ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে বড় কর ছাড়, পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়িতে বাড়ছে শুল্ক
পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) এবং চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর নির্দিষ্ট শ্রেণির গাড়ি আমদানিতে করভার বাড়ানোর প্রস্তাবনা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ বাজেট উত্থাপন বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমছে
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সমুদয় শুল্ক-কর এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সমুদয় শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড়
নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরণভেদে হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর ফলে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২০০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চার্জার ও চার্জিং স্টেশনে শূন্য কর
ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক স্থাপনকে বাজেটে জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার এবং চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ককর বৃদ্ধি
পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে মধ্যম সারির ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানিকৃত গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
