অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সোমবার দরপত্র আহ্বান, জুনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ নীতি: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, অফশোর (সমুদ্রে) তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সোমবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে জুনের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ নীতি প্রকাশ করা হতে পারে।
শুক্রবার (২২ মে) ঢাকায় আয়োজিত এক নীতিবিষয়ক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, অনুসন্ধান কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
টুকু বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১৭ বছরে সাগরে উল্লেখযোগ্য কোনো অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়নি।
তিনি বলেন, 'সর্বশেষ বড় ধরনের অফশোর অনুসন্ধান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯১ সালে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে। পরে সেই উদ্যোগের সুবাদেই শেভরন এখন গ্যাস উৎপাদন করতে পারছে।'
মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা সমুদ্রসীমা বিরোধে জয়লাভ করেছি, কিন্তু সমুদ্রের সম্পদ এখনো উত্তোলন করতে পারিনি। এই ঘাটতি পূরণে আগামী সোমবার অফশোর অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করছি।'
তিনি জানান, নতুন রিগ (খননযন্ত্র) ক্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করছে সরকার।
গভীর সমুদ্রে খননকাজে বাপেক্সের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রের সম্পদে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আসন্ন দরপত্রে অংশ নিতে বাপেক্সকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে জুনের মধ্যে একটি নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।
মন্ত্রী বলেন, 'সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারির ওপর বর্তমান কর কাঠামো অনেক বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। এই ট্যাক্স ও শুল্ক-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি।'
সরকার তার মেয়াদের শেষ নাগাদ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে টুকু আশা প্রকাশ করে বলেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন হলে এই উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
