‘সকাল আর রাতের কোনো অস্তিত্ব নেই’: ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়ছে ভারতের ঊষ্ণতম স্থান
সকাল ৬টা বাজতেই উত্তরপ্রদেশের বান্দার আকাশ দেখে মনে হয় যেন ভরদুপুর। গেল মে মাসে ভারতের এই ধূলিময় জেলাটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের শীর্ষে ছিল—দেশের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান। টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাপমাত্রা ছিল ৪৭ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এখানকার মানুষের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। বান্দার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা, যাদের বড় অংশই কৃষি, নির্মাণ বা পরিবহনের মতো খোলা আকাশের নিচের কাজের ওপর নির্ভরশীল, তাদের এই গরম সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তাই তারা গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবনযাত্রাকে নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছিলেন।
জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে আতরা সবজি বাজার। অধিকাংশ শহর ঠিকমতো জেগে ওঠার আগেই এই বাজারের কাজ প্রায় গুটিয়ে আসছিল। ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকেরা টমেটো, লাউ, মরিচ, লেবু ও তরমুজ নিয়ে হাজির হন। তীব্র গরম পড়ার আগেই সবাই দ্রুত মাল বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে মরিয়া।
টমেটোর ক্রেটের পাশে দাঁড়িয়ে হিমাংশু নামের এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, 'সূর্যের দিকে চেয়ে দেখুন। এখন মাত্র সোয়া ৬টা বাজে, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন সকাল ৮টা বা ৯টা।'
গরমের কারণে বাজারের সময় যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি তার সবজির স্থায়িত্বও কমছে। তিনি বলছিলেন, 'এক বক্স টমেটো আজ বা কালকের মধ্যেই বিক্রি করে ফেলতে হবে। এই আবহাওয়ায় এগুলো বেশি সময় টিকবে না।'
যে বাজারে একসময় সকালের শেষভাগ পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকত, এখন তা সকাল ৮টার মধ্যেই ঝিমিয়ে পড়ে। আর সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই পুরো বাজার প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়।
আগুনের মতো আকাশ আর তপ্ত মাটির মাঝখানে পড়ে বান্দার মানুষ এখন কেবল একটু ছায়া আর বাতাসের খোঁজেই নিজেদের সব শক্তি ব্যয় করছে।
পেশায় রাজমিস্ত্রি পাপ্পু ভার্মা এখন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং এরপর আবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করেন। মাঝখানের চার ঘণ্টা সময় তিনি কাটান রোদের তীব্রতা কমার অপেক্ষায়।
তিনি বলেন, 'আপনাকে তো দিনের আট ঘণ্টা কাজ পূর্ণ করতেই হবে। রোদে টানা কাজ করুন বা বিরতি দিয়ে, পারিশ্রমিক একই।'
এই বিরতি তাকে মাথাব্যথা বা গরমে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে তার পুরো দিনটি ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা দীর্ঘ হয়ে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'তা না হলে যা আয় করব, তার পুরোটাই চলে যাবে ওষুধের পেছনে।'
গত সপ্তাহে একদিন দুপুর ২টার দিকে (তখন বান্দার তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল) কেন নদীর ওপর একটি হাইওয়ে ব্রিজে তিন নারী শ্রমিককে একটি পানির ট্যাংকারের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। তপ্ত রোদে গাড়ির নিচের সামান্য ছায়ার মধ্যেই বসে তারা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।
তাদেরই একজন শান্তি দেবী প্রতিদিন সকালে ছয় কিলোমিটার হেঁটে কাজে যান এবং কাজ শেষে আবার ছয় কিলোমিটার হেঁটেই বাড়ি ফেরেন। তার দুপুরের খাবারে ছিল রুটি, পেঁয়াজ, লবণ আর আচার। তিনি বলেন, 'সবজি আনলে দুপুর হতে হতেই তা নষ্ট হয়ে যাবে।'
এরপর তিনি এমন একটি কথা বলেন, যা হয়তো বান্দার এই তাপপ্রবাহের মূল স্লোগান হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, 'গরিব মানুষের গরম নিয়ে চিন্তা করার কোনো বিলাসিতা সাজে না।'
