স্কুল-কলেজে মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
স্কুল ও কলেজে মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণের ওপর বিভিন্ন রাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
দুটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের করা পৃথক মামলার শুনানির পর আদালত এই রায় দেন। এসব শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের আইদাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে এমন আইন করে, যেখানে সরকারি স্কুল ও কলেজের ক্রীড়াদলগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়।
দুটি মামলার একটিতে বলা হয়, এ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত সমান অধিকারের সুরক্ষার পরিপন্থী।
অন্য মামলায় দাবি করা হয়, এটি দেশটির নাগরিক অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২০২০ সালে আইদাহো এ আইন প্রণয়নের পর থেকে দুই ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে ট্রান্সজেন্ডার নারীরা—অর্থাৎ যিনি জন্মগতভাবে পুরুষ, কিন্তু নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দেন—স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবেন না।
দৌড়বিদ লিন্ডসে হেকক্স আইদাহোর আইনটির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন। পরে একটি জেলা আদালত এবং একটি আপিল আদালত তার পক্ষে স্থগিতাদেশ দেন।
এই আইনের পক্ষের আইনপ্রণেতাদের দাবি, এর ফলে 'ছেলে ও পুরুষরা খেলাধুলায় মেয়ে ও নারীদের স্থান নিতে পারবে না, কারণ এটি অন্যায্য।'
তবে আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ তাদের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, আইদাহোর আইনটি সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তারা বলেন, নারী ক্রীড়াবিদদের 'লিঙ্গভিত্তিক সমতা ও সুযোগ' রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর—এমন প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে অঙ্গরাজ্যটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন।
গত বছর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যার লক্ষ্য ছিল নারীদের ক্রীড়া দলে ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।
এর পর যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনসিএএ নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।
