মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ‘কার্যত শেষ’: সাক্ষাৎকারে মালিহা লোদি
টানা ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর কীভাবে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হলো? মালিহা লোদি, যিনি ৯/১১-এর সময় যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি বলছেন—ব্যক্তিগত সুসম্পর্কই ইসলামাবাদকে এই অঞ্চলের একমাত্র কার্যকর 'শান্তি মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার কাছে এই সপ্তাহের আলোচনার গুরুত্ব আরও ব্যাপক; কারণ এটি বিশ্ব রাজনীতিতে 'মধ্যম শক্তি'র দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ।
মেশাল হোসেন শো পডকাস্টের জন্য নেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রতিটি অংশ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
পর্দার আড়ালে এমন কী ঘটছিল যা এই আলোচনাকে সম্ভব করল?
মালিহা লোদি বলেন, "পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উভয়ই টেলিফোনে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আমি যতটুকু শুনেছি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান [ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির] বিশেষ করে চুক্তি হওয়ার আগের শেষ কয়েক দিন ওয়াশিংটনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে ছিলেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী [শাহবাজ শরিফ] নিয়মিত কথা বলছিলেন ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত প্রতিকূল মনে হচ্ছিল—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন কড়া মন্তব্য শুরু করলেন, তখনও তারা হাল ছাড়েননি। ওই সময় এটা স্পষ্ট ছিল না যে ট্রাম্পের সেই 'একটি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার' মতো হুমকিগুলো কেবলই বাগাড়ম্বর না কি এমন কিছু যা ইরানিদের এতটাই ক্ষুব্ধ করবে যে তারা সবকিছু ভেস্তে দেবে।"
আসিম মুনির ও ট্রাম্পের মধ্যে এই ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক তৈরি হলো কীভাবে?
লোদি বলেন, "এই ব্যক্তিগত সম্পর্কটি তৈরি হয়েছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একেবারে শুরুতে, যখন পাকিস্তান তাকে একটি 'আর্লি উইন' বা প্রাথমিক সাফল্য উপহার দিয়েছিল। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলার জন্য দায়ী এক সন্ত্রাসীকে পাকিস্তান গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়। ট্রাম্প এই পদক্ষেপে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি কংগ্রেসে তার প্রথম ভাষণে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।"
তিনি আরও জানান, "ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত প্রশমনে ট্রাম্প যখন ভূমিকা রাখেন, তখন পাকিস্তানের নেতারা বারবার তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকেন। এরপর ট্রাম্পের নাম 'নোবেল শান্তি পুরস্কারের' জন্য প্রস্তাব করা—ব্যক্তিগতভাবে আমি যার সমালোচক ছিলাম—তা ট্রাম্পকে খুশি করতে কাজ করেছিল। ট্রাম্প পাকিস্তানি নেতৃত্বের, বিশেষ করে মুনিরের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।"
কিন্তু তোষামোদির এই মাত্রা তো অনেক পাকিস্তানিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে?
লোদি বলেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই। সেখানে কিছু বিশেষ সুবিধাজনক ব্যবসায়িক চুক্তিও ছিল। পাকিস্তান তাদের দেশে 'ক্রিটিক্যাল মিনারেলস' বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলনের জন্য ট্রাম্পের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ট্রাম্পের এজেন্ডায় শীর্ষে ছিল। এই সব কিছুই পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে সাহায্য করেছে।"
ইরানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কও তো অনেক সময় জটিল ছিল? ২০২৪ সালে একে অপরের মাটিতে আপনারা হামলাও চালিয়েছেন।
লোদি বলেন, "ইরানের সাথে সম্পর্কের অনেক চড়াই-উতরাই আছে। ২০২৪ সালের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুই দেশই সম্পর্ক মেরামতের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর [১২ দিনের যুদ্ধের সময়] পাকিস্তান ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সব মুসলিম দেশের মধ্যে পাকিস্তানই সম্ভবত ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশে সবচেয়ে সরব ছিল, যার জন্য ইরানি নেতারা প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর লারিজানিসহ (যিনি পরে নিহত হন) অনেক ইরানি নেতার পাকিস্তান সফর এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।"
