সিকিউরিটি সার্ভিসকে গুপ্তচর ও দেশদ্রোহীদেরকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তার দেশের সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, একইসাথে সিকিউরিটি সার্ভিসকে নির্দেশ দিয়েছেন 'গুপ্তচর, দেশদ্রোহী ও নাশকতাকারীদের' খুঁজে বের করে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।এমন খবরই জানিয়েছে দেশটির নিউজ এজেন্সি।
গত সোমবারে রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে উদযাপিত সিকিউরিটি সার্ভিস দিবসে পুতিন তার নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য, সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানীর জন্য এবং বাইরে ও ভেতরে থাকা গুপ্তচর ও দেশদ্রোহীদের খুঁজে বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ এজেন্সি তাস অনুযায়ী, 'মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সসহ কাউন্টারইন্টেলিজেন্স সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ ধৈর্য ও একাগ্রতা প্রয়োজন। রাশিয়ায় বিদেশি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসগুলোর কার্যক্রম কমানোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব দেশদ্রোহী, গুপ্তচর এবং নাশকতাকারীদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। রাশিয়ার সীমান্তও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ কাজে বর্ডার সার্ভিস এবং ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)-র একযোগে কাজ করতে হবে। সীমান্তে অবৈধভাবে কিছু ঘটলেই আমাদের হাতে যা শক্তি আছে বা যে উপায়ই আছে তা দিয়েই একে যত দ্রুত সম্ভব থামাতে হবে, হোক সেটি স্পেশাল ফোর্স কিংবা মোবাইল অ্যাকশন ইউনিট।' বলে নির্দেশ দেন পুতিন।
ইউক্রেন থেকে দখল করে নেওয়া অঞ্চলেও যারা থাকছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি সার্ভিসের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন পুতিন: "এটা আপনাদের দায়িত্ব। তাদের নিরাপত্তার সর্বোচ্চটুকু নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করবেন। তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতাকে সম্মান দিতে হবে।" একইসময়ে নিজের সৈন্যদের জন্য আরও আধুনিক অস্ত্র-যন্ত্রপাতি নিয়ে আসার আশ্বাস দেন তিনি।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার মিসাইল হামলা আরও চরম পর্যায়ে যাওয়ার মুহূর্তেই পুতিন এই মন্তব্য করেছেন। দশম মাসে গড়ানো এই যুদ্ধ সহসা শেষ হবে না বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেন্সকি ইউক্রেনের মিত্রদেরকে আরও অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাহায্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন: "রাশিয়ার এই আগ্রাসন বন্ধ করা সম্ভব এবং তা যেকোনো মূল্যে থামাতে হবে।" লাটভিয়ার রাজধানী রিগায় ন্যাটোর নেতাদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেন্সকি জানান গত সপ্তাহে রাশিয়ার মিসাইল আক্রমণের পর ইউক্রেনের ৪০ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে নয় মিলিয়ন লোকের কাছে বিদ্যুৎ পুনরায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জেলেন্সকির বিরুদ্ধে 'তার দেশের লোকজনকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব না বোঝা একজন' হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন। বেলারুশের টিভি মিন্সক ১ টিভির এক সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমের দিকে আঙুল তুলে বলেন ইউক্রেন বিষয়ে পশ্চিমাদের মাথা ঘামানো 'হিস্টেরিয়াগ্রস্ত রোগীর প্রতিক্রিয়া'র মতো। ইউক্রেনে মস্কোর এই অভিযান পশ্চিমাদের ভূরাজনৈতিক খেলা নস্যাৎ করে দিয়েছে, যেটি রাশিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে তৈরির জন্যই করা হয়েছিল বলে মত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, 'আমি শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে হবে বলে আশা করতে পারছি না।'
সূত্র: আল জাজিরা