কেন নদীর ওপরে তাদের এই আশ্রয় নেওয়াটা ছিল পরিস্থিতির সাথে একেবারেই মানানসই। বান্দার মানুষের এই গরমের সঙ্গে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এই নদী। গবেষকরা বলছেন, বালি উত্তোলন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চারপাশের পরিবেশকে শীতল করার ক্ষমতা হারিয়েছে নদীটি। এর ফলে পানির অভাব এবং চরম তাপমাত্রা মিলে একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
গরমের এই অর্থনৈতিক প্রভাব এখন সবখানেই দৃশ্যমান।
ই-রিকশাচালকরা দুপুরবেলা কোনো যাত্রীই পান না। দোকানদাররা সূর্য ওঠার আগেই দোকান খোলেন এবং দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তা বন্ধ রাখেন। ক্রেতার সংখ্যাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোদের তীব্রতা যখন সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন পুরো শহর যেন ঘরের ভেতর গুটিয়ে যায় এবং কেবল সন্ধ্যা নামলেই আবার বাইরে বের হয় মানুষ।
তীব্র তাপপ্রবাহের বিষয়ে সতর্ক করে মানুষের মোবাইল ফোনে বারবার সরকারি বার্তা আসছে। সতর্ক ও সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এসব বার্তায়।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও তাপজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। মহিলা জেলা হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক কে কুমার বলেন, 'গরম বাড়ার পর থেকে প্রতিদিন আমরা ১৫ থেকে ২০ জন রোগী পাচ্ছি, যাদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। ডায়রিয়া, বমি এবং জ্বরই হলো সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ।'
বান্দার এই দুরবস্থা মূলত একটি বৃহত্তর প্রবণতারই স্থানীয় রূপ। পুরো ভারতজুড়ে এখন কেবল উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বরং গরম ও আর্দ্রতার এক ভয়ংকর সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে, যা মানবদেহের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।
উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি (যার মধ্যে উত্তরপ্রদেশও অন্তর্ভুক্ত)-কে জলবায়ু গবেষকরা বিপজ্জনক আর্দ্র গরমের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান 'হটস্পট' হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ঘনবসতি, ব্যাপক সেচ ব্যবস্থা, প্রচুর আর্দ্রতা এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের উপস্থিতির কারণে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দৈনন্দিন সাধারণ কাজও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
থিংক ট্যাংক ক্লাইমেট ট্রেন্ডস-এর মতে, বিশাল অরক্ষিত জনসংখ্যা, উন্মুক্ত স্থানে কাজের ওপর নির্ভরশীলতা এবং লাখ লাখ পরিবারের ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তরপ্রদেশ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নয়নের কৌশলগুলো মিলে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
বান্দা কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত। এখানকার নদীগুলোর পানি কমে যাওয়ায় বালু, পাথর আর নুড়ির স্তর বেরিয়ে পড়েছে, যা তাপ শোষণ করে আবার বিকিরণ করে। গাছপালার জায়গা দখল করে নিয়েছে কংক্রিট।
গাছপালার পরিমাণ প্রয়োজনীয় স্তরের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। বান্দা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জেলার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ ঘন বনভূমি হারিয়ে গেছে, যার প্রধান কারণ খনি খনন এবং কৃষির বিস্তার।
এইসব কারণ মিলে বান্দাকে চরম তাপমাত্রার সামনে আরও অসহায় করে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ দিনেশ সাহ-এর মতে, এই জেলায় আগেও ৪৮-৪৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে টানা দুই দিন পারদ ৪৯ ডিগ্রি ছুঁয়েছিল।
কিন্তু এবারের গ্রীষ্মের অস্বাভাবিক দিক ছিল এর স্থায়িত্ব। তিনি বলেন, 'টানা আট বা নয় দিন ধরে ৪৭-৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা বজায় ছিল। এটাই ছিল নতুন এবং নজিরবিহীন ঘটনা।'
স্থানীয় কৃষক প্রেম সিং বলেন, এই অঞ্চলে প্রতি বছর চরম গরম পড়া নতুন কিছু নয় এবং ফসলের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু তিনি চিন্তিত এর ক্রমবর্ধমান তীব্রতা নিয়ে। এর জন্য তিনি বনভূমি কমে যাওয়া, ব্যাপক খনি খনন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির প্রসারকে দায়ী করেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'এসির ব্যবহার ধনীদের জীবন সহজ করলেও গরিবদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।'