তার মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কোনো বিকল্প দেশ ছিল না। আরব দেশগুলো এই দৌড়ে ছিল না। ওমানেরও তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। কেবল পাকিস্তান ও তুরস্কই বাকি ছিল, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আসিম মুনিরের মতো ঘনিষ্ঠতা তুরস্কের ছিল না।
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
মালিহা লোদি জানান, "পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত মানেই ছিল চরম অর্থনৈতিক কষ্ট। সরকারকে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করতে হয়েছে। কারণ পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। আমাদের অর্থনীতি এমনিতেই ভঙ্গুর এবং আইএমএফ-এর প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আমাদের অর্থনীতি কক্ষপথ থেকে ছিটকে যেত।"
ইরান খুব উচ্চাভিলাষী দাবি নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
লোদি বলেন, "উভয় পক্ষই এখন এমন একটি আখ্যান (ন্যারেটিভ) তৈরি করেছে যেখানে তারা নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারে। আমি মনে করি উভয় পক্ষই জানে তাদের শর্তগুলো চরমপন্থী। প্রশ্ন হলো তারা কোনো সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে কি না। ওমান যখন মধ্যস্থতা করছিল তখন তারা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তাই হয়তো তারা আবারও সেই ধরনের কোনো চুক্তিতে ফিরে যেতে পারে।"
"তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে 'হরমুজ প্রণালী'। ট্রাম্প এখন বলছেন তিনি ইরানের সাথে মিলে এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করতে চান। অন্যদিকে ইরান ওমানকে সাথে নিয়ে কাজ করতে রাজি হলেও অন্য কাউকে সেখানে দেখতে চায় না। ইরান বলছে, এতদিন সবাই বিনামূল্যে যাতায়াত করেছে, এখন থেকে তারা সমুদ্রপথে যাতায়াতের জন্য মাশুল (Fees) নেবে—এটি একটি চরম অবস্থান।"
(দ্রষ্টব্য: ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালীর আঞ্চলিক অধিকার ভাগাভাগি করে, তবে ওমানের পরিবহন মন্ত্রী যাতায়াত ফি নেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন।)
লেবানন নিয়েও তো মতভেদ আছে?
লোদি বলেন, "আমরা জানি লেবানন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। শাহবাজ শরিফ বলছেন লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ, কিন্তু ইসরায়েল বলছে এটি তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো ইসরায়েল কি এই যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করবে? যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে ট্রাম্পের অক্ষমতাকে তুলে ধরে, তবে আমরা খুব চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হব।"
(দ্রষ্টব্য: এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরপরই লেবাননে ইসরায়েলের বড় হামলার খবর আসে যেখানে ২০৩ জন নিহত হন।)
এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের সম্ভাবনা কতটুকু?
লোদি বলেন, "আমি আশাবাদী হতে চাই। উভয় পক্ষই জানে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া মানেই সবার জন্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এখন দুপক্ষই 'বিজয়' দাবি করার সুযোগ পাচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরু হলে তারা হারাবে। এটিই চুক্তির জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তারা প্রতি সাত মাস অন্তর যুদ্ধে জড়াতে পারে না; এর ব্যয় অনেক বেশি।"
আমেরিকা কি হরমুজ প্রণালীর বিষয়টি নিয়ে আগে ভাবেনি?
লোদি বলেন, "একদমই তাই। আমেরিকানরা বেশ কিছু ভুল হিসাব করেছিল, এটি ছিল তার মধ্যে অন্যতম। অন্যটি ছিল এই ধারণা যে—ইরানের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বহীন করলে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদের শক্তিকে খাটো করে দেখেছে। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো ইরানেও তারা একই ভুল করেছে। তারা ভেবেছিল হামলা করলে সরকারের বিরোধীরা জেগে উঠবে, কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব হয়েছে উল্টো। মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।"
৯/১১ পরবর্তী অভিজ্ঞতার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির মিল কোথায়?
লোদি স্মরণ করেন, "৯/১১-এর শুরুতে আমাদের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকানদের বলেছিলেন—আফগানিস্তান দখল করতে যেও না। সামরিক অভিযান হতে হবে সংক্ষিপ্ত এবং সূক্ষ্ম। দখলদার বাহিনী হওয়া যাবে না। কারণ আমরা জানি এ অঞ্চলের মানুষ বাইরের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। যুক্তরাষ্ট্র নিজের দেশের গর্ববোধ বোঝে কিন্তু অন্য দেশের মানুষেরও যে সমান আত্মমর্যাদা আছে, তা তারা বুঝতে চায় না।"
বিশ্ব ব্যবস্থায় কি বড় কোনো পরিবর্তন আসছে?
