বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের ভিসা দিলেও কর্মকর্তাদের আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ইরানের
ওয়াশিংটন ইরানি ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিলেও, দলের 'অপরিহার্য' ১৫ জন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের প্রথম ম্যাচের ১০ দিন আগে গত শুক্রবার খেলোয়াড় এবং 'প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের' ভিসা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ইরানকে কোনোভাবেই 'এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কোনো সন্ত্রাসী যেন মিথ্যা পরিচয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে।'
তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে 'খেলাধুলায় রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপ' বলে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ, দলের বিপুল সংখ্যক কারিগরি উপদেষ্টা, ব্যবস্থাপনাকারী ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, ভিসা প্রত্যাখ্যান করা এই ১৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া ডিরেক্টরও রয়েছেন।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার তুরস্কের ক্যাম্প থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইরান দল। ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে রবিবার ভোরে তাদের মেক্সিকোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, কঠিন এই ভিসার শর্ত অনুযায়ী—'খেলোয়াড়দের কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষে ওই দিনই দেশ ত্যাগ করতে হবে।'
ইরানি ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আইওয়াশ বা 'ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, 'আপনারা এখন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত এবং বৈষম্যমূলক আচরণকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।' এ কারণেই তারা ফিফার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইরান ২০১৫ সালের মার্চ মাসে বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যোগ্যতা অর্জন করেছিল, যার প্রায় এক বছর পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে এবারই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের 'ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি' বিবিসি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা 'আমেরিকান জনগণ এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।' সংস্থাটি লস অ্যাঞ্জেলেসসহ ১১টি ভেন্যুর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা 'ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত কাউকে দলে রাখা যাবে না। অথচ ইরান দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে অতীতে বাধ্যতামূলক সামরিক সার্ভিসের অংশ হিসেবে আইআরজিসির অধীনে কাজ করতে হয়েছে। এই কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত ফুটবলারদের ওপরও কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে এখন বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
