যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ইরানের অধিনায়ক ও সহকারী কোচকে আটকে দেওয়ার অভিযোগ
মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে যাওয়ার সময় ইরানের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি এবং সহকারী কোচ সাঈদ আলহোয়িকে মার্কিন কর্মকর্তারা আটকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
বুধবার ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সিয়াটলে যাওয়ার পথে মার্কিন কর্মকর্তারা এই দুইজনের জন্য 'সমস্যা সৃষ্টি' করেন এবং এতে প্রতিনিধি দলের যাত্রা বিলম্বিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় দলের তৃতীয় সফরের সময় আয়োজক দেশের কর্মকর্তারা সাঈদ আলহোয়ি এবং মেহদি তারেমিকে বিরক্ত করেন, যার ফলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সিয়াটলগামী দলের রওনা হতে দেরি হয়।'
তবে কী কারণে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল বা কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় ২৫ মিনিট পর তারেমি ও আলহোয়ি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ দেন এবং দলের সঙ্গে সিয়াটলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরান দলের খেলোয়াড় ও সহযোগী কর্মকর্তারা মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করছেন।
এর আগে ইরানের প্রতিনিধিদল দুইবার যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছে। প্রতিবারই ম্যাচের এক দিন আগে তারা সেখানে পৌঁছেছে এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই ফিরে গেছে। প্রথম দুটি ম্যাচ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় ম্যাচটি হবে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে।
এদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছিল, নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে ইরান দল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের দেশ ছাড়তে হবে।
ইরানের খেলোয়াড় ও ক্রীড়া কর্মকর্তারা এর আগেও জাতীয় দলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে হলেও দলটিকে বেস ক্যাম্প গড়তে হয়েছে মেক্সিকোতে।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান দলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিরাপত্তাজনিত কারণে দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতি কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তারা কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