তিনি বলেন, "আশা করি এবারের শিক্ষাটা হবে এই যে—সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয় না। আমরা এখন একটি বহুমুখী বিশ্বের দিকে যাচ্ছি যেখানে আমেরিকার একক আধিপত্যের যুগ মূলত শেষ। এটি পাকিস্তানের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলোর গুরুত্বও তুলে ধরেছে যারা এখন ভূ-রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারছে।"
পাকিস্তানের রাজনীতিতে কি এতে গণতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে? কারণ মূল খেলোয়াড় তো একজন অনির্বাচিত সেনাপ্রধান।
এর উত্তরে লোদি বলেন, "পাকিস্তানে স্বাগতম। আমাদের ইতিহাসের বড় অংশই এমন। আমাদের একটি হাইব্রিড সরকার রয়েছে যেখানে ক্ষমতা বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ভাগ করা থাকে। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীই কূটনীতির বড় অংশ পরিচালনা করেছে। আপনি বলতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী যুক্ত ছিলেন না—অবশ্যই তিনি ছিলেন—তবে পাকিস্তানের রাজনীতির ধরনই এমন।"
(দ্রষ্টব্য: পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে ইমরান খানকে অপসারণের পর বর্তমানে তিনি ৯০০ দিনের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন।)
আধিপত্য শেষ হওয়ার কথা বলছেন, তবে ট্রাম্প তো বলছেন এটি মধ্যপ্রাচ্যের 'স্বর্ণযুগ' হবে। যুক্তরাষ্ট্র কি তার ঘাঁটিগুলো তুলে নেবে?
লোদি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রকে এখন নতুন করে ভাবতে হবে—হাজার হাজার সৈন্য এই অঞ্চলে রেখে লাভ কী যদি তারা নিজেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে? ইরাকের আগেও তারা সেখানে কী করেছিল? আধিপত্য কমার এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের; এই যুদ্ধ শুধু সেটি আরও স্পষ্ট করেছে। যুদ্ধের ফলে আগের সেই প্রবণতাগুলোই আরও শক্তিশালী হয়েছে।"
বিজয়ী কি তবে চীন?
লোদি বলেন, "রিপোর্ট অনুযায়ী চীনই শেষ পর্যন্ত ইরানকে রাজি করিয়েছে। অবশ্যই চীন এর সুফলভোগী। এই ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতার শক্তি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে যার খামখেয়ালি আচরণ বিশ্ববাণিজ্য থেকে শুরু করে সবকিছুকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এই পার্থক্যটি বিস্ময়কর।"
আগামী ৩ বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র কেমন দেখছেন?
মালিহা লোদি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য চিরতরে বদলে গেছে। আগের অবস্থায় আর ফেরার সুযোগ নেই। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পরিত্যক্ত বোধ করছে। তারা দেখেছে মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রছায়া তাদের রক্ষা করেনি, বরং আমেরিকা শুধু ইসরায়েলকেই প্রাধান্য দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এখন পিছু হটবে এবং শূন্যস্থানে কারা আসবে তা নির্ভর করছে নতুন মেরুকরণের ওপর।
ভারতের অবস্থান কোথায়?
লোদি বলেন, "ভারত ইতিহাসের ভুল দিকে অবস্থান নিয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতে 'ট্রাম্পের' মতো নীতি নিয়েছেন এবং ভারতের ঐতিহ্যগত জোটের ধারা বদলে দিয়েছেন। এর ফলে পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়া থেকে বেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মতো বড় পরিসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে।"
বোর্ড অফ পিস সম্পর্কে আপনার মত কী?
লোদি বলেন, "আমি পাকিস্তানের বোর্ড অফ পিসে যোগ দেওয়ার সমালোচক ছিলাম। ট্রাম্প গাজা নিয়ে তার পরিকল্পনাকে বৈধতা দিতে চেয়েছিলেন এবং আমি মনে করি না পাকিস্তানের সেখানে থাকা উচিত ছিল। এখন মনে হচ্ছে ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ড নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন। এটি দুঃখজনক যে ফিলিস্তিনি ইস্যুটি ইরান যুদ্ধের কারণে আড়ালে পড়ে গেছে।"
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আপনার শেষ পরামর্শ কী?
মালিহা লোদি বলেন, "জাতিসংঘে আমরা প্রায়ই বলতাম—নিজের স্বার্থের পাশাপাশি অন্যের উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। নমনীয়তা দেখান, যাতে একটি অভিন্ন সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। নতুবা কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।"
