বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্পকে দেখেই তুমুল দুয়ো দিলেন দর্শকরা, আওয়াজের মাত্রা বেড়ে ৮৪ ডেসিবেল হয়ে গেল
বিশ্বকাপ ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে পা রাখতেই দর্শকদের তুমুল দুয়োধ্বনির মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এর কিছুক্ষণ পরই স্পেনের বিজয়োৎসবে একরকম জোর করেই ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কিক-অফের পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে স্টেডিয়ামের আকাশে চক্কর দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান। তাতে চেপেই হয়ে মাঠে পৌঁছান ট্রাম্প। এরপর ইনফান্তিনোকে সঙ্গে নিয়ে কাচে ঘেরা এক বিলাসবহুল ভিআইপি বক্সে বসে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি।
তাদের পাশেই ছিলেন অন্যান্য বিশ্বনেতা ও প্রাক্তন খেলোয়াড়েরা—যাদের মধ্যে ছিলেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম।
মার্কিন জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার ঠিক পরেই স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে মুহূর্তের জন্য ভেসে ওঠে ট্রাম্পের চেহারা। তখন গ্যালারির কিছু অংশ থেকে বিক্ষিপ্ত দুয়োধ্বনি উড়ে এলেও নিজের প্রেসিডেন্সির মেয়াদে অন্যান্য স্পোর্টিং ইভেন্টে তাকে এর চেয়েও অনেক বেশি বৈরী পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।
কিন্তু আসল নাটক শুরু হলো স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো মাঠের মাঝখানে এসে দাঁড়াতেই কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল কানফাটানো দুয়োধ্বনিতে।
হোয়াইট হাউসের পুল রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প মাঠে ঢোকার আগে দর্শকদের কোলাহলের মাত্রা ছিল মোটামুটি ৭৮ ডেসিবেল। কিন্তু তিনি পা রাখতেই তা একলাফে চড়ে যায় ৮৪ ডেসিবেলে।
এরপরই ঘটল সেই চরম অস্বস্তিকর ঘটনা। স্পেনের হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেওয়ার পর দলটির উদযাপনের সময় পোডিয়ামের পাশেই গিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইনফান্তিনোকে কার্যত চুপিচুপি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
গত গ্রীষ্মে এই স্টেডিয়ামেই আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন চেলসির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর তাদের উদযাপনের সময়ও গায়ে পড়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, যা খেলোয়াড়দের বেশ অবাক করেছিল।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক স্পোর্টিং ইভেন্টে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। গত বছর তিনি সুপার বোল, টেনিসের ইউএস ওপেন, ডেটোনা ৫০০ ও গলফের রাইডার কাপের গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন। এ বছর উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকটি গলফ টুর্নামেন্ট, কলেজ ফুটবলের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ গেম ও এনবিএ ফাইনালসের তৃতীয় গেমে। সেখানেও নিউইয়র্ক নিকসের সমর্থকদের কাছে দুয়ো শুনতে হয়েছিল তাঁকে।
কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই গ্রীষ্মের মেগা ইভেন্টে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ দেখতে মাঠে এলেন ট্রাম্প।
এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে ছিলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আয়োজিত কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তখন ট্রাম্পের পূর্বসূরি বিল ক্লিনটন ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন না। সেবার ক্লিনটনের বদলে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট আল গোর।
ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত রেড কার্ড স্থগিতের জন্য ফিফা প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তদবিরও করেছিলেন তিনি। ফিফা শেষপর্যন্ত বালোগানের সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও এই রাজনৈতিক ডামাডোলে বেশ ভালোই ধাক্কা খায় মার্কিন দল। প্রতিশ্রুতি জাগিয়েও শেষমেশ বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা।
