শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল সংগ্রহে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬ অনুযায়ী গঠিত ফাউন্ডেশনের তহবিলে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মুনাফার নির্ধারিত অংশ জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার (৫ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম আরিফ মন্ডল। তিনি নিজেই জনস্বর্থে রিটটি দায়ের করেন।
এস এম আরিফ মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬ অনুযায়ী গঠিত ফাউন্ডেশনের ফান্ডে নির্ধারিত অর্থ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মুনাফার অংশ জমাদান নিশ্চিত করার জন্যে দায়ী 'ট্রাস্টি বোর্ড'-এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট ডিভিশনে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করা হয়। গত ২১ জুন এ রিট দায়ের করি। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ডিভিশন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই আইনজীবী জানান, আইন অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠানের এক বছরের লভ্যাংশের ০.৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। এক বছরের লভ্যাংশের ৫ শতাংশের মধ্যে ৪ শতাংশ নিজ কোম্পানির শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে হয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ দিচ্ছে না। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬ এর ধারা-১৪(৩) এ বলা আছে- শ্রম আইনের ধারা-২৩৪(১) এর দফা 'খ' এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে প্রতিবছর জমাকৃত অর্থের শতকরা ৫০ ভাগ অর্থ শ্রম আইনের ২৩৪(২) ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে 'শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন' এর ধারা-১৪(১) এ উল্লেখিত তহবিলে জমা দিতে হবে।
রিটকারী বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ধারা-২৩২(১)ক অনুযায়ী- যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে এক কোটি টাকা বা মোট সম্পদ দুই কোটি টাকা, তাদেরকে লভ্যাংশের ০.৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলের জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, যে দেশে ৮ হাজারের বেশি কোম্পানি রয়েছে, তারা শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী তহবিলে লভ্যাংশের অর্থ দেওয়ার যোগ্যতা রাখে। এক হিসাব অনুযায়ী- এযাবৎকালে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ৫১৮টি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ জমা দিয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ আইনে নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো আইন না মানার কারণে তহবিলে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত অনেক কম।
আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল বলেন, কথিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তহবিলে জমাদানের জন্য আইনে তাদের লভ্যাংশের ০.৫ শতাংশ টাকা শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অত্র বিধানের ব্যত্যয়ের সুযোগ নাই। মূলত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর সঠিকভাবে তদারকি না করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে এমনটা ঘটছে। আর দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানগুলো আইন ভঙ্গ করে যাচ্ছে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। এ কারণে রিটটি করা হয়েছে।
