বিশ্বকাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ওড়ানো হয়নি ইংল্যান্ডের পতাকা, স্টারমারকে ‘প্লাস্টিক দেশপ্রেমিক’ বললেন বিরোধীরা
ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে সেন্ট জর্জের ক্রুশ-চিহ্নিত পতাকা ওড়াননি কিয়ার স্টারমার। এর জেরে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আসলে 'প্লাস্টিক দেশপ্রেমিক', অর্থাৎ 'মেকি দেশপ্রেমিক'।
আগের প্রধানমন্ত্রীরা ইংল্যান্ড ফুটবল দলের (থ্রি লায়ন্স' প্রতি বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে পতাকা না ওড়ানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের দিনগুলোতে ডাউনিং স্ট্রিটে পতাকা ওড়াতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা। কেউ কেউ আবার গোটা টুর্নামেন্টজুড়েই পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু স্টারমারের সময় সেই সেন্ট জর্জের ক্রুশ-চিহ্নিত পতাকাটি ওড়ানো হয়নি। যদিও গত বছর সেন্ট জর্জ ডে-তে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, 'এই পতাকা নিয়ে আমাদের সবার গর্বিত হওয়া উচিত।'
পতাকা না ওড়ানোর এই সিদ্ধান্তের কারণে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হোলিনরেক কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, স্টারমারও 'লেবার পার্টির বাকিদের মতোই প্লাস্টিক দেশপ্রেমিক'।
বিশ্বকাপের জন্য ডাউনিং স্ট্রিটে পতাকা ওড়ানোর প্রথম উল্লেখ মেলে ২০০৬ সালে। তবে ডেভিড ক্যামেরনের আমলে এটি প্রথায় পরিণত হয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান চলাকালীন তিনি টানা পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপসও ইংল্যান্ড দলকে সমর্থন জানাতে দেশের সব কাউন্সিলকে বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যাতে উৎসবের 'আনন্দ মাটি করার' মতো কোনো অভিযোগ না ওঠে।
পরে ২০১৮ সালে থেরেসা মে-ও জাতীয় দলের সমর্থনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে 'গর্বের সঙ্গে পতাকা ওড়ানোর' কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
গত বছর সেন্ট জর্জ ডে-র ভাষণে এই পতাকার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন স্টারমার। তারপরও এবার তিনি এই পতাকা ওড়াননি।
২০২৫ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'আমাদের এই পতাকা নিয়ে গর্ব করা উচিত। একে কখনোই অবহেলা করা যায় না। কারণ এই পতাকা আমাদের মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।'
তবে ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড দল নকআউট পর্বে পৌঁছালে ওই পর্বের ম্যাচে পতাকা ওড়ানো হবে। স্টারমার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য পুরোনো 'প্রথা' বজায় না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, স্কটল্যান্ড নকআউট পর্বে উঠলে তাদের জাতীয় পতাকা সলটায়ার-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এদিকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পতাকা না ওড়ানোয় কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হোলিনরেক বলেন, 'কিয়ার স্টার্মার দাবি করেন, তিনি দেশকে ভালোবাসেন। অথচ বিশ্বকাপ চলাকালীন ইংল্যান্ডের পতাকা ওড়ান না। তিনি আসলে লেবার পার্টির বাকিদের মতোই প্লাস্টিক দেশপ্রেমিক।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর উচিত নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখা এবং আমাদের পতাকা ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখন। এগুলোই আমাদের এক সূত্রে বাঁধে।
'স্টারমার আর তার সহকর্মীরা যা-ই ভাবুন না কেন, দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতি ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের হয়ে গলা ফাটাবে।'
একই সুরে লেবার সরকারের সমালোচনা করেছে রিফর্ম ইউকে দলও। দলটির একঅজন মুখপাত্র বলেন, 'ইংল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালীন সেন্ট জর্জের পতাকা ওড়ানোর দীর্ঘ দিনের রীতি বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টির নিরিখেও বিস্ময়কর। গত সেন্ট জর্জ ডে-তেও স্টারমার এই পতাকাকে কতটা "উৎসাহিত" করেন, তা নিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে, সেগুলি আসলে ফাঁকা আওয়াজ আর অর্থহীন বুলি ছাড়া কিছুই ছিল না।'
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ড দলকে সমর্থন করতে এবং গোটা দেশকে দলের পাশে একজোট হতে দেখে অত্যন্ত গর্বিত।'
