৭০ বছর পর প্রথম এভারেস্ট জয়ী দলের ব্যবহৃত 'বিফ ড্রিপিং' টিন নিলামে বিক্রি
মাউন্ট এভারেস্টের প্রথম সফল অভিযানে নিয়ে যাওয়া এক টিন 'বিফ ড্রিপিং' (রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরুর চর্বি) নিলামে বিক্রি হয়েছে।
'কলোনিয়াল বিফ ড্রিপিং' নামের এই টিনটি ১৯৫৩ সালের সেই ঐতিহাসিক অভিযানে নিয়ে গিয়েছিলেন এডমুন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে। তারাই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছানোর প্রথম নিশ্চিত অভিযাত্রী হিসেবে স্বীকৃত।
৭০ বছর পুরোনো এই খাবারের টিনটি, সঙ্গে ই এম এলিয়টের একটি চিঠিসহ, একসঙ্গে বিক্রি হয় ৫০০ পাউন্ডে। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, এটি ব্রিটিশ পর্বতারোহী মাইক ওয়েস্টম্যাকটের বাড়ি থেকে এসেছে। তিনি টর্কি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ওই অভিযানের একজন সদস্যও ছিলেন। নিলামটি অনুষ্ঠিত হয় এক্সেটারের বেয়ার্নস হ্যাম্পটন অকশনিয়ার্সে।
নিলাম হাউসের মেরিটাইম রিটায়ারমেন্ট স্পোর্টিং বিভাগের প্রধান ব্রায়ান গুডসন-ব্ল্যাঙ্কস বলেন, এই বস্তুটির একটি 'অনন্য ইতিহাস' রয়েছে।
গুডসন-ব্ল্যাঙ্কস জানান, বিশ্বজুড়ে এমন অনেক সংগ্রাহক আছেন যারা সুমেরু, কুমেরু এবং বিশেষ করে মাউন্ট এভারেস্ট সংক্রান্ত অভিযানের এই ধরণের স্মারকগুলো সংগ্রহ করতে পছন্দ করেন।
নিলাম হাউসটি জানায়, ওয়েস্টম্যাকট এবং তার শেরপা দল পাহাড়ের বিভিন্ন ক্যাম্পে রসদ সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করেছিলেন। ওয়েস্টম্যাকট নিজেও পরবর্তীতে একজন সফল পর্বতারোহী হিসেবে পরিচিতি পান এবং ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে 'দ্য ক্লাইম্বারস ক্লাব'-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
গুডসন-ব্ল্যাঙ্কস বলেন, 'ভাবুন তো, বিভিন্ন পর্যায়ে ক্যাম্পগুলোতে রসদ সরবরাহ বজায় রাখতে তাদের কতগুলো প্যালেট ভর্তি এই ধরণের ক্যান উপরে এবং নিচে বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয় আপনি যদি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় থাকেন, তবে একটি জিনিস দিয়ে নিশ্চয়ই আপনি উদযাপন করবেন না, আর তা হলো গরুর চর্বি; আপনি বরং শ্যাম্পেন পছন্দ করবেন। কিন্তু সেই সময়ে তাদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োজনীয় একটি খাবার।'
এই নিলাম হাউসটি আকর্ষণীয় এবং অদ্ভুত সব খাবারের আইটেম বিক্রির জন্য এই প্রথম আলোচনায় আসেনি। এর আগের নিলামগুলোতে রানী ভিক্টোরিয়ার বিয়ের কেক ৭০০ পাউন্ডে এবং একটি 'অস্বাভাবিক' গোলাকার ডিম ৪৬০ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।
গুডসন-ব্ল্যাঙ্কস জানান, টিনটিতে কিছুটা 'মরিচা এবং কালচে দাগ' পড়েছিল এবং এর লেবেলটিও কিছুটা 'ক্ষয়' হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'যেকোনো জিনিস তার আদি অবস্থায় থাকলে সংগ্রাহকদের কাছে সবসময়ই তার অনেক চাহিদা থাকে। ৭০ বছর পার হয়ে এটি টিকে থাকা সত্যিই একটি চমৎকার বিষয়।'