সূর্যাস্তের অনেক পরেও তাপ কমে না। আবহাওয়াবিদ সাহ বলেন, 'এখন মনে হয় সকাল বা রাত বলে আর কিছুর অস্তিত্ব নেই।'
সকাল ৭টা বা ৮টা বাজতেই মনে হয় ভরদুপুর। রাতের তাপমাত্রাও ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকে। ফলে মানুষের শরীর জুড়ানোর আর সময় পায় না।
বান্দা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের আছরাউন্দ গ্রামের লড়াইটা কেবল তাপমাত্রা নিয়ে নয়, বরং পানি নিয়ে। গ্রামের ব্যবহারযোগ্য খাবার পানির বেশিরভাগই আসে একটি মাত্র কুয়ো থেকে। প্রতিদিন আগুনের মতো তপ্ত আকাশের নিচে বালতি হাতে লাইনে দাঁড়ান নারীরা।
১৮ বছর বয়সী ক্রান্তি বিশ্বকর্মা তার পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করতে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। দুপুরে যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন একমাত্র স্বস্তি মেলে নিম গাছের ছায়ায়।
ক্রান্তি বলেন, 'আমাদের কোনো কুলার বা এসি নেই। আমাদের জন্য নিম গাছগুলোই সেই ভূমিকা পালন করে।'
পুরো গ্রাম জুড়েই প্রাণীকুল নিজেদের মতো করে বাঁচার চেষ্টা করছিল। দুপুরবেলা কয়েক ডজন মহিষকে পুকুরের পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন রাখাল মহিষগুলো উঠে আসার অপেক্ষায় পাড়ে বসে ছিলেন।
সেখানেই দেখা হলো ৬০ বছর বয়সী রামেশ্বর যাদবের সঙ্গে। তিনি একসময় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, এখন মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৪৬ ডিগ্রি রোদেও তিনি শীতকালের মতো বেশ ভারী কাপড় পরে ছিলেন এবং মাথায় একটি চাদর জড়িয়ে রেখেছিলেন।
কৌতূহলী আগন্তুককে এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'ভারী কাপড় সূর্যের তাপ শরীরে পৌঁছাতে বাধা দেয়। এই মোটা কাপড় আমাদের সরাসরি রোদ আর লু হাওয়া থেকে বাঁচায়। হ্যাঁ, এতে আমাদের ঘাম হয় ঠিকই, কিন্তু শরীর খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা পাই।'
বান্দার আর দশটা মানুষের মতো রামেশ্বরও খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। তবে এই টিকে থাকা আর শান্তিতে থাকা তো এক কথা নয়।
গত শুক্রবার শেষমেশ একটি 'পশ্চিমি ঝঞ্ঝা'র প্রভাবে ধূলিঝড় ও বৃষ্টি নামে। তাপমাত্রা মুহূর্তেই ৮-৯ ডিগ্রি কমে যায়। হাফ ছেড়ে বাঁচে জেলার মানুষ। কিন্তু এই স্বস্তি ছিল সাময়িক। সূর্য ওঠার আগেই কাজ শুরু করা, দুপুরে ঘরের ভেতর গুটিয়ে থাকা কিংবা একটু ছায়ার খোঁজে দৌড়ানো—বান্দাবাসীর এসব রুটিন এখন কেবল কৌশলে খাপ খাইয়ে নেওয়া নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য এক অপরিহার্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে-র গবেষক পীযূষ নারাং ও অশোক গ্যাডগিলের এক গবেষণা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে মাত্র পাঁচ দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে ৮,০০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে, যা ভারতের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় বেশি। আর এই মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ, খোলা আকাশের নিচের শ্রমিক এবং সেই সব পরিবারের জন্য যাদের ঘর ঠান্ডা রাখার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই।
তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা যতটা আতঙ্কিত, বান্দার সাধারণ মানুষ সম্ভবত ততটা বিচলিত নন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই উত্তাপের সঙ্গেই বাস করছেন। গবেষকদের আসল দুশ্চিন্তা কেবল জেলার উত্তাপ নিয়ে নয়; বরং এই গরম এখন আগের চেয়ে আরও তীব্র হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে। তার ওপর সমানে গাছ কাটা পড়া আর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
কেন নদীর ওপর পানির ট্যাংকারের নিচে আশ্রয় নেওয়া সেই নারী শ্রমিকরা বিপদের কথা হেসেই উড়িয়ে দিলেন। বরং আগন্তুককে সতর্ক করে দিয়ে তারা বললেন, 'আপনার হিটস্ট্রোক হতে পারে, আমাদের তো এসবে অভ্যাস হয়ে গেছে।'
