Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
July 08, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, JULY 08, 2026
‘কিংস পার্টিগুলোর’ আখ্যান: এখন তারা কোথায় আছে, কেমন আছে?

ফিচার

সাকলাইন রিজভী & ফয়সাল উদ্দিন সিয়াম
06 July, 2026, 03:05 pm
Last modified: 06 July, 2026, 03:06 pm

Related News

  • গত নির্বাচনের আলোচিত ‘কিংস পার্টি’ এখন কোথায়? 
  • এনসিপি ‘কিংস পার্টি’, তাদের দুজন এখন সরকারে আছে: ইফতেখারুজ্জামান
  • হাসিনা-আমলের দুই কিংস পার্টি: নির্বাচনের সাথে সাথে হারিয়ে গেল রাজনীতির মাঠ থেকে

‘কিংস পার্টিগুলোর’ আখ্যান: এখন তারা কোথায় আছে, কেমন আছে?

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। সেই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল সংসদে একটি আসনও পায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তাদের অনেককে বেশ সক্রিয় বলেই মনে হয়।
সাকলাইন রিজভী & ফয়সাল উদ্দিন সিয়াম
06 July, 2026, 03:05 pm
Last modified: 06 July, 2026, 03:06 pm
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস

পুরান পল্টনের ১৩ তলা প্রিতম জামান টাওয়ারের লিফটটি গন্তব্যের এক তলা আগেই থেমে গেল। সেখান থেকে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আম জনতার দলের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হলে উঠতে হয় ছাদ পর্যন্ত চলে যাওয়া একটি সরু সিঁড়ি বেয়ে। টিনের ছাউনির নিচে গড়ে ওঠা ছোট দুটি কক্ষের সেই কার্যালয় থেকে চোখে পড়ে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত রাজনৈতিক পাড়া।

বিকেল তখন প্রায় পাঁচটা ছুঁইছুঁই।

ঘরের ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে না কোনো গমগমে কৌশল নির্ধারণী বৈঠক, নেই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্কে মগ্ন নেতাদের সারি। একজন নীরবে মোবাইল ফোনে চোখ বুলিয়ে চলেছেন। আরেকজন কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার জোড়া লাগিয়ে বিকেলের ঘুমে ডুবে আছেন। অন্য কয়েকজন চুপচাপ টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে। পর্দাজুড়ে তখন চলছে একটি ভারতীয় ধারাবাহিক।

একেবারেই সাধারণ একটি দৃশ্য।

তবু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক ধরনের বিদ্রূপ। আম জনতার দল তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বড় একটি অংশ গড়ে তুলেছে ভারতের 'আগ্রাসন' এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রভাবের বিরোধিতাকে সামনে রেখে। অথচ সেই বিকেলে রাজনীতির উত্তাপকে সরিয়ে রেখে অফিসজুড়ে ছিল একেবারে দৈনন্দিন জীবনের ছাপ।

'আমরা প্রায় সব সময়ই এখানেই থাকি,' চারপাশে তাকিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ আসগর হোসেন।

দল চালিয়ে নেওয়াটা তাদের কাছে এক ধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আসগরের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের প্রায় পুরো খরচই আসে নেতাকর্মীদের নিজেদের চাঁদা থেকে। কেউ জীবিকা নির্বাহ করেন আম বিক্রি করে, কেউ মধুর ব্যবসা করেন, আবার কেউ মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অফিসের কোনো খরচ সামনে এলে যার যতটা সামর্থ্য, তিনি ততটাই দেন। এমনকি বিদ্যুতের বিলও ভাগাভাগি করে পরিশোধ করা হয়।

'আমরা কারও ওপর নির্ভর করতে চাই না,' বললেন আসগর। 'শুরু থেকেই যদি অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তাহলে আমাদের রাজনীতি আর গড়ে উঠবে না।'

তবে স্বাধীন থাকার এই সংকল্পের মূল্যও কম নয়। আসগরের দাবি, বড় কয়েকটি রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ তাদের সামনে এসেছিল। কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই সে পথ এড়িয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, 'ভোট না-ই পেলাম, একটি আসনও না-ই পেলাম—তবু আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চাই। বড় কোনো দলে গেলে একসময় তারা আমাদের নিজেদের মধ্যে মিশিয়ে নেবে। তখন আমাদের নিজস্ব রাজনীতির আর বিকাশ হবে না।'

