Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

যশোর রোডের অ্যালেন গিন্সবার্গের ১০০

যখন তাঁর বাসায় বসে তাঁকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে ‘September on Jessore Road’ গাইতে শুনি, তখন আমার মনে হয়েছিল, ইতিহাসেরও কখনো কখনো নিজস্ব সুর থাকে। সেই সুর ছিল বৃষ্টিভেজা শরণার্থীশিবির, ছিল কাদায় ডুবে থাকা শিশু, ছিল মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে চলা হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ—আর ছিল বাংলাদেশের নাম।
যশোর রোডের অ্যালেন গিন্সবার্গের ১০০

ইজেল

নাসির আলী মামুন
04 July, 2026, 10:30 pm
Last modified: 04 July, 2026, 10:30 pm

Related News

  • অ্যালেন গিন্সবার্গ || সাহিত্যকে আমরা ছিনিয়ে এনে রাস্তায় স্থাপন করেছি
  • গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ১৭টি গোপন রিপোর্ট সরাল ইইউ; ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের গণহত্যার অভিযোগ
  • ম্যাজিক বুট, টোটাল ফুটবল, স্বৈরশাসকের উৎসব এবং ‘ইশ্বরের হাত’
  • জাহানারা ইমামকে 'জাহান্নামের ইমাম' আখ্যা দিয়ে পোস্ট রাকসু'র সংস্কৃতি সম্পাদকের   
  • গাজায় গণহত্যায় ইচ্ছাকৃতভাবেই শিশুদের টার্গেট করছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন

যশোর রোডের অ্যালেন গিন্সবার্গের ১০০

যখন তাঁর বাসায় বসে তাঁকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে ‘September on Jessore Road’ গাইতে শুনি, তখন আমার মনে হয়েছিল, ইতিহাসেরও কখনো কখনো নিজস্ব সুর থাকে। সেই সুর ছিল বৃষ্টিভেজা শরণার্থীশিবির, ছিল কাদায় ডুবে থাকা শিশু, ছিল মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে চলা হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ—আর ছিল বাংলাদেশের নাম।
নাসির আলী মামুন
04 July, 2026, 10:30 pm
Last modified: 04 July, 2026, 10:30 pm

আমার গিন্সবার্গ দর্শন ও সংযোগ কেবল একজন কবি ও আলোকচিত্রশিল্পীর সাক্ষাৎ নয়—এটি দুই দেশের সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক বিরল সেতুবন্ধন। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে দীর্ঘ কবিতা রচনা এবং আরও অনেক পরে মরমী সাধক লালন সাঁইজিকে নিয়ে কবিতা, যার শিরোনাম After Lalon, এটি ভিডিওতে কবির স্বকণ্ঠে আবৃত্তি হয়ে ইউটিউবে সারা বিশ্বের মানুষের দেখার সুযোগ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে আবু রুশদ মতিউদ্দীনের অনুবাদে Songs of Lalon Shah বইটি কিনে নিউইয়র্কে গ্রিনিচ ভিলেজের অ্যাপার্টমেন্টে উপহার দিয়েছিলাম।

একটি বই উপহার দেয়ার ঘটনায় বইটি থেমে যায়নি। ঘটনাটি পূর্ব ও পশ্চিমের দুই ভিন্ন আধ্যাত্মিক-সাংস্কৃতিক ধারার এক বিরল সংলাপের সূচনা। একজন আলোকচিত্রী, সাংস্কৃতিক দূত ও সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে এখানে যে ভূমিকা পালন করেছিলাম, তাকে নিঃসন্দেহে 'অনুঘটকের ভূমিকা' বলা যায়। শুধু এখানেই আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।

আমার ক্যামেরার লেন্সের ভেতরে কতবার যে বিট প্রজন্মের কবি, লেখক ও শিল্পীরা জোয়ার-ভাটার মতো আসা-যাওয়ায় নিষ্ঠ ছিল! ক্যামেরার আলোয় গিন্সবার্গসহ তার সহযোদ্ধা বিট জেনারেশনের প্রায় সকলকে আমার ক্যামেরা নানান ভঙ্গিতে গ্রেপ্তার করেছে। গিন্সবার্গের এমন সব কাকতালীয় এবং নিঃসঙ্গ মুহূর্ত আমার ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখন বিংশ শতাব্দীর বিশ্ব দৃশ্যশিল্পের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

