আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক
আবারও ট্রিলিয়নিয়ার বনে গেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার (২৯ জুন) তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং টেসলার শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়ায় একদিনেই তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়।
এর আগে, গত ১২ জুন মাস্কের মহাকাশযান ও এআই কোম্পানি স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা পান। গত সপ্তাহে স্পেসএক্সের শেয়ারদরে বড় পতন এবং টেসলায় তার মালিকানাধীন শেয়ারের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
তবে, সোমবার বিকেলের মধ্যেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এতে তার মোট সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে মাস্কের কাছে স্পেসএক্সের ৪৮০ কোটি শেয়ার এবং ৮ দশমিক ৪০ ডলার মূল্যের আরও ৩৫০ মিলিয়ন স্টক অপশন রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, তার কাছে টেসলার প্রায় ৭০ কোটি শেয়ার রয়েছে।
সম্পদের দৌড়ে মাস্ক এখনো বিশ্বের অন্য সবার চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ (২৮৮.৭ বিলিয়ন ডলার) এবং সের্গেই ব্রিনের (২৬৬.৩ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি। যদিও মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ গত ১৬ জুনের ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ডের চেয়ে কিছুটা কম।
২০২৪ সালের মে মাস থেকে টানা বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনটি ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ৪০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি একে একে ৫০০, ৬০০, ৭০০, ৮০০ এবং ৯০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য মতে, বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশ রয়েছে যাদের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মানে হলো, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতিই ইলন মাস্কের সম্পদের চেয়ে ছোট।
এর মধ্যে রয়েছে— তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার) এবং সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার)। এমনকি মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিও (৪৮০ বিলিয়ন ডলার) তার সম্পদের পরিমাণের চেয়ে ছোট।
