শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের ‘সম্ভাবনা’ রয়েছে: ইরান
ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার 'সম্ভাবনা' রয়েছে এবং তারা 'আমেরিকানদের যেকোনো হঠকারিতা বা বোকামির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত'।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ জাফর আসাদি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া 'সম্ভব'।
তিনি বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র কোনো অঙ্গিকার বা চুক্তির প্রতি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, সেটি ইতোমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে।'
'শত্রুর জন্য এমন চমকপ্রদ পদক্ষেপ পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কল্পনার বাইরে', বলেন আসাদি।
এদিকে ইরানের সরকারি গণমাধ্যমগুলোর খবরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনী এই অঞ্চলকে ইরানিদের জীবিকা, নিরাপত্তা, শক্তি ও সমৃদ্ধির উৎসে পরিণত করবে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজরিা ও সিএনএন
ইয়েমেন উপকূল থেকে তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করেছে 'সশস্ত্র ব্যক্তিরা'
ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী (কোস্টগার্ড) জানিয়েছে, ইয়েমেন উপকূল থেকে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা।
বাহিনীটি জানিয়েছে, শাবওয়া প্রদেশের উপকূল থেকে এম/টি ইউরেকা নামের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তি। হামলাকারীরা জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সেটিকে এডেন উপসাগর হয়ে সোমালিয়া জলসীমার দিকে নিয়ে যায়।
এর আগে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছিল, মুকাল্লা বন্দর থেকে ৮৪ নটিক্যাল মাইল (১৫৫ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি 'বাল্ক ক্যারিয়ার' জাহাজ থেকে তাদের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে জানানো হয়, একটি 'সবুজ রঙের ছোট নৌকা' ও একটি মাছ ধরার ট্রলার ওই জাহাজের দিকে ধেয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন নৌবাহিনী 'জলদস্যুদের' মতো জাহাজ জব্দ করেছে: ট্রাম্প
ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ চলাকালীন মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ জব্দের অভিযানকে 'জলদস্যুতা'র সঙ্গে তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা (জাহাজের) ওপর নামলাম এবং জাহাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলাম। আমরা এর মালামাল ও তেল দখল করে নিয়েছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা।'
উপস্থিত জনতার উল্লাসের মধ্যে তিনি আরও বলেন, 'আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতোই কাজ করছি। আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো হলেও, আমরা কিন্তু কোনো তামাশা করছি না।'
পরমাণু আলোচনা স্থগিত রেখে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রেখে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একজন ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তেহরান বিশ্বাস করে যে পরমাণু আলোচনাকে পরবর্তী সময়ের জন্য তুলে রাখা একটি বড় ধরনের পরিবর্তন, যা মূলত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই কাঠামোর আওতায় জটিল পরমাণু ইস্যুকে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়।'
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে এই নতুন টাইমলাইনের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো আক্রমণ চালাবে না। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও তাদের অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিতে হবে।
ইরান যুদ্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন নাগরিকদের কাছে জবাব দিতে হবে: তেহরান
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের 'ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের' বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া মার্কিন জনগণের অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই।
বাগাই এই যুদ্ধকে একটি 'স্পষ্ট এবং উস্কানিবিহীন আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই 'অবৈধ যুদ্ধ' শুরু করা এবং এর ফলে ঘটা সমস্ত নৃশংসতার জন্য মার্কিন জনগণের উচিত তাদের সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের একটি শুনানির ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করে বাগাই এই দাবি জানান। ওই ভিডিওতে মার্কিন সিনেটর কার্স্টেন জিলিব্র্যান্ডকে যুদ্ধের সমালোচনা করে বলতে শোনা যায়, 'ইরান যে কোনোভাবে বা কোনো রূপে আমাদের দেশে তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণ করতে চেয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে ছিল না।'
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
বর্তমান পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ মুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পাকিস্তানের 'আন্তরিক প্রচেষ্টার' প্রশংসা করেছেন।
ফোনালাপে ইসহাক দার কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের 'নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার' কথা তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরায় সচল করতে বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
'বিশ্বগ্রাসী' আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
পারস্য উপসাগর থেকে যুক্তরাষ্ট্র চলে গেলেই কেবল এই অঞ্চলের দেশগুলোর 'শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি' নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ও আইন বিষয়ক মহাপরিচালক হোসেন নুশাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিদেশিরা সব সময়ই এই কৌশলগত সামুদ্রিক অঞ্চলের ওপর 'লোভী দৃষ্টি' দিয়ে এসেছে। তিনি এই জলসীমাকে 'ইরানের পরিচয় ও সভ্যতার অংশ' হিসেবে অভিহিত করেন।
