জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে, একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?: এ টি এম আজহার
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?' একই সঙ্গে তিনি দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে ধাপে ধাপে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলারও প্রস্তাব দেন।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ টি এম আজহার এসব কথা বলেন। গত ২২ জুন বিএনপির এক সংসদ সদস্য জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানোর প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বাজেট আলোচনায় সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ, চার মাসেও আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না, যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন।'
আজহার বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে পদে রাখার বিষয়ে বিএনপি কোনো ইঙ্গিত পেয়েছে কি না, তা জনগণ জানতে চায়। ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে হলে তার সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতের প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন আজহার।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত এসব নেতাকে 'জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা' করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তবেই দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং ঋণনির্ভর। রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচনের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক চাপ এবং বড় রাজস্ব ঘাটতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় পরিচালন ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল সুদ পরিশোধ সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে আজহার সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সুদনির্ভর ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই সুদভিত্তিক ঋণের বিকল্প হিসেবে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রিটেইল সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তবে তিনি স্বীকার করেন, এক বা দুই বছরের মধ্যে দেশকে সুদমুক্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হলে ধাপে ধাপে জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
