ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করল পাপুয়ার বিদ্রোহীরা, জ্বালিয়ে দিল বিমান
ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পাপুয়ার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং একটি যাত্রীবাহী বিমানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
নিহত মার্কিন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। ওই প্রত্যন্ত বিমানক্ষেত্রে এক দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর গত শুক্রবার মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন।
ফ্রি পাপুয়া মুভমেন্টের সশস্ত্র শাখা ওয়েস্ট পাপুয়া লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) গণমাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিওতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ভিডিওতে বন্দুক ও কুড়াল হাতে থাকা বিদ্রোহীদের পাপুয়ার স্বাধীনতার প্রতীক 'মর্নিং স্টার' (ভোরের তারা) পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়।
সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর মুখপাত্র এই হত্যাকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া সরকারের জন্য একটি 'বার্তা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিমানটি 'ঘন ঘন ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওই এলাকায় নিয়ে আসছিল এবং টিপিএনপিবি-এর দেওয়া চরমপত্র বা আলটিমেটাম লঙ্ঘন করছিল।'
টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি বলেন, এই হামলা ইন্দোনেশিয়া ও মার্কিন সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা, কারণ তারা 'পাপুয়ায় ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী ও ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির মধ্যকার চলমান লড়াইয়ের মূল কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।' তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইন্দোনেশিয়া যদি বেসামরিক বিমানগুলোকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তারা আরও বড় আকারের হামলা শুরু করবে।
ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিয়ান্তো জানিয়েছেন, হাবোমা অপারেশন্স কমান্ডের ১০ জন সদস্যের একটি বিশেষ দল এই প্রত্যন্ত বিমানক্ষেত্রটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সফলভাবে মরদেহ উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করে।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পাপুয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই স্বাধীনতার দাবিতে এই সশস্ত্র লড়াই চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত অস্ত্র হাতে পাওয়ার পর বিদ্রোহীদের এই হামলা আরও প্রাণঘাতী ও ঘন ঘন রূপ নিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটি এক পাইলট ও সাতজন যাত্রী নিয়ে হাইল্যান্ড পাপুয়ার ওয়ামেনা শহর থেকে ইয়াহুকিমোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল এবং অবতরণের পরই বিমানটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান পিটি এএমএ মূলত পাপুয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খাদ্য, জ্বালানি ও চিঠি আদান-প্রদান করে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাপুয়ার পার্বত্য অঞ্চল নডুগাতে একটি ছোট বাণিজ্যিক বিমান অবতরণের পর নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মেহর্টেন্সকে জিম্মি করেছিল বিদ্রোহীরা। পরবর্তীতে গত সেপ্টেম্বরে তাকে মুক্ত করা হয়।