পারস্য উপসাগর থেকে পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে ইরানের 'বীরত্ব ও আত্মত্যাগের' দীর্ঘ ইতিহাসের কথা স্মরণ করে নুশাবাদি বলেন, তার দেশ এখন 'বিশ্বগ্রাসী আমেরিকার' সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ইরানকে টোল দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা; হরমুজ প্রণালিতে নতুন 'নৌ-জোট' গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলের ওপর এখনো অটল রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, তেহরানকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করার এই নীতি শেষ পর্যন্ত সফল হবে।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধের কারণে ইরানিরা প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার হারাচ্ছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তেহরান তাঁর শর্ত মেনে নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হবে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য যারা ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল দেবে, সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একে একটি বড় ধরনের সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর 'মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট' নামে একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এই পরিকল্পনার অধীনে একটি নৌ-জোট গঠন করা হবে। যেসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ওই জলপথ ব্যবহার করতে রাজি হবে, কেবল সেগুলাই চলাচলের অনুমতি পাবে। এসব জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে এবং তাদের ইরানকে কোনো টোল দিতে হবে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে 'মিথ্যা' বলছে পেন্টাগন, প্রকৃত খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির হিসাব অনেক কম করে দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুদ্ধের খরচ নিয়ে পেন্টাগন 'মিথ্যা' বলছে। তার দাবি, এই যুদ্ধের ব্যয় ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, 'নেতানিয়াহুর জুয়ার কারণে এ পর্যন্ত আমেরিকার সরাসরি ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা দাবি করা হিসাবের চার গুণ।'
আরাগচি আরও বলেন, মার্কিন করদাতাদের ওপর এই যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব আরও ভয়াবহ। তার মতে, 'প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের মাসিক খরচ এতে ৫০০ ডলার বেড়েছে এবং তা দ্রুত গতিতে আরও বাড়ছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-ঘেঁষা নীতির সমালোচনা করে আরাগচি লেখেন, 'ইসরায়েল ফার্স্ট মানেই সব সময় 'আমেরিকা লাস্ট'।'
এর আগে গত বুধবার পেন্টাগনের কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কংগ্রেসের শুনানিতে জানিয়েছিলেন যে, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'তে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত
ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ইমেজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর উচ্চপদস্থ সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত কংগ্রেসের একজন সহকারি জানিয়েছেন, এই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানের একটি বড় অংশ।
তিনি বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন রয়েছে। কোথাও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পুরো স্থাপনাই বন্ধ করে দিতে হতে পারে, আবার কোথাও নেতারা বলছেন কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সেগুলো মেরামত করা উচিত।'
পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত আরেক মার্কিন সূত্র বলেন, 'এমন কিছু আমি আগে কখনও দেখিনি।'
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল উন্নত রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
কংগ্রেসের ওই সহকারী বলেন, 'তারা খুব হিসাব করে সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী লক্ষ্যগুলোকে বেছে নিয়েছে। আমাদের রাডার ব্যবস্থাই এই অঞ্চলে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সীমিত সম্পদ।'
এদিকে বুধবার পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস 'জে' হার্স্ট তৃতীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরান যুদ্ধের খরচ এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রকৃত ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
যুক্তরাষ্ট্রের যে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখতে দিয়েছে, তারাই ইরানের হামলার সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে। তারা নীরবে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেছে—যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করায়।
সৌদি আরবের এক সূত্র সিএনএনকে বলেন, 'এই যুদ্ধ আমাদের দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট একমাত্র ভরসা হতে পারে না এবং এটি অজেয়ও নয়।'
তথ্যসূত্র: সিএনএন
'ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করাই হয়তো ভালো হবে': ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া কোনো প্রস্তাবই পছন্দ হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তেহরানের দেওয়া শর্তগুলোতে তিনি যে মোটেও 'সন্তুষ্ট নন', তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এমনকি কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানোটাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই; তাই দেখা যাক কী হয়।'
পরবর্তীতে পাম বিচের 'ফোরাম ক্লাব'-এর এক অনুষ্ঠানে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে নিজের অনীহা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'ইরানিরা ফোন করে একটি ভালো চুক্তির চেষ্টা করছে এবং আমি তা নিয়েই খুব ব্যস্ত। কিন্তু আমরা তেমনটা হতে দেব না। তাদের একটি খারাপ চুক্তিই করতে হবে। সম্ভবত কোনো চুক্তি না করাই আমাদের জন্য আরও ভালো হবে।'
চুক্তি নিয়ে আলোচনার ডামাডোলের মাঝেই শুক্রবার হাউস স্পিকার মাইক জনসনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'শত্রুতা'র অবসান ঘটেছে।
প্রেসিডেন্টের এই বার্তার মাধ্যমে মূলত একটি আইনি সময়সীমা বা ডেডলাইন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবারই ছিল সেই ৬০ দিনের সময়সীমা, যার পর ইরানের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যেতে তার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। সংঘাত শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প কার্যত সেই আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে গেলেন।
চিঠিতে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, 'ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের সাফল্য এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার অব্যাহত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ইরানের হুমকি এখনও তাৎপর্যপূর্ণ।'
এর আগে দিনের শুরুতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তিনি 'খুশি নন'। তখন তিনি তার সামনে থাকা দুটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করে কড়া ভাষায় বলেন—হয় তাদের 'উড়িয়ে দেওয়া, নয়তো একটি চুক্তি করা।'
তথ্যসূত্র: ইনডিপেন্ডেন্ট
দেশীয় উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে খামেনির আহ্বান, 'অর্থনৈতিক জিহাদে'র ডাক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি 'অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জিহাদ' পালনের ডাক দেন।
খামেনি বলেন, ইরান সামরিকভাবে তার শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং এখন অর্থনৈতিক ফ্রন্টেও বিরোধীদের 'হতাশ ও পরাজিত' করতে হবে। তিনি দেশীয় পণ্য উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকদের প্রতি যথাসম্ভব কর্মী ছাঁটাই এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর উচিত তাদের কর্মীদের ধরে রাখার চেষ্টা করা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দেশের একটি প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ বদলালে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান: আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের 'সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি' এবং 'হুমকিমূলক বক্তব্য' পরিবর্তন করে, তবে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে ইরান এখনো আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আঞ্চলিক সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনার পর নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি লেখেন, 'আমেরিকান পক্ষ যদি তাদের সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড পরিবর্তন করে, তবে ইরান কূটনীতি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।'
একদিকে আলোচনার সুযোগ রাখার কথা বললেও অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন আরাগচি। তিনি জানান, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ: ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দিল সেন্টকম
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করার চেষ্টাকারী ৪৫টি জাহাজকে আটকে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে এসব বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে অথবা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে সেন্টকম বলে, "এখন পর্যন্ত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবরোধ মেনে চলা নিশ্চিত করতে ফিরে যেতে বা পুনরায় বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
তথ্যসূত্র: ডন
সর্বশেষ প্রস্তাবেও আমেরিকার 'পছন্দমতো' চুক্তি নিয়ে আসেনি ইরান, 'অসন্তুষ্ট' ট্রাম্প
যুদ্ধ থামাতে ইরানের পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন নন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আমেরিকা নিজেদের আচরণ ও অবস্থান বদলালে তবেই কূটনীতির রাস্তায় হাঁটবে তেহরান।
যুদ্ধ শেষ করার খসড়া প্রস্তাবে আমেরিকার আনা সাম্প্রতিক সংশোধনীগুলোর জবাব দিয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবে তিনি 'সন্তুষ্ট' হতে পারছেন না।
'ওরা (ইরান) চুক্তি করতে চায় ঠিকই, কিন্তু আমি এই প্রস্তাবে খুশি হতে পারছি না,' হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, 'ওরা এমন কিছু দাবি করছে যা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।' তবে ফোনে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'আমেরিকা ঠিক যেমনটা চাইছে, তেমন চুক্তি নিয়ে আসছে না ইরান। তবে আমরা গোটা বিষয়টি যথাযথভাবেই সম্পন্ন করব।'
শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা তড়িঘড়ি এই সংঘাত মেটাতে চায় না। এখন দায়সারাভাবে চুক্তির চেষ্টা করলে আগামী তিন বছরের মধ্যে একই সমস্যা ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
'আমরা এখনই লড়াই ছেড়ে বেরিয়ে আসব না। কারণ, আমরা চাই না বছর তিনেক পরে ফের একই সংকটের মুখে পড়তে হোক,' বলেন তিনি।
এদিকে ইরানের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির পথ এখনও পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়নি। যদিও পারস্য উপসাগরে ইরানের ওপর কড়া নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে আমেরিকা। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিকল্পও খতিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন।
একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকার কাছে নিজেদের বক্তব্য পাঠিয়েছে ইরান।
শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'মাত্রই ইরানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তবে আমি খুব একটা খুশি নই।'
গত উইকএন্ডেই হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য আমেরিকাকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। সেই প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছিল।
সূত্রেমতে, গত সোমবার হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের ওই প্রস্তাবে একগুচ্ছ সংশোধনী পাঠান। আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল পরমাণু ইস্যুটিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা।
সূত্রটি জানায়, একটি সংশোধনীতে শর্ত দেওয়া হয়েছে, আলোচনা চলাকালীন ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাতে পারবে না। এমনকি ওই স্থাপনাগুলোতে নতুন করে কাজও শুরু করা যাবে না।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত 'অসংলগ্ন'। তার মতে, দেশটির সরকারের অন্দরেই নানা গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের মতাদর্শ ভিন্ন। ওভাল অফিসে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'ওরা কিছুটা এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।'
এর এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'ওরা (ইরান) চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কিন্তু ওদের আসল নেতা কে, সেটাই কেউ নিশ্চিত ভাবে জানে না।'
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস; রয়টার্স
