ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন: ইরান
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সংঘাত থামাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে 'আরও কয়েক দিন' লাগতে পারে।
মঙ্গলবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই হামলা প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা নাজুক যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দুপক্ষই এমন একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিল, যা যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার জাহাজ চলাচল শুরু করতে সহায়তা করতে পারে। একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়ার কথাও ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল মাইন পাতার চেষ্টা করা নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ভারতের জয়পুরে মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, 'যেভাবেই হোক না কেন' হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ফলে জ্বালানি, সার ও খাদ্যের দামও বেড়েছে।
আগে যেখানে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত, এখন সেখানে অল্প কিছু সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৯১ ডলারে পৌঁছায়।
'সময়কে আর পেছনে নেওয়া যাবে না'
এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের রক্ষার জন্য তারা নতুন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তাদের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং আরেকটি ড্রোন ও একটি যুদ্ধবিমানের দিকে গুলি ছুড়েছে, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
এদিকে হজ উপলক্ষে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, "সময়কে আর পেছনে নেওয়া যাবে না। এই অঞ্চলের দেশ ও ভূখণ্ড আর মার্কিন ঘাঁটির ঢাল হয়ে থাকবে না।"
তিনি আরও বলেন, "'আমেরিকার মৃত্যু' ও 'ইসরায়েলের মৃত্যু'—এই স্লোগান এখন ইসলামী জাতি ও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের স্লোগান হয়ে উঠবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও এই ধরনের স্লোগান উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা "ভালোভাবেই এগোচ্ছে"। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দেন। তার ভাষায়, "এটি হয় সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।"