অর্থসংকট অবশ্য দলের অনেক নেতাকর্মীর নিত্যসঙ্গী। শ্রমিকবিষয়ক শাখার সভাপতি মুজাহিদ ইব্রাহিম বলেন, এমন দিনও আসে যখন খিলগাঁও থেকে দলের কার্যালয়ে আসার বাসভাড়াটুকুও তার কাছে থাকে না। তখন হেঁটেই চলে আসতে হয়।

'এমন দিনও যায়, যখন এখানে আসার বাসভাড়াটাও আমার কাছে থাকে না,' বললেন তিনি।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসনও জিততে না পারলেও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছে দলটি।

মুজাহিদ বলেন, 'আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০টি আসনেই প্রার্থী দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।'

তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথটিও তাদের জন্য সহজ ছিল না।

ঢাকার পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনগুলোর ছোট ছোট কার্যালয় থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশের অনেক ছোট রাজনৈতিক দল। এসব কার্যালয়ের বেশির ভাগই প্রায়ই বন্ধ থাকে, আর দৈনন্দিন তৎপরতার দৃশ্যও খুব কমই চোখে পড়ে। ছবি: সাকলাইন রিজভী

২০২৫ সালের নভেম্বরে দলটির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান নিবন্ধন না পাওয়ার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুরোধে তিনি অনশন ভেঙে বিষয়টি আদালতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দলটি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।

শেষ পর্যন্ত সেই আপিলেই সাফল্য আসে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় আম জনতা পার্টি। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রায় ২৫ জন প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তারেক রহমানও। তবে দলের কোনো প্রার্থীই নির্বাচিত হতে পারেননি।

আম জনতার দলের কার্যালয়ে সফর দিয়েই শুরু হয়েছিল ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে এক সপ্তাহের ঘোরাঘুরি। উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থাটা কাছ থেকে দেখা।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। সেই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল সংসদে একটি আসনও পায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তাদের অনেককে বেশ সক্রিয় বলেই মনে হয়। প্রায় প্রতিদিনই তারা বিবৃতি দিচ্ছে, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছে, সভা-সমাবেশের ছবি প্রকাশ করছে, আবার নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের কথাও জানাচ্ছে।

কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, নির্বাচনী ব্যানার খুলে ফেলার পর—আসলে কেমন চলছে দলগুলোর দিনযাপন?

সেই উত্তর খুঁজতেই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ঘুরে দেখেছে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে না পারা নিবন্ধিত প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

প্রতিটি কার্যালয় যেন বলেছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প।

কোথাও নীরবে চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। কোথাও দল টিকে আছে শুধু নেতাকর্মীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বেচ্ছা অনুদানের ওপর ভর করে। আবার কয়েকটি দলের কার্যালয়ের কোনো অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে পরিস্থিতি যতই ভিন্ন হোক, প্রায় সব দলের নেতার কথায় একটি বিষয় ছিল অভিন্ন। তারা হেরে যাওয়া নির্বাচনের চেয়ে বেশি কথা বলেছেন আগামী নির্বাচন নিয়ে—যেখানে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

বাংলাদেশের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন যেন টিকে থাকাটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই।

বাংলাদেশের অনেক ছোট রাজনৈতিক দলের কার্যালয় আছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চিত্র অবশ্য কিছুটা আলাদা। নির্বাচনে পরাজয়ের হতাশার কোনো ছাপ চোখে পড়েনি। বরং তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—এবার নয়, সামনে কী করা হবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক এক বৈঠক থেকে আরেক বৈঠকে ছুটে বেড়াচ্ছেন। জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক বিস্তার এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। তাদের কাছে এখন সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সারা দেশে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্ত করা।

দলটির দাবি, বর্তমানে দেশের ৪৫টি জেলায় এবং শতাধিক উপজেলায় তাদের কমিটি রয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগেই এই সাংগঠনিক বিস্তার আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা।

