আর মামলা না হওয়া মানে বিচার না হওয়া। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'আমরা হিসাব করে দেখেছি প্রতি ১০০টি ঘটনার মধ্যে প্রায় ৩০টি ঘটনারই রিপোর্ট হয় না। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সামাজিক ক্ষমতার গতিপ্রকৃতি একই থাকে।' এর অন্যতম কারণ আইনি সহায়তার অভাব।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী মনে করেন, নারীর প্রতি সহিংসতার চার ভাগের এক ভাগও মিডিয়ায় আসে না। কেবল আলোচিত এবং গ্যাং রেপের মতো ঘটনাগুলো সামনে আসে। তারপরেও অপরাধীরা যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে কিন্তু সেই খবরটাও লোকাল মিডিয়া দিতে পারছে না।
আমাদের উদ্বেগটা এখানেই। যেহেতু ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ নানাধরনের টানাপোড়েন, চাপ, লোভ ও ভয়ভীতির মধ্যে থাকে ধর্ষণ মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে; কাজেই সেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে রাষ্ট্র। অথচ আমরা রাষ্ট্রকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখছি না। রাষ্ট্রের ভূমিকা শক্ত হলে পুলিশ, প্রশাসন, আইন ও রাজনৈতিক দলগুলো শক্ত হতে বাধ্য হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ ও ২০২২ সালে মামলার ৫২ শতাংশ ছিল ধর্ষণের, আগের চার বছরে এ হার ৪৮ শতাংশের নিচে ছিল। প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে ধর্ষণের 'বিচার' হচ্ছে সালিশে। সাজা হচ্ছে জরিমানা, চড়-থাপ্পড়। এরকম কয়েকটি ঘটনার কথা সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে শিশু ধর্ষণ, কিশোরী ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ, যার বিচার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
মানবাধিকার সংগঠন সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সালিশে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৪টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৩টি সালিশ হয়েছে ধর্ষণের ঘটনায়। সালিশের ঘটনা আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে খুব প্রচলিত ও সহজ পদ্ধতি। যদিও ধর্ষণের ঘটনার কোনো সালিশ হয় না।
মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, মুফতি নন, এমন কেউ কোনো সালিশে ফতোয়া দিতে পারবেন না। আর ফতোয়া নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ফতোয়ার মাধ্যমে দোররা মারা, বেত্রাঘাত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। শাস্তির বিষয় এলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। ধর্ষণ, হত্যার মতো ঘটনায় প্রচলিত আইনে বিচার হতে হবে। যেখানে-সেখানে গ্রাম্য সালিশ ডেকে ফতোয়া দেওয়া রুখতে গণমাধ্যমের বেশি করে প্রচার চালানো উচিত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সালিশে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নামমাত্র সাজা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জরিমানা করা, চড়-থাপ্পড় দেওয়া কিংবা জুতাপেটা করা হচ্ছে। সালিশকারীরা এর জন্য 'কমিশন' বা আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাঝেমাঝে মনেহয় এভাবে নির্বিচারে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা বন্ধ করতে না পারার ব্যর্থতা আমাদের সবার। প্রতিদিন ২/৩ টি করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখন স্বাভাবিক শব্দ হয়ে গেছে। একটি ঘটনার ঘটার পর অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি, পরক্ষনেই আরো বেশি নৃশংস আরেকটি ঘটনা এসে আগের ঘটনাগুলোর কথা ভুলিয়ে দিচ্ছে, ক্রমশ আমাদের স্মৃতি ও প্রতিবাদ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
কাজেই ধর্ষক ও ধর্ষকামী মানুষকে এমন শাস্তি দিতে হবে যেন সমাজে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে বার্তা পৌঁছে যায়। তাই ধর্ষণ মামলাকে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে রাষ্ট্রকে। আবারও বলছি এক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে রাষ্ট্র।
লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।
