কিয়েভে বড় হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার; বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের শহর ছাড়ার নির্দেশ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার জানিয়েছেন, মস্কো সকল কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তাদের কর্মী ও নাগরিকদের অবিলম্বে কিয়েভ ছাড়তে বলার পরামর্শ দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান স্মরণে ৮ ও ৯ মে দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। কিয়েভকেও এই যুদ্ধবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছিল মস্কো। তবে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিজয় দিবসের উৎসব চলাকালীন মস্কোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতেই কিয়েভে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক আঘাতের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করল রাশিয়া।
মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, মস্কোর এই সতর্কবার্তাকে 'সর্বোচ্চ গুরুত্বের' সঙ্গে নিতে হবে। তিনি জানান, রাশিয়ায় স্বীকৃত সকল কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে।
জাখারোভার উদ্ধৃতি অনুযায়ী ওই নোটে বলা হয়েছে, "ইউক্রেন যদি তাদের 'অপরাধমূলক সন্ত্রাসী পরিকল্পনা' বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভের 'সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলো'সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনিবার্যভাবে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালাবে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও সংস্থাগুলোর উচিত তাদের কূটনীতিক, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কিয়েভ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।"
রাশিয়া বিজয় দিবস সম্পর্কে পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং 'ইতিহাস নতুন করে লেখার' ও 'পরিকল্পিতভাবে সোভিয়েত স্মৃতিসৌধ ধ্বংস করার' প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত আছে বলে জাখারোভা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "যেহেতু তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করা অব্যাহত রেখেছে, তাই তারা কিয়েভ প্রশাসনের সাজানো অপরাধমূলক পরিকল্পনার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তবে আত্মরক্ষার সহজাত প্রবৃত্তি যেন তাদের ব্যর্থ না করে।"
মস্কোর দেওয়া ৮ ও ৯ মে-র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কিয়েভ মেনে চলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর জেলেনস্কি এই যুদ্ধবিরতিকে 'অন্যায়' বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, কিয়েভকে "আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরণের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি"। এর কয়েক ঘণ্টা পর জেলেনস্কি নিজেই ৫ ও ৬ মে মধ্যরাত থেকে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি আরও যোগ করেন, মস্কোর কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে কিয়েভও 'পাল্টা প্রতিক্রিয়া' দেখাবে।
জেলেনস্কির এই ঘোষণার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি রাশিয়া। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের দূরপাল্লার হামলার তীব্রতা কিছুটা কমলেও সংঘাত এখনো চলছে। জেলেনস্কির প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া মেনে চলবে কি না—সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও ইউক্রেনীয় নেতার অভিযোগ, বুধবার দিনজুড়ে রাশিয়া প্রায় ২,০০০ বার ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, রাশিয়া মূলত 'জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টাকে অবজ্ঞা করার' পথ বেছে নিয়েছে।
ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বড় ছুটির দিনে রাশিয়া বারবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এই সাময়িক বিরতিগুলো বিভিন্ন মাত্রায় সফল হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তুলেছে। গত মাসে ইস্টার উৎসব উপলক্ষে মস্কো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। তবে রুশ সামরিক বাহিনীর দাবি, মাত্র ৩২ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেনীয়রা ৬,৫০০ বারেরও বেশি সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