'আমাদের কণ্ঠস্বর এখনো সংসদের বাইরে,' দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন নিজামুল হক। 'তাই এই মুহূর্তে আমরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজ করছি।'

সংসদে আসন পাওয়াকেই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যেখানে সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

নিজামুল হক বলেন, 'জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং দলের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।'

এর কয়েক কিলোমিটার দূরে বাংলামোটরে অবস্থিত ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কংগ্রেসের কার্যালয় ছোট দলগুলোর বাস্তবতার আরেকটি চিত্র তুলে ধরে।

ছোট্ট একটি কক্ষই দলের পুরো কার্যালয়। সেখানে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার, হাতে গোনা কয়েকটি টেবিল আর এক কোণে রাখা ছোট একটি চুলা। দেয়ালজুড়ে পুরোনো নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার। কয়েকটি চেয়ার জোড়া দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন এক কর্মী। অন্যরা নীরবে আসছেন, আবার চলে যাচ্ছেন।

তবে অফিসের এই সাধারণ চেহারা দেখে দলের কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন দলটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ তুষার রহমান।

তিনি বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয়। কিন্তু গণমাধ্যমে সেইভাবে গুরুত্ব পাইনি।'

তার মতে, দলের সবচেয়ে বড় সংকট সাংগঠনিক নয়, বরং পরিচিতি।

'গণমাধ্যম যদি আমাদের মতামত মানুষের সামনে তুলে ধরার আরও সুযোগ দেয়, তাহলে আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারব,' বলেন তিনি।

দলটির দাবি, বর্তমানে ৫৫টি জেলায় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরাজয় নিয়ে পড়ে না থেকে নতুন কমিটি গঠন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিচ্ছেন নেতারা।

অন্যদিকে মহাখালীতে অবস্থিত ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার ভিন্ন এক কৌশল অনুসরণ করছে।

জুনে জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার পর থেকে দলটি মূলত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজেই মনোযোগ দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক জানান, নতুন কমিটি হালনাগাদ, জেলা পর্যায়ের সংগঠন পুনর্গঠন, নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা—এসব নিয়েই এখন ব্যস্ত তারা।

তিনি বলেন, 'এখন আমরা পুরোপুরি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত।'

বড় বড় কর্মসূচি দিয়ে আলোচনায় আসার চেয়ে ধীরস্থিরভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই ভবিষ্যতের জন্য বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করে দলটি।

ইব্রাহীম বলেন, 'সব পক্ষের সঙ্গেই আমরা নীরবে যোগাযোগ বজায় রেখেছি।' তার ভাষ্যমতে, দল পুনর্গঠনের পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রেই রয়েছে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা।

তবে সব ঠিকানায় গিয়ে সক্রিয় কার্যালয়ের দেখা মেলেনি।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানে নিবন্ধিত কার্যালয়ে গিয়ে দলের কোনো কার্যক্রমেরই খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ভবনটির নিরাপত্তারক্ষী জানান, প্রায় তিন মাস আগে ওই কার্যালয়টি ছেড়ে চলে গেছে দলটি। এরপর তারা অন্য কোথাও নতুন কার্যালয় খুলেছে কি না, সে বিষয়ে তার কোনো জানা নেই।

একই চিত্র দেখা গেল ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নিবন্ধিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও। পল্টনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দরজায় তালা ঝুলছে। দলের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে দেওয়া হটলাইন নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা জানান, দলটির কার্যালয় এখন খুব কমই খোলা হয়।

তিনি বলেন, 'বেশির ভাগ সময়ই অফিসে তালা থাকে। নির্বাচনের সময় তারা বেশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু এখন অফিস খুব একটা খোলে না।'

এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা ছয়টি কার্যালয় যেন তুলে ধরেছে ছয়টি ভিন্ন বাস্তবতা।

কিছু দল নীরবে আবারও নিজেদের গোছানোর চেষ্টা করছে। কেউ সীমিত সামর্থ্য নিয়েই সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো দল নিজেদের একটি স্থায়ী কার্যালয়ও ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

