ইরান সংঘাত থেকে ট্রাম্পকে ‘বের করে আনতে’ মিত্রদের সহায়তা চায় কাতার ও আরব আমিরাত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত না করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করাতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার।
সংঘাত যাতে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় কোনো ধাক্কা না লাগে, সে জন্য দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধান চাইছে দেশ দুটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নেপথ্যে থেকে দুই দেশই তাদের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো, একটি বড় জোট গঠন করে ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো, যাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান দ্রুত শেষ করা হয়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত যদি ওই অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, তবে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে।
গত সোমবারই গ্যাসের দাম অনেকটা বেড়েছে। ইরানি ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কাতার। এর প্রভাবে ইউরোপে গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি কাতার ও আমিরাত—উভয় দেশই নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে তোড়জোড় শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছে আমিরাত। অন্যদিকে ব্যালিস্টিক মিসাইলের চেয়ে ড্রোন হামলা এখন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে কাতারের জন্য। তাই ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা চাইছে দোহা।
ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথির তথ্য বলছে, বর্তমানে যে হারে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে কাতারের কাছে থাকা 'প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর' মিসাইলের মজুত দিয়ে আর মাত্র চার দিন চলা যাবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি ইউরোপের একাধিক নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ফ্রিডরিখ মার্জ রয়েছেন।