After Lalon কবিতা আমার দেয়া বইটি পাঠ করে লেখা। সেখানে লক্ষ করা যায় তিনি বলছেন, Lalon says... আবার বলছেন, Ginsberg says…

ক্যামেরায় ফোকাস করে আছি, গিন্সবার্গ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন, এমন একটি বই তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলেন। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে তিনি একটি লালনগীতি কবিতার মতো পড়তে শুরু করলেন।

তারপর উচ্চারণ করলেন সাঁইজির মরমী বাণী। মুহূর্তটি আজও আমার মনে স্পষ্ট। বাংলার মাটির বাউল সাধক লালন সাঁই আর আমেরিকার বিট প্রজন্মের বিশ্বখ্যাত কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের মধ্যেও অদৃশ্য এক সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। লালনের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ, আত্ম-অনুসন্ধান, পরিচয়ের ভ্রম ভেঙে সত্যের দিকে যাত্রা। অন্যদিকে গিন্সবার্গ তাঁর সমগ্র সাহিত্যজীবনে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও মানসিক কাঠামোর বিরুদ্ধে মানুষের আন্তর্জাতিক স্বাধীনতার কথা বলেছেন।

দুইজনের ভাষা, দেশ, ধর্মীয় পরিমণ্ডল এবং সময় ভিন্ন হলেও তাঁদের প্রশ্নগুলো ছিল আশ্চর্যজনক মিলযুক্ত। এরপর কিছুদিন পর ঘোরের মধ্যে লিখে ফেললেন দীর্ঘ কবিতা After Lalon, যা ছয়টি ভাগে বিভক্ত। যেখানে লালনের গানের স্বর, প্রশ্ন ও আত্মজিজ্ঞাসার প্রতিধ্বনি শোনা যায়। লালনের বিখ্যাত 'লালন বলে...'-এর অনুরণনে বিট-গুরু বারবার বলেছেন, 'Ginsberg says...'। এটা কোনো অনুকরণ ছিল না, বরং ছিল এক সাংস্কৃতিক সংলাপ। লালনের ভাষা তিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছিলেন তাঁর অনুসন্ধিৎসা। একজন আমেরিকান কবি তাঁর নিজের অস্তিত্ব, সময়, সমাজ ও আত্মিক অভিজ্ঞতাকে লালনের প্রশ্নের ভেতর দিয়ে নতুন করে দেখতে চেয়েছিলেন।

সেই সময় পশ্চিমা বিশ্বে লালন আজকের মতো পরিচিত ছিলেন না। দক্ষিণ এশিয়ার লোকদর্শন ও বাউল ঐতিহ্য নিয়ে কিছু academic আগ্রহ থাকলেও লালনের নাম বিশ্বসাহিত্যের বৃহত্তর আলোচনায় প্রবেশ করেনি। গিন্সবার্গের মতো খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় কবির সৃজনশীল মনোযোগ তাই লালনের প্রতি নতুন এক আলোকপাতের সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রশ্ন উঠতে পারে—গিন্সবার্গ কি লালনকে আবিষ্কার করেছিলেন? ঐতিহাসিক অর্থে নয়। লালনকে আবিষ্কার করার প্রয়োজন ছিল না, তিনি বাংলার মানুষের হৃদয়ে বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু পাশ্চাত্যের একজন কবির কাব্যিক চেতনায় লালনের পুনরাবিষ্কার অবশ্যই ঘটেছিল। বলা যেতে পারে After Lalon কবিতার মাধ্যমে গিন্সবার্গ তাঁর নিজস্ব ভাষা ও অভিজ্ঞতার ভেতর লালনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।

