অনুমোদন ছাড়া সৌদি পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণা, জ্বালানিমন্ত্রীর ওপর চটলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়াই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। পরে তিনি হঠাৎই জানিয়ে দেন, সৌদি আরবকে এই চুক্তি কার্যকর করতে হলে আগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ট্রাম্পকে আগে থেকে জানাননি যে তিনি চুক্তিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। বুধবার এই ঘোষণার পর হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা বিস্মিত ও অসন্তুষ্ট হন।
যদিও ঘোষণার আগের দিনই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ রাখার সম্ভাবনার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে চুক্তিতে।
খবরে আরও বলা হয়, চুক্তিটি নিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে ট্রাম্প বিরক্ত হন।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, শেষ মুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যোগ করতে রাজি করিয়েছিলেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লিভিট জানান, ওই সময়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো কথা হয়নি।
সিএনএন উল্লেখ করেছে, ফক্স নিউজের একটি প্যানেল চুক্তিটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এখানে "কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকবে না।" অর্থাৎ, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবকে নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার দেওয়া হবে না।
তিনি লেখেন, এই চুক্তি শুধু বেসামরিক ব্যবহারের জন্য, যেমনটি ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে রয়েছে। তবে এটি অনুমোদিত হবে কেবল তখনই, যখন সৌদি আরব সম্মানিত ও সফল আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার শর্ত হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় গেলে তিনি সেই শর্ত বহাল রাখবেন না- এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ট্রাম্প এমন সময় এই পোস্ট করলেন, যখন ইসরায়েল সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের শর্ত ছাড়াই পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে সমঝোতা না হলে তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না। তবে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের জন্য এই শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
হোয়াইট হাউসের দাবি, সৌদি আরব আগেই জানত যে চুক্তিটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। যদিও চুক্তি ঘোষণার সময় এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
ক্যারোলাইন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, "চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সব সময় প্রেসিডেন্টই নেন।"
তিনি আরও বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এমন একটি বিষয়, যাকে ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং অতীতেও এ নিয়ে কথা বলেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি এই অবস্থান বজায় রাখবেন।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব 'কোনো এক সময়' ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কারণে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে দ্বিধায় ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর হামলার পর সেই সমস্যা আর নেই।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, কখনোই প্রকাশ্যে বলেনি যে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে না।