তবে এত ভিন্নতার মধ্যেও একটি জায়গায় সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা।

কোনো দলের নেতাই প্রায় হারানো আসন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেননি। বরং তাদের কথায় বারবার ফিরে এসেছে জেলা কমিটি গঠন, যুবসংগঠন সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সদস্য সংগ্রহ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি।

তবে নাগরিক ঐক্যের জন্য নির্বাচন-পরবর্তী সময়টা কেটেছে আত্মসমালোচনা ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে।

দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করার আগে তারা এখনো নির্বাচনের ফলাফল ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।

তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আমরা এখন নির্বাচনের ফলাফল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন।'

দলের ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে মান্না বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। শুধু জানান, নাগরিক ঐক্য নির্বাচনী রাজনীতিতেই থাকবে।

তিনি বলেন, 'আমরা আবারও নির্বাচনে অংশ নেব। তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক কৌশল কী হবে এবং কীভাবে এগোব—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।'

নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়ার কিছু দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মান্না বলেন, 'ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে। তবে ফল ঘোষণা একইভাবে সুষ্ঠু হয়নি।'

তার মতে, পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য এখনো আরও সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, 'মাত্র একশ দিনেই কী ঘটেছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।'

আদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো কিংবা আর্থিক সামর্থ্যে দলগুলোর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড যেসব দলের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের সবার মধ্যেই একটি মিল স্পষ্ট। কেউই রাজনীতি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

বরং প্রায় সব আলোচনাই ঘুরেফিরে এসেছে আগামী দিনের পরিকল্পনায়। জেলা কমিটি শক্তিশালী করা, নতুন সদস্য সংগ্রহ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং আবারও সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতিই এখন তাদের মূল ভাবনা।

কৌশল নির্ধারণী বৈঠকের ব্যস্ততার বদলে অনেক কার্যালয়েই দেখা মেলে নিস্তব্ধতার; চোখে পড়ে না তেমন কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা।

তবে এই পথ মোটেও সহজ নয়।

বাংলাদেশের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তা শুধু ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল নয়। গত দুই দশকের সংসদ নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যায়, দেশের রাজনীতি ধারাবাহিকভাবে অল্প কয়েকটি দলের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৩০টি দল একটি আসনও জিততে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে প্রায় ৩১টিই সংসদে প্রতিনিধি পেতে ব্যর্থ হয়। আর ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের কারণে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হলেও, অংশ নেওয়া কয়েকটি দল সেবারও সংসদের বাইরে থেকে যায়।

২০২৬ সালের নির্বাচনও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি করেছে। ভোটে অংশ নেওয়া ৫১টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৪০টির বেশি দল একটি আসনও পায়নি।

এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘদিনের বাস্তবতাই সামনে আনে। দেশে নিবন্ধিত বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকলেও সংসদের প্রতিনিধিত্ব শেষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে হাতে গোনা কয়েকটি বড় রাজনৈতিক শক্তির হাতেই।

২০১৪ সালে প্রকাশিত 'পলিটিকাল পার্টিজ ইন বাংলাদেশ' গ্রন্থেও একই পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। তার মতে, দেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা থাকলেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই কয়েকটি বড় দল ও জোটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। ছোট দলগুলো সভা-সমাবেশ করছে, সংগঠন বিস্তার করছে, নির্বাচনে অংশও নিচ্ছে; কিন্তু সেই কার্যক্রমকে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে রূপ দিতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ এম শাহান মনে করেন, ছোট দলগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা কোন পথে এগোয় তার ওপর।

তিনি বলেন, যদি বর্তমানের মতো 'ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট' পদ্ধতিতে নির্বাচন অব্যাহত থাকে এবং কয়েকটি বড় রাজনৈতিক জোটের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ভোটাররা সরকার গঠনের সক্ষমতা আছে—এমন দলগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকবেন।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, 'এমন বাস্তবতায় অনেক ছোট দল ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে পারে, কিংবা শেষ পর্যন্ত বড় দলগুলোর সঙ্গে একীভূত হয়ে যেতে পারে।'