অ্যালেন গিন্সবার্গ; নিউ ইয়র্ক ১৯৯২। ছবি: নাসির আলী মামুন/ ফটোজিয়াম

এই ঘটনার সঙ্গে আমার ভূমিকা ছিল ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। আমি কবিতাটি লিখিনি, দর্শনটি নির্মাণ করিনি। আমি কেবল একটি বই এক মানুষের হাত থেকে আরেক মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলাম। কিন্তু কখনো কখনো ইতিহাসের বড় সাংস্কৃতিক সংলাপগুলো এমনই ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগের ভেতর দিয়ে জন্ম নেয়।

আজ ফিরে তাকালে মনে হয়, আমি যেন দুই মহাদেশের দুই পথিকের মধ্যে এক ক্ষণিকের সেতু ছিলাম—কুষ্টিয়ার আখড়ার লালন এবং নিউইয়র্কের গ্রিনিচ ভিলেজের গিন্সবার্গের মধ্যে। একজন বলেছিলেন, 'লালন বলে...', আরেকজন উত্তর দিয়েছিলেন, 'Ginsberg says...' সেই সংলাপের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকা আমার জীবনের এক অনন্য সৌভাগ্য। সাহিত্য ইতিহাসের বিচারে আমার দাবিটি যুক্তিসঙ্গতভাবে এভাবে বলা যায়, আমি লালনকে গিন্সবার্গের কাছে 'পরিচয় করিয়ে দিইনি' একেবারে শূন্য থেকে, কারণ তিনি আগে থেকেই লালনের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু Songs of Lalon Shah বইটি তাঁর হাতে পৌঁছে দিয়ে সেই আগ্রহকে সৃজনশীল রূপ লাভের সুযোগ করে দিয়েছিলাম। After Lalon কবিতার জন্মপর্বে তাই আমার ভূমিকা একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারী বা আমার দৃশ্যশিল্পের যাত্রায় একটি মূল্যবান অধ্যায়। ইতিহাসে দেখা যায় একটি বই, আলাপ, একটি ছবি কিংবা একজন মানুষের মধ্যস্থতা থেকে নতুন সৃষ্টির জন্ম হয়।

মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া কখনো কখনো ইতিহাসেরও দেখা হওয়া। অধিকাংশ সাক্ষাৎ সময়ের ধুলোয় হারিয়ে যায়, কিন্তু কিছু সাক্ষাৎ থেকে যায় নদীর তলদেশে জমে থাকা পলির মতো।

বহু বছর পর সেখান থেকে জন্ম নেয় নতুন ভূমি, নতুন মানচিত্র, নতুন স্মৃতি। নিউইয়র্ক শহরে প্রথম যখন অ্যালেন গিন্সবার্গকে দেখি, তখন আমার মনে হয়নি, আমি কোনো কিংবদন্তিকে দেখছি। বরং মনে হয়েছিল, এই মানুষ যেন এই শহরেরই চলমান অংশ। যেমন সাবওয়ের শব্দ, ফুটপাতের ফাটল, যেমন কোনো দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি—তেমনি স্বাভাবিক, তেমনি অনিবার্য।

