উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়তে ৩,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এটি ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের একটি অংশ। তহবিলের মেয়াদ তিন বছর।
এ তহবিলের সুবিধা শুধু উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো চারটি প্রধান খাতে তহবিল বিতরণ করতে পারবে।
এর মধ্যে কৃষি উৎপাদন খাতে মোট তহবিলের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য পল্লী ঋণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। এ অর্থ দিয়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদামঘর, সাইলো, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস স্থাপন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের জোগান দেওয়া হবে।
আরও ৩৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের জন্য। এ অর্থ কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার চলতি মূলধন জোগানে ব্যবহৃত হবে।
অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতের জন্য। এ খাতের আওতায় কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা খাতভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত বা কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা যাবে।
এ ছাড়া কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে গ্রাহকের প্রকৃত প্রয়োজন ও প্রকল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় ব্যাংকগুলো নিজস্ব সিদ্ধান্তে নির্ধারিত ঋণসীমা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বা কমাতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ফসল কাটার পর ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘাটতির কারণে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ তাদের কৃষি সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।
এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার লক্ষ্য হলো কৃষি উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন বাড়ানো, কৃষিভিত্তিক কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা করা, রপ্তানিমুখী কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি সইয়ের পর সব তফসিলি ব্যাংক এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।
