বাজেট ২০২৬-২৭: চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শিল্পে শুল্ক রেয়াত ও ডায়ালাইসিস ফিল্টারে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব
দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব আসছে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। একইসঙ্গে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও কর অব্যাহতির প্রস্তাব আসছে আগামী বাজেটে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্প খাতের অতি প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ এবং অন্যান্য কিছু কাঁচামালে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শিল্প এখনো বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দেওয়া হলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে, আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্সের হিসাবে, এ খাতে দেশীয় বাজার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার, যার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ। মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ—সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে ইমেজিং ও সার্জিক্যাল মেশিন—সবই আমদানি করা হয়।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে আরও জানা গেছে, ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আগামীকাল প্রস্তাবিত বাজেটে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
দেশের বিপুল সংখ্যক কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া সচল রাখতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার একটি সংবেদনশীল ও অপরিহার্য চিকিৎসাসামগ্রী। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক সুবিধার কারণে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীর ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়, যাদের ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস নেওয়া কিডনি রোগীদের ৯২ শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়।'