তাঁর লম্বা দেহ, দাড়ি, চশমার কাছে জমে থাকা আলো, আর সেই অদ্ভুত কৌতূহলী চোখ—সব মিলিয়ে তিনি যেন একজন কবির চেয়ে বেশি কিছু, যেন এক অস্থির সময়ের বিবেক। গ্রিনিচ ভিলেজের রাস্তাগুলোতে হাঁটতে হাঁটতে প্রায়ই আমি ভাবতাম, পৃথিবীর বড় কবিরা আসলে কোথায় বাস করেন? তাঁরা কি বইয়ের ভেতরে থাকেন, নাকি মানুষের মধ্যে? গিন্সবার্গকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি বইয়ের কোনো বাসিন্দা নন। তিনি থাকেন মানুষের মধ্যে। সেই মানুষেরা কখনো গৃহহীন, কখনো প্রতিবাদী ছাত্র, কখনো যুদ্ধবিরোধী কর্মী ও কখনো বা নিঃসঙ্গ শিল্পী। ছবি তোলার সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, সাহিত্যকে রাজদরবার থেকে নামিয়ে আনতে হবে মানুষের রাস্তায়। কথাটি শুনে আমার মনে হয়েছিল, তিনি যেন কবিতা নয়, পানির কথা বলছেন। পানি যেমন সবার জন্য, কবিতাও তেমন সবার জন্য। সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম, বিট আন্দোলনের আসল শক্তি কোথায়। তারা ভাষার অলংকার ভাঙতে চেয়েছিল, কিন্তু মানুষের মর্যাদা নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এমনই ছিল। তিনি কোন দূরদেশের প্রতি করুণা দেখাননি, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে যশোর রোডে তিনি শুধু শরণার্থীদের দেখেননি, তিনি দেখেছিলেন মানবসভ্যতার আহত মুখ। হাজার হাজার মানুষের ক্ষুধা, বৃষ্টি, কাদা, কান্না—এসব বাস্তবতা তাঁর কবিতায় পরিণত হয়েছিল। সেই কবিতা পরে পৃথিবীর নানা দেশে পৌঁছেছে, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এক রক্তাক্ত সেপ্টেম্বর। আমার কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল, দুই দশকের বেশি সময় পরে সেই স্মৃতি তাঁর ভেতরে তখনো জীবন্ত। বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করলে তাঁর কণ্ঠে একটি বিশেষ কোমলতা এসে যেত। যেন দূরের কোনো নদীর শব্দ তিনি শুনতে পাচ্ছেন। ১৯৯২ সালে একদিন আমি তাঁকে লালনের একটি গানের ইংরেজিতে অনূদিত বই উপহার দিয়েছিলাম। সাংস্কৃতিক ইতিহাসে কখনো এমন ঘটনা মহাদেশকে মহাদেশের সঙ্গে যুক্ত করে। আমি আজও সেই দৃশ্য ভুলতে পারি না। গিন্সবার্গ বইটির পাতা উল্টে লালনের গান পাঠ করেছিলেন। তাঁর চোখে সেই একই কৌতূহল, যা আমি প্রথম দেখেছিলাম গ্রিনিচ ভিলেজের রাস্তায়। মনে হয়েছিল একজন কবি আরেকজন দূর সমুদ্রপারের কবির সন্ধান পেয়েছেন। একজন খুঁজছেন ভাষার স্বাধীনতা, আরেকজন খুঁজছেন আত্মার স্বাধীনতা। তাঁদের জন্মভূমি আলাদা, ভাষা আলাদা, কিন্তু অনুসন্ধান একই।

পরে যখন তাঁর বাসায় বসে তাঁকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে 'September on Jessore Road' গাইতে শুনি, তখন আমার মনে হয়েছিল, ইতিহাসেরও কখনো কখনো নিজস্ব সুর থাকে। সেই সুর ছিল বৃষ্টিভেজা শরণার্থীশিবির, ছিল কাদায় ডুবে থাকা শিশু, ছিল মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে চলা হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ—আর ছিল বাংলাদেশের নাম। ছিল একজন কবির কণ্ঠ, যিনি দূর দেশের মানুষের মুক্তির কান্নাকে নিজের কণ্ঠস্বর বানিয়ে নিয়েছিলেন। আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে মনে হয়, আমি আসলে একজন কবির ছবি তুলিনি। আমি তুলেছিলাম দুটি দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা এক অদৃশ্য সেতুর ছবি। ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হয়েছিল শুধু একজন মানুষ নয়, একটি সময়, একটি বিবেক, একটি মানবিক অবস্থান। পৃথিবীতে অনেক কবি আছেন, যাদের লেখা পাঠ্যপুস্তকে টিকে থাকে। আবার কিছু কবি আছেন, যারা মানুষের স্মৃতিতে টিকে থাকেন। গিন্সবার্গ সেই দ্বিতীয় দলের মানুষ। কারণ, তিনি শুধু কবিতাই লেখেননি, তিনি মানুষের সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর আমি এক বাংলাদেশি আলোকচিত্রশিল্পী, সৌভাগ্যক্রমে সেই সাক্ষ্যের কিছু দুর্লভ মুহূর্ত ধরে রাখতে পেরেছিলাম আমার ক্যামেরার অন্ধকারে। কখনো মনে হয় এই ছবিগুলি আসলে আমার নয়। তারা ইতিহাসের। তারা বাংলাদেশের। তারা সেই কবির, যিনি নিউইয়র্কের জানালার পাশে বসে যশোর রোডের বৃষ্টি শুনতে পেতেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা কবিতাটি আবৃত্তি করেন এবং পরে হারমোনিয়ামসহযোগে গান হিসেবেও পরিবেশন করেন। সেই পরিবেশনগুলোর একটিতে বব ডিলানও অংশ নেন।

