খামেনির জানাজায় ৩ ছেলের মোনাজাত, দেখা মেলেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবার
গত রোববার ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে তার তিন ছেলে মোনাজাত করেছেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছেলে মোজতবাকে সেখানে দেখা যায়নি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, মোস্তফা, মাইসাম এবং মাসুদ খামেনি তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বিশাল প্রাঙ্গণে রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে এক বিমান হামলায় তাদের বাবা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
মোজতবার কোনো দেখা নেই
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালায়, তখন সেই হামলায় মোজতাবা আহত হন বলে জানা যায়। ওই একই হামলায় তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হয়েছিলেন। তবে মোজতবার এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি কিংবা কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
মোজতবার ঘনিষ্ঠ মহলের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং তিনি এক বা উভয় পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
জানাজার অনুষ্ঠানে একজন শোকাতুর নারী জানান, তিনি আশা করেছিলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে দেখতে পাবেন।
দেশটির একটি অর্ধ-সরকারি বার্তা সংস্থা 'তাসনিম'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেকআপ ও সানগ্লাস পরিহিত এক তরুণী বলেন, 'নামাজ শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি আমার চারপাশের মানুষদের বলছিলাম যে, আমি আশা করি (মোজতবা খামেনি) নিজে আসবেন। এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া ছিল।'
ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তির অধীনে চার মাস ধরে চলা এই যুদ্ধটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। ইরান সরকারের মতে, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে, যা তারা একটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে বর্ণনা করছে।
যুদ্ধ চলাকালীন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কমান্ডার রয়েছেন। সামরিক ঘাঁটি এবং প্রধান প্রধান অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে, সেসব ঘাঁটির আশ্রয়দাতা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে সংকটে ফেলেছে৷ এছাড়া দেশটি হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়।