তবে সুনির্দিষ্ট আদর্শ এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি থাকলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকার সুযোগ এখনো রয়েছে বলে মনে করেন আসিফ শাহান।

তিনি অলেন, 'সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তারা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে কি না, তাদের সংগঠিত করতে পারছে কি না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তাদের ভোটারে পরিণত করতে পারছে কি না। সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর কৌশল তৈরি করতে পারলে তারা টিকে থাকবে, এমনকি বিকশিতও হতে পারে। তা না হলে তারা পুরোপুরি প্রাসঙ্গিকতা হারাবে।'

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সংকট শুধু নির্বাচনের ফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

তার মতে, এসব দলের অনেকই সমাজের নির্দিষ্ট শ্রেণি, আঞ্চলিক জনগোষ্ঠী বা প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের নানা দাবি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় প্রায়ই গুরুত্ব পায় না। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমেই বড় পরিচয়ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, 'সমাজ বৈচিত্র্যময় বলেই এত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব। এখানে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণি, গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের সব উদ্বেগ-চাহিদা বড় দলগুলো সব সময় তুলে ধরে না।'

আলতাফ পারভেজের মতে, ছোট দলগুলোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অর্থের অভাব নয়, বরং কৌশলগত সীমাবদ্ধতা।

তিনি বলেন, 'তাদের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থ নয়, কৌশলগত অপরিপক্বতা। বিশেষ করে জোট গঠনের ক্ষেত্রে তারা দুর্বল। একই ধরনের লক্ষ্য ও স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও অনেক ছোট দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে না।'

তার মতে, বৃহত্তর সমন্বয় গড়ে তুলতে না পারলে এসব দলের অনেকই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনে প্রান্তিক অবস্থানেই থেকে যাবে।

ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে এক সপ্তাহ ধরে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাও যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

Related Topics

টপ নিউজ

কিংস পার্টি / আম জনতার দল

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক নাচ অনুকরণ করে তাকে ব্যঙ্গ করেছেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত
    ‘এটা বাতিল করে দেখান’: যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে ট্রাম্পকে বেলজিয়ামের খোঁচা
  • ছবি: সংগৃহীত
    চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত: বন্ধ ট্রেন চলাচল, বিমান চলাচলেও বিঘ্ন, মৃত্যু ১
  • ছবি: এএফপি
    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান
  • রপ্তানি বাড়াতে ও ব্যবসা বহুমুখীকরণে ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে যাচ্ছে শেলটেক গ্রুপ
    রপ্তানি বাড়াতে ও ব্যবসা বহুমুখীকরণে ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে যাচ্ছে শেলটেক গ্রুপ
  • ছবি: সিসিটিভি
    চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
  • ফাইল ছবি
    বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের গাইডলাইন জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

Related News

  • গত নির্বাচনের আলোচিত ‘কিংস পার্টি’ এখন কোথায়? 
  • এনসিপি ‘কিংস পার্টি’, তাদের দুজন এখন সরকারে আছে: ইফতেখারুজ্জামান
  • হাসিনা-আমলের দুই কিংস পার্টি: নির্বাচনের সাথে সাথে হারিয়ে গেল রাজনীতির মাঠ থেকে

Most Read

1
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক নাচ অনুকরণ করে তাকে ব্যঙ্গ করেছেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত
খেলা

‘এটা বাতিল করে দেখান’: যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে ট্রাম্পকে বেলজিয়ামের খোঁচা

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত: বন্ধ ট্রেন চলাচল, বিমান চলাচলেও বিঘ্ন, মৃত্যু ১

3
ছবি: এএফপি
খেলা

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান

4
রপ্তানি বাড়াতে ও ব্যবসা বহুমুখীকরণে ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে যাচ্ছে শেলটেক গ্রুপ
অর্থনীতি

রপ্তানি বাড়াতে ও ব্যবসা বহুমুখীকরণে ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে যাচ্ছে শেলটেক গ্রুপ

5
ছবি: সিসিটিভি
আন্তর্জাতিক

চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

6
ফাইল ছবি
অর্থনীতি

বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের গাইডলাইন জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

EMAIL US
[email protected]
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]