গিন্সবার্গ চেয়েছিলেন আমাদের শরণার্থী সংকটকে আমেরিকার তরুণসমাজের বিবেকের সামনে হাজির করতে। 'September on Jessore Road' গিন্সবার্গের শ্রেষ্ঠ নন্দনতাত্ত্বিক কবিতা না-ও হতে পারে, কিন্তু এটি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক কবিতাগুলির একটি। এখানে তিনি কেবল কবি নন, একজন মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে, কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ও উদ্বাস্তু মানুষদের চরম দুর্দশা নিজ চোখে দেখেছিলেন। সেই কারণে আজও কবিতাটিকে ঐতিহাসিক দলিলের মতো পাঠ করা যায়। গিন্সবার্গের ক্যামেরায় তোলা সে সময়ের যশোর রোডের ছবিগুলো বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর কবিতাটি এক বিশাল আলোকচিত্র সম্ভার। যেখানে লক্ষ মানুষের মুখ এক ফ্রেমে এসে দাঁড়িয়েছে। আর সেই ফ্রেমের নাম 'September on Jessore Road'।

বিট জেনারেশন। অ্যালেন গিন্সবার্গ এই প্রজন্মের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা এবং গুরু। 'বিট জেনারেশন'কে অনেক সময় কেবল সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি রাজনৈতিক। যদিও তারা প্রচলিত অর্থে কোনো রাজনৈতিক দল বা মতবাদের কর্মী ছিলেন না। বিটদের বোঝার জন্য প্রথমেই একটি ভুল ধারণা দূর করতে হয়। তারা ছিলেন না মার্ক্সবাদী সংগঠক, না সমাজতান্ত্রিক পার্টির সদস্য, না উদারপন্থী রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু তাই বলে তারা 'অরাজনৈতিক' ছিলেন, এ কথা সত্য নয়। বরং বলা যায়, তারা বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা যখন বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, তখন রাষ্ট্র, করপোরেশন, সামরিক বাহিনী এবং গণমাধ্যম মিলে একধরনের 'আদর্শ আমেরিকান' নাগরিক তৈরি করতে চেয়েছিল। বিট কবিরা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। তারা প্রশ্ন করেন, কেন মানুষকে সারা জীবন একই জীবন যাপন করতে হবে? কেন যৌনতা নিয়ে মিথ্যা নৈতিকতা থাকবে? শিল্পকে বাজারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে কেন? কেন রাষ্ট্র নাগরিকদের চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে? কেন যুদ্ধকে দেশপ্রেম বলা হবে? এই প্রশ্নগুলো সরাসরি রাজনৈতিক। কিন্তু এগুলো সংসদীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়। এগুলো সত্তার প্রশ্ন। ১৯৪৫ সাল থেকে আমেরিকা মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইল। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ভাষা ছিল তার সরকারি বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ মানুষের বসার ঘরে প্রবেশ করল। বাংলাদেশে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা বিটদের প্রভাবে যুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় সোচ্চার। পেঙ্গুইন বুকসের কবিতার বইতে তখন গিন্সবার্গ অতি পরিচিত নাম। ঢাকার কবিরা বিট বংশের প্রায় সকল কবিদের কবিতা মুখস্থ করছে এবং তাদের মতো করে জীবন যাপন করতে চাইছে। কলকাতায় আরও আগে ১৯৬২ সালে গিন্সবার্গের আগমন। তাদের বেহিসেবি, প্রথাবিরোধী ও ভবঘুরে জীবনকে কেন্দ্র করে কলকাতার তরুণ ও উঠতি কবিরা যুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

