প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিলেন পদ্মা সেতু নিয়ে কে কী বলেছিলেন
বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন বাতিল করার সময় দেশের একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজের সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের করা নেতিবাচক নানা মন্তব্যের কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব বলেন তিনি।
বাংলাদেশ যে কখনো নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে, এই বিশ্বাস না থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সমালোচনা করেন।
এরপর প্রায় ১০ বছর আগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের করা কিছু উদ্ধৃতি পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, "আমি জানিনা কেন তাদের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব! তারা ভুলে যান, আমরা বিজয়ী জাতি।"
"আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি যেটা পারবো, সেটাই বলব। যেটা বলব, ইনশাআল্লাহ সেটা আমি করব," বলেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক তাদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। বিশ্বব্যাংক বলে, সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজসে বিভিন্ন সূত্র থেকে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক এ অভিযোগ প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি দেন, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে।
বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাহারের পর শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
অবশেষে আর মাত্র তিনদিন পর, ২৫ জুন তারিখে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর।
এ সেতুকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক গড়ে উঠবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই সেতুর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।"
"পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগের একটা বড় লিংক। তাই আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই সেতুর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া পদ্মার দুই পাড়ে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে।"
বহুমুখী পদ্মা সেতুর উপরের ডেক দিয়ে যানবাহন ও নিচের ডেক দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে।
সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেলপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
