ট্রাম্পের তেল আবিবের ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ‘ইরান তাদের শিক্ষা দেবে’: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র 'তেল আবিবে তার পোষ্যদের মুখ বন্ধ করতে' এবং ইরানকে সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে ইসরায়েলকে বিরত রাখতে বাধ্য।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সম্প্রতি এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন আরাগচি।
বুধবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। এই সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার 'পোষ্যদের' নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।'
গত সোমবার কাৎজের করা এক মন্তব্যের পর আরাগচি এই মন্তব্য করলেন। কাৎজ সেদিন বলেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি 'মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু'।
তিনি আরও দাবি করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। যদিও তিনি বলেন, কোনো চুক্তির মাধ্যমে যদি সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়, তাহলে সেটিই আরও ভালো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, জেরুজালেম এই চুক্তির পক্ষ নয়। তাদের অবস্থান হলো, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে, দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরুর আগে ইরানের দুটি সূত্র জানায়, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করেও এই অবস্থান বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়। তবে ইরানের দাবি, চুক্তির ভাষা অনুযায়ী কোন জাহাজ চলবে এবং কোন পথ ব্যবহার করবে—সেই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও এই নিয়ন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অন্য কোনো ইস্যুতে অগ্রসর হবে না ইরানি আলোচকরা।
যদি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হয়, তাহলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় শুরু করতে পারে ইরান। তবে কী পরিমাণ ফি নেওয়া হবে বা কীভাবে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি তেহরান।