টেলিভিশনের যুগে প্রথমবারের মতো যুদ্ধ মানুষের বসার ঘরে প্রবেশ করল। প্রতিদিন সংবাদচিত্রে দেখা যাচ্ছিল বোমাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপ, নিহত শিশু, আহত সাধারণ মানুষ। একজন কবি যখন এসব দৃশ্য দেখেন, তখন তাঁর কল্পনা আর নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। অ্যালেন গিন্সবার্গের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নতুন মাত্রা পায়। গিন্সবার্গ আগে থেকেই রাষ্ট্রের ক্ষমতা, করপোরেট সংস্কৃতি এবং সামাজিক ভণ্ডামির সমালোচক ছিলেন। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধ তাঁকে সরাসরি আন্দোলনের ময়দানে নিয়ে আসে। শুধু কবিতা লেখেননি তিনি। তিনি প্রতিবাদী মিছিলে হেঁটেছেন। সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। যুদ্ধবিরোধী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি প্রতিবাদী ভাষাকেও তিনি বদলে দিয়েছিলেন। অনেক রাজনৈতিক কর্মী যেখানে ক্রোধকে অস্ত্র বানিয়েছিলেন, গিন্সবার্গ সেখানে ধ্যান, মন্ত্রোচ্চারণ এবং আধ্যাত্মিক চেতনাকে প্রতিবাদের অংশ করে তুলেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যুদ্ধ কেবল সামরিক ঘটনা নয়, এটি মানুষের চেতনারও অসুস্থতা।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে বৃহৎ যুব-আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করেছিল বিট জেনারেশন। জ্যাক কেরুয়াক, উইলিয়াম এস বারোজ, গিন্সবার্গ এবং তাদের সহযাত্রীরা ব্যক্তিস্বাধীনতা, রাষ্ট্রবিরোধী সমালোচনা এবং বিকল্প জীবনধারার যে বীজ বপন করেছিলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ সেই বীজকে আন্দোলনের বৃক্ষে পরিণত করে। ষাটের দশকের শেষভাগে হাজার হাজার তরুণ যুদ্ধবিরোধী মিছিলে অংশ নিচ্ছিল। তাদের হাতে ছিল কবিতার বই। গলায় ছিল গিটার। তাদের স্লোগানের ভিত্তিতে ছিল সাহিত্য। ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদ শুধু আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্যারিস, বার্লিন, রোম এবং লন্ডনের ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। কবিরা বুঝতে শুরু করেন সাহিত্য কেবল জাতীয় অভিজ্ঞতা নয়, এটি বৈশ্বিক নৈতিকতারও অংশ।

হারমোনিয়ম বাজিয়ে 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড', কবিতাটি গানের সুরে গাইছেন গিন্সবার্গ; তার অ্যাপার্টমেন্টে ১৯৯১। ছবি: নাসির আলী মামুন/ ফটোজিয়াম

ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় এবং লাতিন আমেরিকার কবি ও শিল্পীরা ভিয়েতনামকে একটি প্রতীক হিসেবে দেখেন—শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক। এখানে ঢাকা ও কলকাতা বসে ছিল না। এখানে কবি, শিল্পী ও সাংবাদিকেরা যুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় সোচ্চার হন। পূর্ব ইউরোপের পরিস্থিতি আরও জটিল ছিল। অনেক লেখক আমেরিকার যুদ্ধনীতির সমালোচনা করতেন, কিন্তু একই সঙ্গে নিজ রাষ্ট্রব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও দেখতেন। তাঁরা বুঝতেন এক সাম্রাজ্যের সমালোচনা করলেই সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো হয় না। সত্যিকারের স্বাধীনতা মানে সব ধরনের ক্ষমতার সমালোচনা করার অধিকার। গিন্সবার্গ এই জায়গায় তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। কারণ, তিনি ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেছেন আবার মস্কোরও সমালোচনা করেছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কবিতার ভাষায় বড় পরিবর্তন আসে। আর কেবল ব্যক্তিগত আবেগ নয়; কবিতায় ঢুকে পড়ে সংবাদপত্র। টেলিভিশনের ছবি। মৃত্যুর পরিসংখ্যান। রাজনৈতিক ভাষা। রাষ্ট্রের মিথ্যাচার ও যুদ্ধের স্মৃতি। ফলে সারা বিশ্বে আধুনিক কবিতা আরও প্রত্যক্ষ, আরও সামাজিক এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপক রাজনৈতিক হয়ে ওঠে।

আশির দশকের শেষে যখন আমি নিউইয়র্কপ্রবাসী, তখন গিন্সবার্গ আমার বন্ধু। বিট জেনারেশনের প্রায় সকলেই তখন জীবিত। এদের প্রত্যেকের বিষণ্ন, ক্লান্ত কিন্তু প্রতিবাদী মুখচ্ছবি বারবার আমার ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে। তারা শুধু ক্যামেরার সামনে নিজের মুহূর্ত-দান করে উধাও হয়ে যাননি। নিয়মিত যোগাযোগের কারণে আমাকে ছবি এঁকে দিয়েছেন। ১৯৯১ সালের মে মাসে কবি নির্মলেন্দু গুণ যখন নিউইয়র্ক এলেন, টমকিন্স স্কয়ার পার্কে প্রথম দেখা হয়, তারপর কয়েকটি অনুষ্ঠানে এবং গিন্সবার্গের অ্যাপার্টমেন্টে। গল্প করার সময় যখন তাঁর ভিয়েতনাম ভ্রমণের কথা উল্লেখ করলেন, মনে হলো গিন্সবার্গ একটু বিস্মিত হলেন। দুই কবির একসাথে ছবি তোলার মুহূর্তে গিন্সবার্গ জানতে চাইলেন, একাত্তরের যুদ্ধের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না। গুণ দৃঢ়তার সাথে বললেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তখন জেনেছিলেন গিন্সবার্গও কলকাতায় অবস্থান করছেন...। দুজনের মুখে ক্লান্তির ছায়ার মধ্যে যেন আলো ঠিকরে পড়ল। একটি ঐশ্বরিক নীরবতায় অ্যাপার্টমেন্টটি দুই কবির বয়ানে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি যেন পাঠ করতে থাকে।

ম্যানহ্যাটনের ইস্ট রিভারের ওপর দিয়ে বিকেলের শেষ আলো যেন গন্তব্যে যেতে চায়। আমরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ভিলেজের রাস্তায় নেমে আসি, কোলাহলের মধ্যে। আজকে গিন্সবার্গ আমাদের খাওয়াবেন। তাঁর সান্নিধ্য পেতে আমরাও আগ্রহী। বড় রাস্তার পাশে গ্রাফিতি আঁকা দেয়ালের সামনে গিন্সবার্গ বাংলাদেশের কবির দুটি ছবি তুললেন। আর আমি দুই দেশের ভিন্ন ভাষার দুই স্রষ্টার ছবি আমার ক্যামেরায় ধারণ করলাম।

আশির দশকে নিউইয়র্কের টমকিন্স স্কয়ার পার্কে বসে যদি কেউ গিন্সবার্গকে দেখত, তবে হয়তো ভাবত—এ তো একজন কবি। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন এক নতুন ধরনের জনবুদ্ধিজীবী। তাঁর হাতে ছিল কবিতার বই। কিন্তু সামনে ছিল পৃথিবীর মানচিত্র। তিনি জানতেন, নিউইয়র্কের একটি কবিতা কখনো কখনো সাইগন, প্রাগ, কলকাতা বা ঢাকার তরুণদেরও স্পর্শ করতে পারে। এই কারণেই ভিয়েতনাম যুদ্ধ কবিদের বদলে দিয়েছিল। তারা আর কেবল ভাষার কারিগর রইলেন না। তারা হয়ে উঠলেন সাক্ষী, হয়ে উঠলেন প্রতিবাদী। এবং সেই ঐতিহাসিক রূপান্তরের অন্যতম প্রতীক হয়ে আছেন অ্যালেন গিন্সবার্গ—যিনি দেখিয়েছিলেন, কখনো কখনো একটি কবিতাও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো শক্তিশালী হতে পারে, আর একজন কবিও একটি যুগের নৈতিক বিবেক হয়ে উঠতে পারেন।

