যত কঠোর সমালোচনা, ততই দর্শক আকৃষ্ট হয় ‘বাজে সিনেমা’র প্রতি, কেন?
নতুন 'ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস' সংস্করণ নিয়ে সিনেমা-সমালোচকরা একযোগে হতাশার সুর তুলেছেন। আইস কিউবের অভিনীত মুভিটিতে দেখা যায়, এক মানুষ চেয়ারে বসে এলিয়েনদের আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। কিন্তু সেই লড়াই দর্শকদের মন ছুঁতে পারেনি।
'এইচজি ওয়েলসের চিরজীবী কাহিনীর সবচেয়ে বাজে রূপান্তর'—এমন তীব্র অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। কেউ আবার বলছেন, 'এই দশকের সবচেয়ে দুর্বল ছবির তালিকায় এর জায়গা নিশ্চিত'। এমনকি 'সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ চলচ্চিত্র'—এই খেতাবটাও পেতে হয়েছে ছবিটিকে।
কিছু মানুষ মুভিটির কঠোর সমালোচনায় আনন্দ পেলেও, অনেকেই তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে বসেছেন এই 'খারাপ' ছবির প্রতি!
'দ্য হোয়াইট লোটাস' সিরিজের অভিনেতা প্যাট্রিক শোয়্যার্জেনেগার—যিনি আর্নল্ড শোয়্যার্জেনেগারের ছেলে—টুইটে লেখেন, 'এটা আমাকে দেখতে হবে!'। এমন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, যে ছবিটা যতই বাজে হোক না কেন, কৌতূহল সৃষ্টি করতে যেন বাধ্য।
কঠোর সমালোচনার মাঝেও এই ছবির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া নতুন কিছুই নয়। আসলে অনেক 'খারাপ' ছবিই 'এতটাই বাজে যে ভালো'—এমন তকমা পেয়ে বিশেষ ভক্তসমাজ গড়ে তোলে।
'দিস উইক ইন স্টার্টআপস' পডকাস্টের এক্সিকিউটিভ প্রযোজক লন হ্যারিস বলেন, 'রটেন টমেটোজে ৫%-এর নিচে নামা আমার কাছে প্রায় ততোধিক আকর্ষণীয়, যতটা আকর্ষণীয় ৯০% ছাড়িয়ে যাওয়া।'
একটি ছবি যদি খুবই খারাপ রেটিং পায়, তাহলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে, হ্যারিস বিবিসিকে বলেন।
'খুবই কম রেটিং মানে সবার মধ্যে একমত হওয়া—এই ছবি খারাপ। এখন আমি জানতে চাই কেন সবাই একমত? হঠাৎ করেই আমার আগ্রহ জন্মেছে।'
হ্যারিস 'ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস' দেখতে গিয়ে যথাযথভাবে তার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, 'মুভিটা বেশ বাজে, আইস কিউবের একক অভিনয় ও বেশ কিছু দৃশ্য অনেক সময় আমার কাছে প্যারোডির মতো লেগেছে এবং হাসিয়েছে।'
ব্রিস্টল ব্যাড ফিল্ম ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা টিমন সিংহ বলছেন, সাধারণ ভুলে যাওয়ার মতো সিনেমার চেয়ে একেবারে খারাপ, কিন্তু মজাদার সিনেমাগুলো দেখতে বেশি ভালো লাগে।
তিনি বলেন, 'আমি এমন সিনেমাও দেখেছি যেখানে ছবির ফোকাস নেই, শুটিং ক্রু ক্যামেরার সামনে চলে এসেছে, এমনকি অভিনেতার পাগড়িও পড়ে গেছে—তবু সিনেমাটি দেখতে মজার।'
তিনি আরও বলেন, অনেক বড় বাজেটের ব্লকবাস্টারগুলো কখনও কখনও বিরক্তিকর হয়ে পড়ে। উদাহরণ দিয়ে তিনি ২০১৭ সালের 'ট্রান্সফরমারস: দ্য লাস্ট নাইট'কে উল্লেখ করেন।
'তুলনায় 'সামুরাই কপ' যদিও প্রযুক্তিগতভাবে খুব খারাপ সিনেমা, কিন্তু এর ৯০ মিনিটের বাজে অভিনয়, খারাপ লড়াইয়ের দৃশ্যগুলো এতটা মজার যে একবার দেখলে ভুলে যাওয়া যায় না। আর 'ট্রান্সফরমারস: দ্য লাস্ট নাইট' হয়তো দেখতে দেখতে আপনি ভুলে যাবেন।'
২০০৩ সালের 'দ্য রুম' এর কথা না বললেই নয়। ডেইলি বিস্ট এটিকে 'একটি ট্র্যাশ মাস্টারপিস' হিসেবে বর্ণনা করেছে।
'দ্য রুম' নির্মাণ করেছেন 'খারাপ সিনেমার বিশেষজ্ঞ' টমি ওয়াইজাউ। রটেন টমেটোজে ছবিটির রেটিং ২৪%, যা তুলনামূলকভাবে সম্মানজনক মনে করা হয় কারণ এটি অদ্ভুতভাবে উপভোগ্য হিসেবে ধরা হয়।
'জাঙ্ক ফিল্ম: হোয়াই ব্যাড মুভিস ম্যাটার' বইয়ের লেখিকা ক্যাথরিন কোল্ডায়রন বলেন, ওয়াইজাউয়ের মতো একজন পরিচালক যখন আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, সেটা দেখার মতো ঘটনা। আর যিনি শুধু ফর্মালিটিতেই ছবি তৈরি করেন, তাদের কাজ দেখাটা তেমন আকর্ষণীয় হয় না।
তিনি বলেন, 'যখন কোনো ছবি আন্তরিকভাবে তৈরি হয় এবং ব্যর্থ হয়, তখন সেটি দেখাই আনন্দের।'
তার প্রিয় বাজে সিনেমা ১৯৮৩ সালের 'স্টেইয়িং আলাইভ'। এটি ডিস্কো ক্লাসিক 'স্যাটারডে নাইট ফিভার'-এর সিক্যুয়েল এবং পরিচালনা করেছেন সিলভেস্টার স্ট্যালোন। যদিও বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও, সমালোচকদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল এটি।
তিনি বলেন, "ছবিটির চরিত্রগুলোর মধ্যে মাত্র একজন ছাড়া বাকিরা সবাই সোসিওপ্যাথ, তাই সিনেমাটি প্রায় কোনো দিক থেকেই সফল হয়নি। তবুও আমি এটা চালিয়ে রেখে রাগ করে দেখতে ভালোবাসি।"
সব সময়ের সবচেয়ে খারাপ সিনেমাগুলোর একটি নিজস্ব তালিকাও রয়েছে রটেন টমেটোজের। এই তালিকায় বেশির ভাগ সিনেমাই গত ২৫ বছরের, কারণ এদের সবচেয়ে বেশি অনলাইন রিভিউ রয়েছে এবং রটেন টমেটোর রেটিংয়ের সীমাবদ্ধতাও এখানে প্রভাব ফেলে।
তবে এখানে পাঁচটি শীর্ষ সিনেমার কথা বলা হলো, যেগুলোর সমালোচক রেটিং ০%:
১. বলিস্টিক: এক্স বনাম সেভার (২০০২)
২. ওয়ান মিসড কল (২০০৮)
৩. লেফট বিহাইন্ড (২০১৪)
৪. আ থাউজ্যান্ড ওয়ার্ডস (২০১২)
৫. গট্টি (২০১৮)
