গাজায় নিহত ৭ হাজার জনের নাম প্রকাশ করল হামাস
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় নিহতের যে সংখ্যা ফিলিস্তিনিরা প্রকাশ করছে, সেটির ওপর 'আস্থা নেই' বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৭ অক্টোবর থেকে নিহত হওয়া ৭,০২৮ জনের নামসহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে। খবর বিবিসির।
নিহতদের সম্পর্কে প্রকাশিত ডকুমেন্টটি দীর্ঘ ২১২ পৃষ্ঠার। সেখানে নিহত ব্যক্তিদের নাম ও বয়স উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সনাক্ত করা গেছে ৬,৭৪৭ জনের। আর ২৮১ টি মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।
ডকুমেন্টে থেকে জানা যায়, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২,৬৬৫ জন শিশু নিহত হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিচয় সনাক্ত করতে না পারা ২৮১ টি মরদেহের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
হামাসের ডকুমেন্টটি প্রকাশের পর সেটি নিয়ে চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিবিসির পক্ষ থেকে যদিও এখনো পর্যন্ত এর নির্ভুলতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডকুমেন্টে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রতিদিন কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটাও আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, গত ৭ অক্টোবর অর্থাৎ প্রথম দিনে ২৫৬ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছে। আর রিপোর্টটি প্রস্তুতের ঠিক আগে অর্থাৎ ২৫ অক্টোবরের হামলায় ৪৮১ জন নিহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালীন মোট তিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ জনেরও বেশি পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ অক্টোবরে, ৭৫৬ জন।
এদিকে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, "নিহতের সংখ্যা নিয়ে ফিলিস্তিনিরা সত্য বলছে কি-না তা নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে আমি এটা নিশ্চিত যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। একটি যুদ্ধের মূল্যই এসব।"
নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা নিয়ে তিনি কেন সন্দিহান, তার কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি বাইডেন। এদিকে গত ১৭ অক্টোবর গাজার আল-আহলি আরব হাসপাতালে হামলার পর গাজা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ৪৭১ জন নিহতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ওই হামলায় ১০০ থেকে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) বাইডেনের এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সিএআইআর এর বিবৃতিতে বলা হয়, "সাংবাদিকরা হতাহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। গাজা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দেখা যাচ্ছে। পুরো শহরের একটি বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উচিত এসব ভিডিওর দুয়েকটি দেখা এবং নিজেকে প্রশ্ন করা। এক্ষেত্রে হামলাকৃত ভবনের ধ্বংসাবশেষে পিষ্ট শিশুদের যে টেনে টেনে বের করা হচ্ছে, তা বানোয়াট কি না। কিংবা এগুলো যুদ্ধের মূল্য হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো কিনা।"
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের ক্রমাগত বোমা হামলার ঘটনায় পশ্চিমা দেশের সরকারগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সংঘাতময় উপত্যকাটিতে শুধু মুসলিমদের রক্ত ঝরছে বলেই পশ্চিমা দেশগুলো এই ইস্যুতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইসরায়েলের হামলার প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, "মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এখন কোথায়? তারা (পশ্চিমা দেশগুলো) এটাকে আর তোয়াক্কা করবে না যদি না এটা তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করে। এমনটা কেন? কারণ যে রক্ত ঝরছে তা মুসলিমদের রক্ত।"
গাজার ইসরায়েলের বোমা হামলার বিষয়ে অনেকটা শক্ত অবস্থানই নিয়েছেন এরদোয়ান। যার ধারাবাহিকতায় তিনি পূর্ব নির্ধারিত ইসরায়েল সফল বাতিল করেছেন। একইসাথে গত মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণত পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে করমর্দন করায় এখন অনুশোচনা বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এই নেতা।
