সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় যুবলীগের ২ নেতা-কর্মী আটক
ঢাকার সাভারে গতকাল রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন টিবিএসকে বলেন, 'এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।'
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের মৃত সুলতান ফকিরের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার আব্দুল জলিলের ছেলে মো. সজীব (৩২)।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনই সাভারের আনন্দপুর মহল্লায় বসবাস করতেন। এদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিংগাইরের জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আর সজীব যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের পৌর এলাকায় তারাপুর মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালীন মঞ্চের সামন ককটেল হামলা হয়। এ ঘটনায় চারজন আহত হোন।
আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, এনাম মেডিক্যাল কলেজের স্টার মো. শাহীন খান্দকার (৩০), এনাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী মো. জসিম (২৬) ও মো. শাহাদাত হোসেন (৪০)। বাকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
পরে রাত ১০টায় সমাবেশ শেষ করে এনসিপির নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও এমপি নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে কর্মসূচি করার। এখানকার পুলিশ-প্রশাসনের দায়িত্ব সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। এই পুলিশ-প্রশাসন ও এই এলাকার এমপি জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, কে বোমা হামলা করেছে, কী হয়েছে তা আমরা জানি না। আমরা জানি এর দায় হচ্ছে প্রশাসনের এবং কর্তৃপক্ষের। সন্ত্রাসীরা কীভাবে পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল, আমরা সেটা জানতে চাই।
নাহিদ আরও বলেন, আমরা জানি এই এলাকায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত। আমরা জানি কারা দুর্নীতি-সন্ত্রাস আর মাদক কারবারি সঙ্গে জড়িত। তারা ভেবেছিল হামলা করে আমাদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেবে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। আমাদের জীবন গেলে রাজপথেই যাবে।
