এক মাঠ থেকে মেরে আরেক মাঠের দালানের গ্লাস ভাঙলেন জ্যাকস
'আমরা তো প্রেসবক্সেও নিরাপদ নই'- ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ানো এক সংবাদকর্মী মজা করে কথাটা বলছিলেন। মজা করে বললেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গ্রাউন্ডের হসপিটালিটি বক্সের ছাদে দাঁড়ানো সংবাদকর্মীদের চোখেমুখে তখন আতঙ্ক। দূরত্ব বেশ হলেও কখন বল উড়ে আসবে, সেটা বোঝার উপায় নেই!
এই আতঙ্কের নাম উইল জ্যাকস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের এই ওপেনার নেটে গেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মাঠের আশেপাশে। দুই নম্বর গ্রাউন্ডের সেন্টার উইকেট থেকে ইংলিশ এই ব্যাটসম্যানের মারা ছক্কা কখনও সীমানা ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ছে দালানের গ্লাসে, কখনও আবার পাশের চা বাগানে।
নেটের অনুশীলনে আগের দিনও ভীতি ছড়িয়েছেন জ্যাকস। রোববারের অনুশীলনে তার মারা বেশ কয়েকটি বিশাল ছক্কা আছড়ে পড়ে দুই নম্বর গ্রাউন্ডের হসপিটালিটি বক্সের ছাদে। যেখানে দাঁড়ানো সাংবাদিকরা একটু পরপরই বলে উঠেছেন 'ওয়াচ, ওয়াচ।' সোমবার জ্যাকসের মারা একটি শট সেই সীমানাও ছাড়িয়ে গেল। নেটে এনামুল হক জুনিয়রের বলে জ্যাকসের মারা একটি ছক্কায় রীতিমতো হইচই পড়ে যায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুই নম্বর গ্রাউন্ড থেকে বিশাল ছক্কা মেরে এক নম্বর গ্রাউন্ডের বিল্ডিংয়ের গ্লাস ভেঙে ফেলেছেন তিনি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এক নম্বর (মূল মাঠ) মাঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে টসে জিতে তখন ব্যাটিং করছিল ফরচুন বরিশাল। দ্বিতীয় ওভারের খেলা চলছিল, এমন সময় কাচ ভাঙার আওয়াজ পাওয়া যায় সংবাদকর্মীদের কাজের স্থান প্রেসবক্স থেকে। পাশেই দাঁড়ানো সাংবাদিকরা তখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিলেন বলের আঘাত সহ্য করতে হয়নি বলে।
এক নম্বর গ্রাউন্ড থেকে দুই নম্বর গ্রাউন্ডে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে আয়রন ব্রিজ। দুই নম্বর মাঠের উইকেট থেকে ব্রিজটার দূরত্ব বেশ হওয়ায় সেখানটা নিরাপদ ভেবে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু হঠাৎই একটা বল উড়ে আসে হসপিটালিটি বক্সের ছাদের ছাউনির উপর দিয়ে। আয়রন ব্রিজে পড়ে আঘাত হানে এক নম্বর মাঠের প্রেসবক্সের বাইরের দিকের অংশের একটি গ্লাসে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গ্লাস।
এখানেই আতঙ্কের শেষ হতে পারতো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আর রক্ষা হলো না। ছাদের ছাউনি পেরিয়ে আয়রন ব্রিজে আবার বল উড়ে এলো, এবার তাতে আহত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দেব দাস। চট্টগ্রামেরই আরেক বিদেশি কেনার লুইসের মারা বিশাল ছক্কায় এসে এক ড্রপ দিয়ে জয়দেবের হাতে আঘাত হানে।
এক নম্বর মাঠের ছাদে বল পাঠানোর তালিকায় অবশ্য আরও কয়েকজন আছেন। অনুশীলনে ফরচুন বরিশালের স্যাম হেইনও বেশ কয়েকবার বড় ছক্কায় বল ছাদে পাঠান। মিনিস্টার ঢাকার মোহাম্মদ শাহজাদ, খুলনা টাইগার্সের সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার, বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানদের শট কতোবার যে এক নম্বর মাঠের প্রেসবক্সের গ্লাসে এসে লেগেছে, সেটার ইয়ত্তা নেই।