জন্মশতবার্ষিকীতে বন্ধু অ্যালেন গিন্সবার্গকে (১৯২৬-১৯৯৭) গভীর শ্রদ্ধায় আমরা স্মরণ করি।

জুন, ২০২৩

 

Related Topics

টপ নিউজ

ইজেল / অ্যালেন গিন্সবার্গ / সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড / মুক্তিযুদ্ধ / গণহত্যা / লালন সাঁই / দর্শন

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারবিরোধী উস্কানির অভিযোগে সাবেক ছাত্রীর বিরুদ্ধে মাইলস্টোন কলেজের জিডি
  • ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
    বিক্রির পতন ও আকাশছোঁয়া ব্যয়ে আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে আবাসন খাত
  • কোলাজ: টিবিএস
    মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগ, ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
  • ছবি: রয়টার্স
    ‘কেউ আমাদের ফ্রি-তে কিছু দেয় না’: ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের কড়া জবাব মেসির
  • ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। ছবি: রয়টার্স
    ‘ওকে এক্ষুনি তাড়াও’: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর তোপের মুখে ইংল্যান্ড কোচ, এবারও পিছু ছাড়ল না ভিএআর বিতর্ক
  • গাজা ফ্লোটিলার জার্মান অধিকারকর্মী আন্না লিডকে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
    ‘ওরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দিতে চায়’: ইসরায়েলি কারাগারে ধর্ষণের শিকার গাজা ফ্লোটিলার জার্মান অধিকারকর্মী

Related News

  • অ্যালেন গিন্সবার্গ || সাহিত্যকে আমরা ছিনিয়ে এনে রাস্তায় স্থাপন করেছি
  • গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ১৭টি গোপন রিপোর্ট সরাল ইইউ; ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের গণহত্যার অভিযোগ
  • ম্যাজিক বুট, টোটাল ফুটবল, স্বৈরশাসকের উৎসব এবং ‘ইশ্বরের হাত’
  • জাহানারা ইমামকে 'জাহান্নামের ইমাম' আখ্যা দিয়ে পোস্ট রাকসু'র সংস্কৃতি সম্পাদকের   
  • গাজায় গণহত্যায় ইচ্ছাকৃতভাবেই শিশুদের টার্গেট করছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারবিরোধী উস্কানির অভিযোগে সাবেক ছাত্রীর বিরুদ্ধে মাইলস্টোন কলেজের জিডি

2
ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
অর্থনীতি

বিক্রির পতন ও আকাশছোঁয়া ব্যয়ে আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে আবাসন খাত

3
কোলাজ: টিবিএস
বাংলাদেশ

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগ, ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

4
ছবি: রয়টার্স
খেলা

‘কেউ আমাদের ফ্রি-তে কিছু দেয় না’: ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের কড়া জবাব মেসির

5
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। ছবি: রয়টার্স
খেলা

‘ওকে এক্ষুনি তাড়াও’: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর তোপের মুখে ইংল্যান্ড কোচ, এবারও পিছু ছাড়ল না ভিএআর বিতর্ক

6
গাজা ফ্লোটিলার জার্মান অধিকারকর্মী আন্না লিডকে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
আন্তর্জাতিক

‘ওরা আমাদের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দিতে চায়’: ইসরায়েলি কারাগারে ধর্ষণের শিকার গাজা ফ্লোটিলার জার্মান অধিকারকর্মী

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab