ইরানের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদন কারখানায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা; যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও সালমানের ফোনালাপ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২ এপ্রিল) ৩৪তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোই ছিল তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও সালমানের ফোনালাপ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গতকাল এক ফোনালাপে দুই নেতা এই আহ্বান জানান।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'উভয় পক্ষই দ্রুত শত্রুতা বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।'
এই ফোনালাপটি এমন এক সময়ে হলো যখন ইরান নির্মিত ড্রোনের হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের সঙ্গে একটি বিমান প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবিলা করছে এবং রাশিয়া ইউক্রেনে হামলায় যেসব ইরানি 'শাহেদ' ড্রোন ব্যবহার করছে, সৌদি আরবও একই ধরনের ড্রোনের হুমকির মুখে রয়েছে।
ইউক্রেন তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিয়েভের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ড্রোন ভূপাতিত করতে সৌদি আরব যে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার বদলে ইউক্রেন তাদের তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের 'ড্রোন ইন্টারসেপ্টর' সরবরাহ করতে আগ্রহী।
এছাড়া, ফোনালাপে পুতিন ও সৌদি যুবরাজ বর্তমান সংকটের কারণে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইরানে অভিযানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারে মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান অস্ট্রিয়ার
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের করা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় 'নিরপেক্ষতা আইন' বজায় রাখতেই ওয়াশিংটনকে এই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অস্ট্রিয়ার পাবলিক ব্রডকাস্টার ওআরএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আকাশপথ ব্যবহারের জন্য 'একাধিকবার' অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কতবার এই অনুরোধ করা হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র আরও জানান, এ ধরনের প্রতিটি অনুরোধ অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আলাদাভাবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
নানা 'প্রতিবন্ধকতা' সত্ত্বেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এবং দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু 'প্রতিবন্ধকতা' রয়েছে বলেও স্বীকার করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই মন্তব্য করেন। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বাধার কথা উল্লেখ করেননি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পাকিস্তান বর্তমানে একটি বহুজাতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তাহির আন্দ্রাবি বলেন, 'চ্যালেঞ্জ এবং বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তান আলোচনা ও মধ্যস্থতার পরিবেশ তৈরিতে তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, ইসলামাবাদ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি 'অর্থপূর্ণ আলোচনার' পরিস্থিতি তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
মুখপাত্রের দাবি, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষেরই যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।
ইরানের শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা
ইরানের অন্যতম প্রধান এবং প্রাচীনতম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ত্রাণ সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে হামলার পরিণাম নিয়ে সতর্ক করেছিল।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান' এই হামলার শিকার হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম 'শতবর্ষী স্তম্ভ' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি 'আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা'।
শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের প্রথম এবং প্রাচীনতম জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এই অঞ্চলে টিকা উদ্ভাবন এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ গবেষণায় এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিল।
এদিকে, এই হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন-এর পক্ষ থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'জরুরি অগ্রাধিকার': কাজা কালাস
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বৈঠকের সারসংক্ষেপ জানিয়ে কাজা কালাস লেখেন, 'বেসামরিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং অন্যান্য হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এই প্রণালীতে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এখন আমাদের জরুরি অগ্রাধিকার।'
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অচল হয়ে পড়েছে ইরানের দুই বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদন কারখানা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের প্রধান দুটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—আহভাজ শহরের 'খুজেস্তান স্টিল কোম্পানি' এবং কেন্দ্রীয় ইসফাহান প্রদেশের 'মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি'।
মোবারকেহ স্টিল কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'তীব্র ও ব্যাপক হামলার কারণে তাদের কারখানার উৎপাদন লাইনগুলো বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।'
অন্যদিকে, খুজেস্তান স্টিল কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপ-প্রধান মেহরান পাকবিন জানিয়েছেন, হামলার ফলে কারখানার যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ইরানের সংবাদ মাধ্যম 'মিজান অনলাইন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, আগামী অন্তত ছয় মাসের আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন না।
যুদ্ধ দিয়ে ইরান পরমাণু সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়: মাঁখো
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর চলমান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো। দক্ষিণ কোরিয়া সফররত মাঁখো জানান, যুদ্ধ বা সামরিক হামলা চালিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা দেশটির পরমাণু কর্মসূচির কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না। এর পরিবর্তে তিনি কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানান।
মাঁখো সতর্ক করে বলেন, 'যদি কূটনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো না থাকে, তবে পরিস্থিতি আগামী কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে আবারও খারাপ হতে পারে।'
এছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাবকে 'অবাস্তব' বলে উড়িয়ে দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, 'এ ধরনের অভিযান যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারীরা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উপকূলীয় হুমকির মুখে পড়বে। কারণ তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ শক্তিশালী সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা রয়েছে।'
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বাদে সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই এমন সব জাহাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালি' খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
টিভি চ্যানেল 'নিউজ-রুম আফ্রিকা'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাগাই বলেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত জাহাজগুলো "আগ্রাসনকারী" পক্ষের [যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল] মালিকানাধীন বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, ততক্ষণ সেগুলো এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।'
তবে এক্ষেত্রে 'ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়' করার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
ইরান সংঘাত নিরসনে সহায়তার প্রস্তাব রাশিয়ার
ইরান কেন্দ্রিক চলমান সংঘাত নিরসনে রাশিয়া অবদান রাখতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
সাংবাদিকদের পেসকভ বলেন, 'প্রেসিডেন্ট [পুতিন] নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। যদি আমাদের সহায়তার কোনো প্রয়োজন পড়ে, তবে বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিকে যত দ্রুত সম্ভব শান্তিপূর্ণ ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমরা অবশ্যই সব ধরনের অবদান রাখতে প্রস্তুত।'
ইরানে তীব্র আঘাত হানার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের; পাল্টা লড়াইয়ের অঙ্গীকার তেহরানের
ইরানে তীব্র আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে 'প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে' নেওয়ার হুমকি দেন।
বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
একইদিনে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার পরই কেবল ওই অনুরোধ বিবেচনা করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত 'আমরা ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছি' এবং 'প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিচ্ছি!'
