যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাড়ার জেরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়াল
জর্ডান ও ইরাকে গত সপ্তাহের সংঘাতে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গত রবিবার রাতে মার্কিন শেয়ারবাজার খোলার প্রাক্কালে স্টক ফিউচারগুলোর মানে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি যুদ্ধবিমান পাঠাতে শুরু করায় সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেল ও শেয়ারবাজার উভয় খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ যুদ্ধে কেবল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলই মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়নি, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোও এখন নতুন করে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ইরান কুয়েতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল, বিদ্যুৎ এবং পানি শোধন কেন্দ্রে আঘাত হেনে ক্ষতিসাধন করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের হামলার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও অন্যান্য জরুরি অবকাঠামোতে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে।
জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত নাজুক এক সময়ে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার সময় বৈশ্বিক তেলের যে মজুত ছিল, বর্তমানে তার চেয়েও কম মজুত রয়েছে। এর ওপর ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে ডিজেলের মতো পরিবহন জ্বালানির সরবরাহ অনেক কমে গেছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' ক্রুডও সমপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখছেন, যা ভবিষ্যতে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ঠিক কতটি জাহাজ যাতায়াত করছে; চীন ঠিক কী পরিমাণ তেল কিনছে; এবং বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অবকাঠামোতে ইউক্রেন আর কতখানি ক্ষতিসাধন করতে পারে।
তেলের দাম বাড়লেও শেয়ারবাজার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ইনডেক্সের ফিউচারগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সোমবার মার্কিন বাজার পুনরায় খোলার সময় শেয়ারের দামে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আমেরিকান মোটর অ্যাসোসিয়েশন 'এএএ'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের (জ্বালানি তেল) দাম সামান্য বেড়ে জাতীয় গড় প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ গাড়িচালকদের জন্য জ্বালানি কেনার খরচ প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্যাসোলিনের দাম সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি বা তাৎক্ষণিকভাবে ওঠানামা করে না, বরং ক্রুড তেলের দামের পরিবর্তনগুলো বাজারে প্রতিফলিত হতে কয়েক দিন সময় লাগে। পারস্য উপসাগর এবং রাশিয়ার অনেক তেল শোধনাগার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
রবিবার ডিজেলের গড় দামও সামান্য বেড়ে প্রতি গ্যালন ৫ দশমিক ১০ (৫.১০) ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি।