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে তেহরান পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, 'যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতির এই দুষ্টচক্র সহ্য করবে না তেহরান।'
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শতবর্ষ পুরোনো একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র 'গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত' হয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে কোনো বৈরিতা নেই তেহরানের।
ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
ইরানের শিরাজ শহরের আকাশে একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফার্স প্রদেশের আইআরজিসি-র একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি 'হার্মিস ৯০০' মডেলের ড্রোনটি শিরাজ শহরের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে দেয়।
ইরান 'যুদ্ধ, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র সহ্য করবে না': পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি জানিয়েছেন, যুদ্ধ, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র ইরান সহ্য করবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রাইমটাইম ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন ইরানকে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে হবে, অন্যথায় দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'আমরা যুদ্ধ, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির এই দুষ্টচক্র এবং এর পুনরাবৃত্তি আর সহ্য করব না।' চলমান এই সংঘাতকে তিনি কেবল ইরানের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরের দেশগুলোর জন্যও 'বিপর্যয়কর' হিসেবে বর্ণনা করেন।
বাঘাই জানান, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলবে, ইরান ততদিন পাল্টা লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে তেহরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের শত্রু হিসেবে দেখে না।
ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা জানাল মার্কিন মুসলিম সংগঠন
ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। সংগঠনটি এই মন্তব্যকে 'মুসলিম-বিদ্বেষী, বর্ণবাদী এবং অমানবিক' বলে অভিহিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, 'বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ।' একই সঙ্গে তারা এই যুদ্ধ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সিএআইআর আরও বলেছে, 'ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে আমাদের দেশকে একটি অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধে টেনে আনার সুযোগ করে দিয়েছে, যা মার্কিন জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়েছে।'
আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে একটি 'ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন' পাস করা, যুদ্ধের নতুন তহবিল বন্ধ করা এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার জন্য নেতাদের প্রতি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ বৈশ্বিক তেলবাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে। ফলে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম।
ভাষণ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলার। ভাষণ চলাকালে দামে ওঠানামা দেখা গেলেও বর্তমানে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি, ইরানে আরও দুই–তিন সপ্তাহ তীব্র হামলা চলবে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখন প্রায় 'শেষের পথে'। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ থাকতে পারে এবং এই সময়ে ইরানে 'অত্যন্ত তীব্র হামলা' হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, 'আজ রাতে আমি সন্তুষ্টির সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো প্রায় পূর্ণতার পথে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সবই করেছি। তাদের নৌবাহিনী শেষ। তাদের বিমানবাহিনীও শেষ। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার প্রায় ফুরিয়ে গেছে বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে, এই পদক্ষেপগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে, সন্ত্রাসী মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করার তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেবে এবং তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতাও নষ্ট করবে।'
একই সঙ্গে ভাষণে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, 'আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত তীব্র আঘাত হানব। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তাদের থাকার কথা।'
ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে আমিরাত, খলিফা ইকোনমিক জোনে ক্ষয়ক্ষতি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'বর্তমানে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে'।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, আকাশে যে শব্দ শোনা যাচ্ছে তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ফল।
আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার পর খলিফা ইকোনমিক জোন এলাকার আশপাশে একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রতিহত করার ঘটনায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইসরায়েলে ফের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণ শেষ করার পরপরই ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা শনাক্ত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এর আগে ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে ভাষণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, 'হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।'
ইরানে আর কী অর্জন করা বাকি তা 'পরিষ্কার নয়': অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, অস্ট্রেলিয়া সেই লক্ষ্যকে সমর্থন করে। তবে বর্তমানে এই যুদ্ধে আর কী অর্জন করা বাকি বা এর শেষ কোথায়, তা এখন অস্পষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঠিক একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আলবানিজ বলেন, 'এই সংঘাত শুরু করার আগে অস্ট্রেলিয়ার সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি খুব স্পষ্টভাবে বলেছি যে আমরা উত্তেজনা হ্রাস দেখতে চাই। এই সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আমি আরও স্বচ্ছতা এবং স্বীকৃতি চাই।'
আলবানিজের এই মন্তব্য তার আগের দিনের এক বার্তারই ধারাবাহিকতা। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি অস্ট্রেলীয়দের সতর্ক করে বলেছিলেন যে, 'সামনের মাসগুলো খুব একটা সহজ নাও হতে পারে।' তিনি উল্লেখ করেন, 'অস্ট্রেলিয়া এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সকল অস্ট্রেলীয়কে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে।'
